রাশিয়া ও চীনকে রুখতে মার্কিন পারমাণবিক নীতিতে বড় পরিবর্তন

Printed Edition

আরটি

রাশিয়া ও চীনের সাথে সম্ভাব্য আঞ্চলিক সঙ্ঘাত সামাল দিতে সামরিক পারমাণবিক কৌশলে বড় ধরনের সংস্কার আনছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন। আমেরিকান সংবাদমাধ্যম এনবিসির এক খবরে বলা হয়েছে, যুদ্ধক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সামনে আরো বেশি বাস্তবসম্মত ও কার্যকর সামরিক পছন্দ উন্মুক্ত করতেই এই গোপনীয় পর্যালোচনা চালানো হচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, এই পদক্ষেপে বৈশ্বিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরো মজবুত হবে।

পেন্টাগনের নীতিবিষয়ক প্রধান এলব্রিজ কোলবির সার্বিক তত্ত্বাবধানে তৈরিকৃত এই নতুন খসড়ায় দূরপাল্লার কৌশলগত পারমাণবিক সক্ষমতার একক নির্ভরতা কমিয়ে স্বল্পপাল্লার ট্যাকটিক্যাল অস্ত্রের ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। মস্কো বা বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে মিত্র কোনো রাষ্ট্রের ওপর সম্ভাব্য আঞ্চলিক হামলা নস্যাৎ করতেই এই নতুন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যকার ঐতিহাসিক ‘নিউ স্টার্ট’ পারমাণবিক চুক্তির ইতি টানার ছয় মাসের মাথায় পেন্টাগনের এমন প্রস্তুতি সামনে এলো। ২০১০ সালে সই হওয়া এবং পরবর্তীতে ২০২১ সালে বাড়ানো ওই দ্বিপক্ষীয় চুক্তিতে উভয় দেশের কৌশলগত যুদ্ধাস্ত্র ও দূরপাল্লার বাহন ব্যবস্থার নির্দিষ্ট সীমা বাঁধা ছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে চুক্তিটি আইনত বাতিল হলেও মস্কো বলেছিল যে আমেরিকা আগ বাড়িয়ে অস্ত্রের সংখ্যা না বাড়ালে রাশিয়াও অহেতুক সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি করবে না।

এর আগে রাশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান ভøাদিমির পুতিন চুক্তিটির শর্তাবলি আরো এক বছর বহাল রাখার অনুরোধ জানালেও ওয়াশিংটন এতে চীনকে যুক্ত করার শর্তারোপ করে। তবে প্রায় ৬০০ পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্রের অধিকারী বেইজিং সেই প্রস্তাব খারিজ করে সাফ জানিয়ে দেয়, বৃহৎ অস্ত্রাগারের মালিক রাষ্ট্রগুলোকেই প্রথমে অস্ত্র হ্রাসের দায়িত্ব বহন করতে হবে। পরবর্তীতে রাশিয়াও মার্কিন অক্ষের পারমাণবিক শক্তিধর দুই দেশ ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যকে আলোচনার টেবিলে আনার দাবি তোলে। অপরদিকে রাশিয়াও তাদের নিজস্ব সামরিক নীতিতে সংশোধন এনে বার্তা দিয়েছে যে, পারমাণবিক শক্তিধর দেশের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদদে কোনো অ-পারমাণবিক রাষ্ট্র আক্রমণ করলে তা সম্মিলিত হামলা হিসেবে ধরা হবে। পাশাপাশি নিজ দেশের অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজন মনে করলে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারে মস্কো কোনো দ্বিধা করবে না।