বর্তমানে দেশে ইতিহাসের সর্বোচ্চ জ্বালানি মজুদ রয়েছে : জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী
ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট চালু ২০২৯ সালে
Printed Edition
বিশেষ সংবাদদাতা চট্টগ্রাম
দেশের একমাত্র সরকারি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির দ্বিতীয় ইউনিটের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম ২০২৯ সালে চালু করা হবে। সে লক্ষ্যে আগামী মাসেই আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হবে। বর্তমানে দেশে ইতিহাসের সর্বোচ্চ জ্বালানি মজুদ রয়েছে। পাশাপাশি সরকার বিকল্প উৎস থেকে পরিশোধিত ও অপরিশোধিত জ্বালানি আমদানির চেষ্টা করা হচ্ছে।
গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রামে ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি পরিদর্শনে এসে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে আমদানিকৃত সব জ্বালানি দেশে এসেছে। এপ্রিল ও মে মাসের জ্বালানি চাহিদা মেটানোর পূর্ণ সমতা রয়েছে। বর্তমানে জুন মাসের চাহিদা মাথায় রেখে পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিতের কাজ চলছে। জ্বালানি সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। ইস্টার্ন রিফাইনারির জন্য মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের বর্তমান মেয়াদের মধ্যেই ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট প্রকল্পটির বাস্তবায়ন দৃশ্যমান পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এই ইউনিট চালু হলে দেশে অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
তিনি বলেন, নতুন ইউনিট চালু হলে জ্বালানি তেলের উৎস বহুমুখীকরণ সহজ হবে। মধ্যপ্রাচ্যনির্ভরতা কিছুটা কমিয়ে বিভিন্ন দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করে তা দেশেই পরিশোধনের সুযোগ তৈরি হবে। এতে বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতা বা আঞ্চলিক সঙ্কটের প্রভাব তুলনামূলকভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রভাব মার্চ ও এপ্রিলের তেল সরবরাহে পড়েছে। তবে এটি কেবল বাংলাদেশের সমস্যা নয়, মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল প্রায় সব দেশই একই চাপে রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এ সময় জ্বালানি সচিব সাইফুল ইসলাম, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান এহসানুল হক, জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী ও ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত উপস্থিত ছিলেন।
ডিজেল নিয়ে চারটি ট্যাংকার আসছে
এ দিকে গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রাম বন্দরে ডিজেলবাহী তিনটি ট্যাংকার পৌঁছানোর কথা রয়েছে। আগামীকাল রোববার আসবে আরো একটি। সব মিলিয়ে চারটি ট্যাংকারে করে আসছে এক লাখ ৪১ হাজার টন ডিজেল।
চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার এমটি ওকট্রি, এমটি কেপ বনি ও এমটি লিয়ান সাং হু এই তিনটি ডিজেল বোঝাই ট্যাংকার বন্দরে নোঙর করার কথা। এমটি গোল্ডেন হরাইজন নামের আরেকটি ট্যাংকার আগামীকাল রোববার বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এ ছাড়া এমটি নেভ সিলো নামের অকটেনবাহী অপর ট্যাংকারও গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছার কথা রয়েছে।
এর আগে ১৫ এপ্রিল জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছিলেন, দেশে অকটেন ও পেট্রলের মজুদ যা আছে তা দিয়ে আগামী দুই মাসেও কোনো সমস্যা হবে না। তার দেয়া তথ্যানুযায়ী বর্তমানে দেশে ডিজেল রয়েছে এক লাখ ১৩ হাজার ৮৫ টন, অকটেন ৩১ হাজার ৮২১ টন, পেট্রল ১৮ হাজার ২১ টন এবং ফার্নেস অয়েল ৭৭ হাজার ৫৪৬ টন।