নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার ওষুধ ও ভ্যাকসিন রিএজেন্ট

কেন্দ্রীয় ওষুধ পণ্যাগার ৩ দিন বিদ্যুৎহীন

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

তিন দিন ধরে সরকারের কেপিআই ঘোষিত প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রাল মেডিক্যাল স্টোর ডিপো (সিএমএসডি) বিদ্যুৎহীন। ফলে কোটি টাকার গুরুত্বপূর্ণ ও তাপ সংবেদনশীল ওষুধ, ভ্যাকসিন, রিএজেন্ট নষ্ট হয়ে গেছে অথবা নষ্ট হওয়ার পথে। সিএমএসডির কর্মকর্তারা আজ বৃহস্পতিবারের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়ে যাবেন বলে আশা করছেন। তবে কেউ কেউ বলছেন, এটা হয়তো বৃহস্পতিবারও সম্ভব হবে না। ফলে সিএমএসডির তাপ সংবেদনশীল গুরুত্বপূর্ণ অনেক ওষুধ ও ভ্যাকসিন নষ্ট হয়ে যাবে, ঠেকানো সম্ভব হবে না।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ের সাত রাস্তায় অবস্থিত সিএমএসডি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রথম সারির একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। গত তিন দিন থেকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বিদ্যুৎ না থাকায় বিঘিœত হচ্ছে দাফতরিক অন্যান্য কাজ-কর্ম। এ ছাড়া ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটির কেপিআই নিরাপত্তাব্যবস্থা। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর (এইচইডি) এবং ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসিএল) পৃথকভাবে পরিদর্শন করে সমস্যা চিহ্নিত করেছে বলে জানা গেছে। ডিপিডিসিএল জানিয়েছে, সিএমএসডিতে প্রধান সংযোগের আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিভ্রাট ঘটেছে। আবারো বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল করতে ২ থেকে ৩ দিন সময় লাগবে।

জানা গেছে, খুঁটি থেকে সিএমএসডির মেইন সুইচ পর্যন্ত ৭০ থেকে ৮০ ফুট লম্বা আরসিসি ঢালাই কেটে মাটির ২ থেকে ৩ ফুট গভীর করে নতুন করে আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবল স্থাপনের কাজ বিগত তিন দিনে শেষ করতে পারেনি। সিএমএসডিতে বিদ্যুতের বিকল্প উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন জেনারেটর থাকলেও তা খুবই ব্যয় বহুল বিধায় জেনারেটর দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এতে করে রাত্রিকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থাও প্রচণ্ড ঝুঁকিতে পড়েছে। এ ব্যাপারে সিএমএসডির উপপরিচালক ডা: তাওহীদ আহমেদ গতকাল সন্ধ্যায় নয়া দিগন্তকে জানান, বিদ্যুতের খুঁটি থেকে আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবলে সমস্যা হয়েছে। আমাদের ইঞ্জিনিয়ার বিভাগ জানিয়েছে, মোটা ক্যাবল দরকার পড়বে পুনঃসংযোগ দিতে। আশা করছি কাল নাগাদ (আজ বৃহস্পতিবার) সংযোগ পাবো আমরা।

গত তিন দিন থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় তাপ সংবেদনশীল ওষুধ, ভ্যাকসিন অথবা রিএজেন্টের কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে জানতে চাইলে ডা: তাওহীদ আহমেদ বলেন, তাপ সংবেদনশীল পণ্যগুলো আগেই আমাদের নতুন ভবনে স্থানান্তর করে দেয়া হয়েছে। সেখানে একটি সাব-স্টেশন আছে। সেই স্টেশনের বিদ্যুতের মাধ্যমে আমরা গুরুত্বপূর্ণ পণ্যগুলো রক্ষা করতে পেরেছি।

তবে সিএমএসডির অন্যান্য সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, তাপ সংবেদনশীল অনেক পণ্য নষ্ট হয়ে গেছে। এটা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। সিএমএসডিতে তাপ সংবেদনশীল অ্যান্টি রেট্রোভাইরাল ড্রাগ (এটা এইচআইভি/এইডসের ওষুধ), জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন ও ইমিউনোগ্লুবোলিন, জরুরি ওষুধ, ইনজেকশন, বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক থাকে সরকারের বিভিন্ন হাসপাতালে সরবরাহের জন্য।