খুলনায় দরিদ্র পরিবারের জমিতে ভূমিদস্যুর থাবা
Printed Edition
খুলনা ব্যুরো
খুলনা নগরীর মাথাভাঙ্গা মৌজায় দরিদ্র ৩২টি পরিবার এখন উচ্ছেদ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। তাদের অভিযোগ, একটি ভূমিদস্যু চক্র প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে ‘ইউনিভার্সাল প্রোপার্টিজ’ নামের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে এসব জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। এর মূলে রয়েছে যুবদলের নেতা পরিচয় দানকারী প্রোপার্টিজের স্বত্বাধিকারী আল মামুন। এ ঘটনায় স্থানীয় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খুলনা মহানগরীর গল্লামারী এলাকার বাসিন্দা আল মামুন যুবলীগের সদস্য হিসেবে রাজনীতি করতেন। আওয়ামী আমলে কুখ্যাত ভূমিদস্যু হাফিজের সহযোগী ছিল। সরকার পরিবর্তনের পর হাফিজের অনুপস্থিতিতে মামুন এখন রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে নিজেকে যুবদলের নেতা পরিচয় দিচ্ছেন। জিরো পয়েন্ট এলাকায় অফিস খুলে জমি দখলের কারবার শুরু করেছেন। খুলনা মহানগরীর মুন্সীপাড়ায় বাড়ি যুবদলের এক নেতা এ চক্রের সাথে জড়িত রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগীদের একজন বৃদ্ধা জাবেরুন নেছা (৭০)। রাজমিস্ত্রির জোগাল ও ছেলের শ্রমের টাকায় ১৭ বছর আগে নিজের নামে এক কাঠা ও ছেলের নামে দুই কাঠা, মোট তিন কাঠা জমি কেনেন তিনি। সেই জমিতেই এখন দখলদারদের সাইনবোর্ড ঝুলছে। শুধু তিনি নন, ১৬৫ নম্বর খতিয়ানের প্রায় তিন একর জমিতে দুই থেকে পাঁচ কাঠা করে জমি কিনে বসবাস করছেন ৩২টি পরিবার। তাদের অধিকাংশই নি¤œ আয়ের মানুষ, নিয়মিত খাজনা ও কর পরিশোধ করছেন।
রূপসা সেতুর বাইপাস সড়কের পাশে হওয়ায় একসময়কার জলাভূমি মাথাভাঙ্গা মৌজা এখন মূল্যবান এলাকায় পরিণত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ‘ইউনিভার্সাল প্রোপার্টিজ’ নামের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে একদল লোক জমি ঘিরে রেখে বাসিন্দাদের হুমকি দিচ্ছে, কোথাও ঘর ভাঙচুরও হয়েছে। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, জমির মালিকানা সংক্রান্ত একটি একতরফা ডিক্রির ওপর হাইকোর্ট ২০২৪ সালের জুনে স্থগিতাদেশ দিয়ে দখল বিষয়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। তা সত্ত্বেও গত ডিসেম্বরে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ ওঠে।
অভিযুক্ত আল মামুন বলেন, জমির প্রকৃত মালিক আমি। তাদের যদি আসল দলিল থাকে তবে ক্ষতিপূরণ দিয়ে জমি ছেড়ে দেবো। লবণচরা থানার ওসি তুহিনুজ্জামান জানান, ৩২ জনের পক্ষে লিখিত অভিযোগ আদালতে পাঠানো হয়েছে; নির্দেশ পেলে তদন্তে পাঠাব।