উচ্চশিক্ষা নিয়ে শঙ্কিত
দরিদ্রতা দমাতে পারেনি সাকিবকে
Printed Edition
দারিদ্র্যতা ও অর্থ সঙ্কট দমিয়ে রাখতে পারেনি ফেরিওয়ালার সন্তান সাকিব খানকে। জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়ার পর এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন সে। এর পরও অভাব নামক এক অদৃশ্য দানব তার আগামী দিনের লালিত স্বপ্নকে অক্টোপাসের মতো আঁকড়ে ধরেছে। তবুও সে উচ্চ শিক্ষা নেয়ার আকাক্সক্ষাকে বাস্তবে রূপ দিতে বিত্তবানদের সহযোগিতা চেয়েছে।
নীলফামারীর সদর উপজেলার কুন্দপুকুর ইউনিয়নের শালহাটি গ্রামের ফেরি করে কাপড় বিক্রি করা মহসীন আলীর তিন ছেলের মধ্যে সবার বড় সাকিব খান। বসতভিটা ছাড়া আর কোনো জমি নেই তাদের। একার রোজগারে ৫ সদস্যের সংসার ঠিকমতো চলত না, সেখানে ছেলেদের লেখা-পড়ার খরচ জোগাবে কোথায় থেকে। এলাকাবাসী ও শিক্ষকদের সাহায্য-সহযোগিতায় নীলফামারী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পায় সাকিব। এরপর নীলফামারী সরকারি কলেজ থেকে ২০২৪ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে মানবিক বিভাগে ৬ষ্ঠ স্থান অধিকার করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ সেশনে ভর্তি পরীক্ষায় কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেয়ে আবারো তার মেধা ও ইচ্ছা শক্তির প্রমাণ দেয় সাকিব। এই শাখায় তার মেধাক্রম ১১১৩। সাকিব প্রশাসনিক বড় কর্মকর্তা হয়ে মানুষের সেবা করতে চায়। কিন্তু দরিদ্র বাবা পারবে কি তার সে সাধ পুরণ করতে?
সাকিবের মা কমলা বেগম ছেলের কষ্টের কথা বলতে গিয়ে কেঁদে বলেন, অনেক সময়ই না খেয়ে স্কুল-কলেজে যেতে হয়েছে ছেলেকে। সে শুধু একটাই বলেছে ‘মা যত কষ্টই হউক আমাকে বড় হতে হবে।’
বাবা মহসিন আলী জানান, কোন কারণে ফেরি করে কাপড় বিক্রি না করতে পারলে সে দিন তাদের না খেয়ে থাকতে হয়। ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন তার চিন্তার শেষ নেই। ছেলের উচ্চ শিক্ষা অর্জনে সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা চান তিনি।
নীলফামারী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মাহাবুবুর রহমান ভূঁইয়া জানান, সাকিবের মেধার কাছে হার মেনেছে সব বাধা। অদম্য এ মেধাবীর উচ্চ শিক্ষা গ্রহণে সহযোগিতায় দেশের হৃদয়বান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।