ইরানে সরকার পরিবর্তনের বিরুদ্ধে চীনের সতর্কতা
Printed Edition
আলজাজিরা
চীন বলেছে, চলমান মার্কিন-ইসরাইলি হামলার মধ্যে ইরানে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করলে তা জনগণের সমর্থন পাবে না। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই গতকাল রোববার বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সরকার পরিবর্তনের পরিকল্পনা কোনো সমর্থন পাবে না। এই বক্তব্য আসে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে।
ওয়াং ই বলেন, চীনের প্রধান অবস্থান হলো ইরানসহ সব দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে, মধ্যপ্রাচ্যে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করা উচিত, সঙ্ঘাত বাড়লে তা পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ওয়াং বলেন, এই যুদ্ধ হওয়া উচিত ছিল না এবং এটি কারো জন্যই ভালো নয়। শক্তি কোনো সমাধান দেয় না; সশস্ত্র সঙ্ঘাত কেবল ঘৃণা বাড়ায় এবং নতুন সঙ্কট তৈরি করে।
তিনি আরো বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের মানুষেরাই অঞ্চলের প্রকৃত মালিক, তাই বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপ ছাড়া আঞ্চলিক দেশগুলোরই নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা উচিত। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সমন্বিত সংস্থা ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিলের একটি গোপন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বড় ধরনের মার্কিন সামরিক অভিযান হলেও ইরানের সামরিক ও ধর্মীয় ক্ষমতার কাঠামো সহজে ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা কম। এই তথ্য প্রকাশ করেছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট। প্রতিবেদনে বলা হয়, এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেই দাবি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে যে, তিনি ইরানের নেতৃত্ব সরিয়ে নতুন নেতৃত্ব বসাতে পারবেন।
চীন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিকে হত্যার ঘটনাও নিন্দা করেছে। একই সাথে ওয়াং বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে পশ্চিমা সমালোচনা থাকা সত্ত্বেও চীন-রাশিয়ার সম্পর্ক দৃঢ় ও অটুট থাকবে।
‘অবিলম্বে’ যুদ্ধবিরতির দাবি
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা এবং এর জবাবে তেহরানের পাল্টা আক্রমণের পর মধ্যপ্রাচ্যে সঙ্ঘাত ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধের দাবি জানিয়েছে চীন। রোববার চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এই দাবি জানান বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া নিউজ উল্লেখ করেছে। বেইজিংয়ে ‘টু সেশনস’-এর ফাঁকে পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক এক বার্ষিক সংবাদ সম্মেলনে ওয়াং ই বলেন, ‘এটি এমন একটি যুদ্ধ যা কখনোই হওয়া উচিত ছিল না এবং এতে কারো কোনো লাভ নেই।’
তিনি আরো বলেন, ‘শক্তি প্রয়োগ করে সমস্যার সমাধান করা যায় না এবং অস্ত্রের ব্যবহার কেবল নতুন ঘৃণার জন্ম দেবে।’ ফিলিস্তিন ইস্যু প্রসঙ্গে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানই এই সমস্যা সমাধানের একমাত্র ন্যায়সঙ্গত ও সর্বজনীন স্বীকৃত উপায়।
বহুমুখী সহাবস্থানের আহ্বান জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের উচিত পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মূলনীতি মেনে চলা। তিনি বলেন, ‘ঝড়-বৃষ্টির পরীক্ষা সত্ত্বেও চীন-রাশিয়া সম্পর্ক পাথরের মতো অবিচল রয়েছে।’ এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় সম্প্রদায় গড়ে তোলার রূপকল্প ও রূপরেখাকে বাস্তবে রূপ দিতে চীন কাজ করবে বলেও তিনি জানান। নতুন যুগে বিদেশে অবস্থানরত চীনা নাগরিক ও স্বার্থের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা চীনের পররাষ্ট্র সেবার নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা বলে তিনি উল্লেখ করেন।