সুন্দরবনে নৌকাডুবি ও ঝড়ের কবলে পড়া ৭ মৌয়াল উদ্ধার

এখনো নিখোঁজ ২ জন

Printed Edition

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সুন্দরবনে মধু সংগ্রহে গিয়ে ঝড়ের কবলে পড়ে দিক হারিয়ে ভারতে ঢুকে পড়া পাঁচজন মৌয়ালের মধ্যে চারজনকে উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। এ ছাড়া সুন্দরবনে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ চারজনের মধ্যে তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার পশ্চিম সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের এসিএফ মো: মশিউর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।

ঝড়ের কবলে পড়ে দিক হারিয়ে ভারতে ঢুকে পড়াদের মধ্যে উদ্ধার হওয়া মৌয়ালরা হলেন- সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম বিড়ালাক্ষী গ্রামের ফেরদৌস মোল্লার ছেলে রাশিদুল ইসলাম (৩৬), একই গ্রামের লিয়াকত আলী মোল্লার ছেলে তৈবুর রহমান (২৩), বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের শুকুর আলী সরদার (৩৭) এবং কাশিমাড়ী ইউনিয়নের গোদাড়া গ্রামের আব্দুল লতিফ মোল্লা (৬৪)।

উদ্ধারকৃতরা জানান, তারা বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন থেকে পাস নিয়ে সুন্দরবনে মধু আহরণে যান। দাড়গাং এলাকার মুখ থেকে কাচিকাটার উদ্দেশে যাত্রাকালে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ে তাদের ট্রলারটি দিক হারিয়ে রায়মঙ্গল নদীর পশ্চিম পাড়ে ভেসে যায়, যা ভারতের অংশে পড়ে। পরদিন সকালে নদী শান্ত হলে তারা বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা করেন। এ সময় একজনসহ তাদের নৌযানটি ভারতীয় বন বিভাগের হাতে আটক হয় এবং বাকি চারজন বনাঞ্চলে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। পরে দুই দিন বনের ভেতরে হেঁটে তারা আবার একত্রিত হন। তবে, দেশে ফেরার চেষ্টা করেও ভারতীয় বন বিভাগের টহলের কারণে ব্যর্থ হন। শেষ পর্যন্ত একটি অস্থায়ী ভেলা তৈরি করে রাতের আঁধারে গাড়াল নদী পাড়ি দিয়ে ছায়া নদীর তীরে পৌঁছাতে সক্ষম হন। টানা তিনদিন না খেয়ে থাকায় মারাত্মক দুর্বল হয়ে পড়েন তারা। পরে হলদেবুনিয়া টহল ফাইবার বোট তাদের উদ্ধার করে প্রাথমিক সেবা দেয় এবং অফিসে এনে খাবার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।

তাদের মধ্যে ভারতীয় বন বিভাগের কাছে আটক শওকাত আলী গাজীকে উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন তারা। শওকাত আলী গাজী শ্যামনগরের আটুলিয়া ইউনিয়নের ছোটকুপট গ্রামের অবের আলী গাজীর ছেলে।

এদিকে, গত ৮ এপ্রিল সুন্দরবনের কাচিকাটা এলাকায় নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ চারজনের মধ্যে তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বনবিভাগ। তারা হলেন- শ্যামনগর উপজেলার গোদাড়া এলাকার ওহিদ মোল্লার ছেলে ওলিউর রহমান, আব্দুর রহমান গাজীর ছেলে মিকাইল হোসেন এবং আইউব আলীর ছেলে ইকরামুল কবির। তবে ওই গ্রামের আকবর হোসেন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।