সাবেক রুশ কর্মকর্তার সহায়তা চেয়েছিলেন এপস্টিন

Printed Edition

আলজাজিরা

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রকাশিত নথি অনুযায়ী জেফ্রি এপস্টিন এক প্রাক্তন রুশ কর্মকর্তার সহায়তা নিয়েছিলেন, যিনি মস্কোর এফএসবি গোয়েন্দা সংস্থার সাথে যুক্ত ছিলেন। এপস্টিন দাবি করেছিলেন, এক নারী তার ব্যবসায়িক সহযোগীদের ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করছে। ২০১৫ সালে এপস্টিন রাশিয়ার সাবেক উপ-অর্থনৈতিক উন্নয়নমন্ত্রী সের্গেই বেলিয়াকভের কাছে পরামর্শ চান। তিনি বলেন, নিউইয়র্কে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ীকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা চলছে।

এক ইমেইলে এপস্টিন লিখেন, আমার একটি অনুগ্রহ দরকার। তিনি জানান, এক রুশ নারী নিউইয়র্কের ফোর সিজনস হোটেলে এসে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা করছে। বেলিয়াকভ, যিনি এফএসবি অ্যাকাডেমির স্নাতক, উত্তর দেন যে তিনি ওই নারীর বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন। কয়েকদিন পর তিনি এপস্টিনকে জানান, ওই নারী যৌন ও এসকর্ট ব্যবসার সাথে যুক্ত এবং তার কোনো পৃষ্ঠপোষক নেই। বেলিয়াকভ বলেন, ব্যবসায়িক সমস্যার কারণে তিনি ব্ল্যাকমেইলের পথে যেতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হলে তার ব্যবসার জন্য বড় হুমকি হবে।

বেলিয়াকভ ২০১৪ সালে ক্রেমলিন ছাড়ার পর সেন্ট পিটার্সবার্গ ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক ফোরামের চেয়ারম্যান হন। তিনি এপস্টিনের মাধ্যমে মার্কিন ধনকুবেরদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। ২০১৫ সালে তিনি এপস্টিনের সহায়তায় মার্কিন বিনিয়োগকারী পিটার থিয়েল ও ব্যবসায়ী টমাস প্রিটজকারের সাথে বৈঠক করেন। পরে তিনি জানান, বৈঠকগুলো খুবই সহায়ক ছিল। ২০১৬ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনার জন্য প্রস্তাব নিয়ে এপস্টিনের মতামত চান। এপস্টিন তাকে বলেন, প্রস্তাবগুলো ইংরেজিতে ভালোভাবে সম্পাদনা করা উচিত। বেলিয়াকভের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। থিয়েলের ফাউন্ডেশন মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়, আর প্রিটজকারও মন্তব্য করেননি।

নথি অনুযায়ী, এপস্টিন রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সাথে বৈঠকের চেষ্টা করেছিলেন, তবে সফল হননি। এপস্টিন ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বন্দী অবস্থায় মারা যান। তার বিরুদ্ধে যৌন পাচারের অভিযোগে মামলা চলছিল। জীবদ্দশায় তার ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাকের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তারা একসাথে ব্যবসায়িক উদ্যোগ নিয়েছিলেন এবং নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। বারাকের সাবেক সহযোগী ইয়োনি কোরেন, যিনি ইসরাইলি সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ছিলেন এবং ২০২৩ সালে মারা যান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ক্যান্সার চিকিৎসার সময় এপস্টিনের বাড়িতে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেছিলেন।