মানিকগঞ্জে নিখোঁজ শিশুর লাশ উদ্ধার, হত্যাকারী সন্দেহে পিটুনিতে নিহত ২ ভাই
Printed Edition
মানিকগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ৮ বছর বয়সী এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনার জেরে শিশুটিকে হত্যার অভিযোগে তিনজনকে গণপিটুনি দিয়েছে উত্তেজিত জনতা। এতে দুই ভাই নিহত হয়েছেন এবং একজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহত দুই ভাই হলেন- অটোচালক পান্নু মিয়া (৩৫) ও তার ভাই ফজলু (২৮)। আহত নাজমুল (২০) নিহত পান্নু মিয়ার ছেলে। নিহত শিশু আতিকা (৮) হাটিপাড়া ইউনিয়নের বনপারিল এলাকার দুদুল মিয়ার মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে আতিকা বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এলাকায় মাইকিং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালিয়েও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর রাত ১০টার দিকে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাক্ষেতে আতিকার হাত-পা বাঁধা নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটির কানের দুল ও গলার চেইন লুটের উদ্দেশ্যে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
শিশুটির লাশ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে স্থানীয়রা পান্নু মিয়া, তার ভাই ফজলু ও ছেলে নাজমুলকে ধরে গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই পান্নু ও ফজলুর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং গুরুতর আহত নাজমুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
মানিকগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ইকরাম হোসেন জানান, শিশু আতিকার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে একে হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, শিশু হত্যার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ করছে পুলিশ। পাশাপাশি আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে গণপিটুনির মাধ্যমে দু’জনকে হত্যার ঘটনায়ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়াতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।