সিইসির সাথে বৈঠক শেষে জামায়াত

একটা পাতানো নির্বাচন হলে দেশ অস্তিত্বসঙ্কটে পড়বে

Printed Edition
back-2
নির্বাচন কমিশনের সাথে ডা: সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো: তাহেরের নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামীর বৈঠক : নয়া দিগন্ত

বিশেষ সংবাদদাতা

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা: সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, আগামী নির্বাচন যদি একটা অ্যারেঞ্জড নির্বাচন হয়, তাহলে বাংলাদেশ অস্তিত্বসঙ্কটে পড়বে। দেশ আরো বেশি বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে চলে যাবে। একটি দল এই করতে গিয়ে তো নির্বাসনে আছে। সুতরাং আরেকটা দল যদি করে তারাও এক পর্যায়ে গিয়ে নির্বাসনে যাবে।

তিনি বলেন, এবার প্রার্থিতা বাছাই ক্ষেত্রে বড় ধরনের বৈষম্য আমরা দেখেছি। প্রশাসনের সিদ্ধান্তেরও ভিন্নতা দেখেছি। যেমন দ্বৈত নাগরিকত্বের ব্যাপারে একই ধরনের ঘটনায় কোন কোন জায়গায় নমিনেশনকে একসেপ্ট করা হয়েছে। কোন কোন জায়গায় এটাকে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে গতকাল সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনের সাথে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকে চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিব উপস্থিত ছিলেন। আর ছয় সদস্যের জামায়াতের প্রতিনিধিদলে ছিলেন, দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ ও অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। বৈঠক শেষে সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বৈঠকের আলোচনার বিষয়ে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেন।

সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, সিলেটের আব্দুল মালেক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী কায়কোবাদ প্রমুখ বিএনপির ক্যান্ডিডেট এরকম প্রায় ১২-১৩ জন আছেন। এর ভিতরে কয়েকজনের মনোনয়ন গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু একই ঘটনায় কুড়িগ্রামে আমাদের প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুব সালেহীর মনোনয়ন গ্রহণ করা হয়নি। তিনি বলেন, একজনকে অনেক প্রটেকশন দেয়া হচ্ছে। এটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। আর একটি দলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কার্ড দেয়া হচ্ছে, যা আচরণবিধি লঙ্ঘন।

ডা: সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে একটি মামলায় আমাদের তিনজন নেতাকে শাস্তি দেয়া হয়েছিল। এর মধ্যে দু’জনের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। একই ঘটনা একই কোর্ট একই মামলা কিন্তু আমাদের সিনিয়র লিডার হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তিনি বলেন, এক দেশে দুই রকম সিদ্ধান্ত, একই আইনের দু’রকম সিদ্ধান্ত, আমরা এটা জানিয়েছি এবং প্রতিবাদ করেছি।

মাঠ প্রশাসনের দলীয় দৃষ্টি

মাঠ প্রশাসনের ব্যাপারে ডা: তাহের বলেন, বিভিন্ন জায়গায় দলীয় ডিসি নিয়োগ করা হয়েছে। সেই দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তারা দেখেছে। তারা আইনকে দেখেনি। আমরা বলেছি এ ধরনের ডিসি-এসপি যারা আছেন তাদেরকে অপসারণ করতে হবে। নিরপেক্ষ ডিসি-এসপিকে সেখানে নিয়োগ করতে হবে। না-হলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই

নায়েবে আমির আবদুল্লাহ মো: তাহের বলেন, আমরা বলেছি যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এখন নেই। কোনো একটি দলকে ব্যাপক প্রচারণা দিচ্ছে। যেমন আজকে তথ্য উপদেষ্টাকে আমি ফোন করেছিলাম, যে আপনার টেলিভিশন তো এখনো মুসলমান হয়নি। কারণ এটি নিরপেক্ষ হয়নি। এ জন্য উনি অনেকটা স্বীকার করেছেন, অসহায়ত্বের কথা বলেছেন। আমরা ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য বলেছি। তিনি বলেন, আপনার দেখছেন যে প্রটেকশনের ব্যাপারে দেখা যায় কোন কোন ব্যক্তিকে অনেক প্রটেকশন দেয়া হচ্ছে। আবার একই ধরনের অন্য নেতাদেরকে সে রকম প্রটেকশন দেয়া হচ্ছে না। এখানে প্রটেকশন কাকে বেশি দিবেন, কম দেবেন এটি আমাদের ইস্যু নয়। আমাদের ইস্যু হচ্ছে এটি যেহেতু নির্বাচনের সময় একটা পাবলিক ইমপ্রেশনের প্রশ্ন আছে। সে জন্য নির্বাচনের বাইরে কোনো সময় হলে সেটি কোনো ইস্যু হতো না। কিন্তু এখন নির্বাচনের সময় এটি একটি ইস্যু। কারণ মানুষ দেখবে যে একজনকে অনেক প্রটোকল দেয়া হচ্ছে। তার প্রতি মানুষ একটি ইমপ্রেশন হতে পারে।

তিনি বলেন, এটি লেভেল প্লেয়িং ফিন্ড সাংঘাতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। একটা রং মেসেজ জনগণকে দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে। আমরা এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি যে মেজর পলিটিক্যাল পার্টিগুলোর সাথে আচরণ সরকারের প্রটেকশনের ব্যাপারে হোক প্রটোকলের ব্যাপার হোক ফ্যামিলির ব্যাপারে হোক সমান হতে হবে।

কার্ড দিয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন

জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, আচরণবিধির ব্যাপারে আমরা দৃষ্টিকর্ষণ করছি। একটি দলের পক্ষ থেকে ভিজিএফ কার্ড, কৃষি কার্ড প্রভৃতি বিতরণ করা হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়। ফ্যামিলি কার্ড দিচ্ছে। এটি পরিপূর্ণভাবে সুস্পষ্টভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন আমরা এটি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। ইলেকশন কমিশন আশ্বস্ত করেছেন যে, এ ধরনের ঘটনা হলে তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। সে জন্য আমরা অপেক্ষায় আছি। যদি না হয় তা হলে তো আরো ভিন্নমাত্রায় আমরা ইলেকশন কমিশনের দৃষ্টিটা দেখব।

সিসিটিভি স্থাপন করতে হবে

ডা: আবদুল্লাহ মো: তাহের বলেন, আমরা আরেকটা কথা বলেছি যে ফেয়ার ইলেকশনের জন্য সিসিটিভি থাকা দরকার। ওনারা নীতিগতভাবে এগ্রি করেছে এবং আমাদেরকে বলেছেন এটি তারা করবেন। অত্যন্ত ৯০ শতাংশ জায়গায় করবেন। যেখানে যেখানে ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই নেই সেগুলো ছাড়া তো আমরা ওনাদের কথায় আশ্বস্ত হতে চাচ্ছি। সিসি ক্যামেরা ওনারা চালু করবেন। কারণ আমরা চাচ্ছি যে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আজকে যে সমস্যা এই সমস্যার প্রধান কারণই হচ্ছে বিগত ৫৬ বছরে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের অভাব।

তিনি বলেন, যদি আরো একটা দল এ ধরনের নির্বাচন করে, তারাও নির্বাসনে যাবে। বাংলাদেশে তো আর কোনো রাজনৈতিক দল থাকবে না। এ জন্য সবাইকে আমি মনে করি বাস্তবতা গ্রহণ করে দেশের স্বার্থে যেটা করা দরকার সেটি করতে হবে। ইলেকশন কমিশনকে দৃঢ় হতে হবে। তিনি বলেন, আমরা দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি ওনারা গুড হিয়ারিং দিয়েছেন আশ্বাস দিয়েছেন। আমার বলেছি আশ্বাস নট এনাফ। ভালো কথা নট এনাফ। সব আমরা করব। দিস ইজ নট এনাফ। আপনাদেরকে মাঠে তা প্রমাণ করতে হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা কোনো ডিসি-এসপির তালিকা দেইনি। আমরা বলেছি এরকম ডিসি-এসপিদের ভেতরে বৈষম্যমূলক আচরণ হচ্ছে। আমরা আরো অবজারভ করব, অবজারভ করে আমরা তালিকা দেবো। তিনি বলেন, তারেক রহমানের সাথে আমাদের কোনো ফরমাল বৈঠক হয়নি। ম্যাডামের মৃত্যুর পর ওনাকে আমরা শোক জানাতে গিয়েছিলাম। আমাদের দলের প্রধান ছিলেন। আমারও যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমার শরীরটা ভালো ছিল না। সেখানে সাক্ষাৎ হয়েছে। আলোচনা হয়েছে। নেতৃবৃন্দ বলেছেন, নির্বাচনের পরও রায় যেই হোক আমরা সবাই একে অন্যকে মেনে নেব। তিনি বলেন, দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে আমাদের ভেতরে একটি আলোচনা থাকা উচিত। আমরা পারস্পরিক কোঅপারেশন ভিত্তি দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।