সরকারি পদে থেকেই বিএনপির মনোনয়ন পেলেন ডা: রফিক

গাজীপুর-৩ আসন

Printed Edition
bangla-5
গাজীপুরে আওয়ামী লীগের এক অনুষ্ঠানে ডা: এস এম রফিকুল ইসলাম (ডান থেকে দ্বিতীয় পেছনে ) : ফাইল ফটো

গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি

গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য পদে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা: এস এম রফিকুল ইসলামকে কেন্দ্র করে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থেকেও তিনি সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন, যা প্রচলিত নির্বাচন আইনের সাথে সাংঘর্ষিক।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও সরকারি নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ডা: এস এম রফিকুল ইসলাম গেল বছর ২০২৫ সালের ১৭ জুন বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার পদে যোগদান করেন। তবে নিয়োগপত্রে তার নিয়োগ কার্যকর দেখানো হয়েছে ভূতাপেক্ষভাবে ২২ সেপ্টেম্বর ২০১১ সাল থেকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দফতর থেকে এ সংক্রান্ত চিঠি সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে বলেও নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, জনপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি সরকারি বা রাষ্ট্রপরিচালিত প্রতিষ্ঠানের লাভজনক পদে (অফিস অব প্রফিট) অধিষ্ঠিত থাকলে তিনি সেই পদে বহাল অবস্থায় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন না। মনোনয়নপত্র দাখিলের আগেই সংশ্লিষ্ট পদ থেকে কার্যকরভাবে পদত্যাগ করা বাধ্যতামূলক।

আইনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, কেবল পদত্যাগ করাই যথেষ্ট নয়; সরকারি চাকরি বা লাভজনক পদে থাকা ব্যক্তিকে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে হলে পদত্যাগের পর নির্দিষ্ট সময়, অনেক ক্ষেত্রে তিন বছর; অতিক্রান্ত হতে হয়।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ডা: এস এম রফিকুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার চাকরির বয়স বহু আগেই উত্তীর্ণ হয়েছে। ফলে এই বিধান আমার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।’ তবে তিনি ১৭ জুন বিএমইউতে অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার পদে যোগদানের বিষয়টি নিয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা না দিয়ে এড়িয়ে যান।বিশিষ্ট আইন বিশেষজ্ঞ মো: সারোয়ার আলম বলেন, জনপ্রতিনিধিত্ব আদেশে লাভজনক পদ সংক্রান্ত বিধান অত্যন্ত স্পষ্ট। তথ্য গোপন বা অস্পষ্ট রাখার সুযোগ নেই। শর্ত পূরণ না হলে প্রার্থিতা বাতিলের আইনি ভিত্তি তৈরি হয়। এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিষয়টি জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার প্রশ্নে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।