যেমন করে কাটছে সময় শবনমের
Printed Edition
বিনোদন প্রতিবেদক
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জীবন্ত কিংবদন্তি নায়িকা শবনম দীর্ঘ ২৫ বছরেরও বেশি সময় যাবত নতুন কোনো সিনেমায় নেই। সর্বশেষ ‘আম্মাজান’ সিনেমাটিতেই তিনি অভিনয় করেছিলেন। তবে এরপর বিগত ২৫ বছরে আর কোনো নতুন সিনেমাতে অভিনয়ে দেখা যায়নি এই নায়িকাকে। তবে তার কাছে যে সিনেমাতে অভিনয়ের প্রস্তাব যায়নি, এমনটাও নয়। গল্প, চরিত্রে কোনো মৌলিকত্ব খুঁজে পাননি বলেই তিনি আর অভিনয় করেননি। আর এখন আশি বছর বয়সে শারীরিক অবস্থা সব মিলিয়ে সবসময় ভালোও থাকে না, যে কারণে আর হয়তো সিনেমাতে অভিনয়ের সুযোগ হবে না এই জীবনে। কারণ বিভিন্ন সময়েই শারীরিক নানান সমস্যায় থাকেন তিনি। তাহলে এই সময়ে কেমন করে কাটছে জীবন্ত কিংবদন্তি এই নায়িকার? খোঁজ নিয়ে জানাগেল রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস একমাত্র ছেলে রনিকে নিয়েই সময় কেটে যাচ্ছে তার। বেশ কয়েক বছর আগে শবনমের স্বামী দেশের প্রখ্যাত সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক রবিন ঘোষ মারা যাওয়ার পর শবনম যেন অনেকটাই একা হয়ে যান। একমাত্র ছেলে রনিও মায়ের একাকীত্বের কথা ভেবেই আর দেশের বাইরে স্থায়ীভাবে বসবাসের কথা চিন্তাও করেননি। মা’কে ভালোবেসে মা’কে আগলে রাখতে তিনিও দেশেই থেকে যান। কেমন করে কাটে সময়, এমন প্রশ্নের জবাবে শবনম বলেন, ‘একটা সময় সিনেমাতে কাজ করার প্রস্তাব আসতো; কিন্তু গল্প এবং চরিত্রে মৌলিকত্ব খুঁজে পাইনি বলে করা হয়ে উঠেনি। আর কাজ করারই প্রস্তাব আসে না। একটা সময় আমার শুটিং হাউজ ছিল, সেটা নিয়েও আমার ব্যস্ততা ছিল। এখন সেটাও নেই। ঘরে বসেই সময় কাটে। আগে নিয়মিত পার্কে হাঁটতে যেতাম, গাজী ভাইয়ের (গাজী মাজহারুল আনোয়ার) সাথে দেখা হতো, গল্প করতাম, এখন তিনিও নেই। পরিচিত অনেককেই এখন আর পার্কেও হাঁটতে দেখি না। হয়তো অনেকেই চলে গেছেন। জানিওনা। যেহেতু শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ আমি, তাই ঘরেতেই এখন সময় কাটছে। পুরনো দিনের কথা মনে করে, টিভি দেখে, পত্রিকা পড়ে সময় কাটছে। কারো কারো সাথে ফোনে কথা বলে এবং মাঝে মধ্যে ফেসবুকেও সময় কাটে। আবার ফেসবুকের কিছু ঘটনার সত্য মিথ্যা যাচাই করে নিই। তবে এটা সত্যি অভিনয় যে আর করবোই না এমনো নয়। হয়তো কোনো এক সময় করতেও পারি। যদি সবমিলিয়ে আমার ভালোলাগে, শরীরও যদি সায় দেয়। সবই আসলে সময়ের ব্যাপার।’