জেলে তালিকা প্রস্তুতে অনিয়ম প্রতিবন্ধীসহ শতাধিক প্রকৃত জেলে বঞ্চিত

Printed Edition

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় জেলেদের সহায়তা চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তালিকা তৈরিতে স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে প্রকৃত অসহায় ও প্রতিবন্ধী জেলেদের একটি বড় অংশ সহায়তা বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। আসন্ন পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে জেলে বাছাই প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব ও স্বজনপ্রীতি করা হয়েছে বলে দাবি বঞ্চিতদের।

জানা গেছে, সাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকায় জীবিকা সঙ্কটে পড়া জেলেদের সহায়তায় গত সোমবার কুয়াকাটা পৌরসভা এলাকায় চাল বিতরণ করা হয়। তবে বিতরণের আগেই জেলে তালিকা প্রস্তুতে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে, যা পরবর্তীতে বাস্তব প্রতিফলিত হয়েছে। তালিকাভুক্ত একাধিক জেলের অভিযোগ, প্রকৃত জেলেদের বাদ দিয়ে অন্য পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের জেলে পরিচয়ে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে প্রকৃত দরিদ্র, অসচ্ছল ও প্রতিবন্ধী জেলেরা সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। অনেকেই সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়েও চাল না পেয়ে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

পৌরসভা সূত্র জানায়, এলাকায় মোট এক হাজার ১০২ জন তালিকাভুক্ত কার্ডধারী জেলে থাকলেও বরাদ্দ আসে ৮৫০ জনের। প্রত্যেককে ৮০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ২৫২ জন জেলে এ সহায়তা থেকে বাদ পড়েন। তবে স্থানীয়দের দাবি, বাদ পড়াদের মধ্যে প্রকৃত দরিদ্র ও প্রতিবন্ধী জেলের সংখ্যাই বেশি।

প্রতিবন্ধী জেলে আবুল কাশেম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি ৩৫ বছর ধরে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করছি। কিন্তু এবার আমাকে কোনো চাল দেয়া হয়নি। পরিবার নিয়ে অনাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে। একই অভিযোগ করেন কচ্ছপখালী এলাকার জেলে রাসেল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মাছ ধরে সংসার চালালেও এবার তালিকা থেকে বাদ পড়েছি। অথচ অনেক অজেলে লোক চাল পেয়েছে। অভিযোগ অস্বীকার করে কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ইয়াসীন সাদেক বলেন, বরাদ্দ সীমিত থাকায় সবাইকে দেয়া সম্ভব হয়নি।