আওয়ামী লীগ নেতা এ আর খানের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা

Printed Edition

ময়মনসিংহ অফিস

ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনে গোপনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করে আলোচনায় এসেছেন আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা প্রফেসর এ আর খান। যাচাই-বাছাই শেষে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার খবরে নান্দাইলের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।

মনোনয়নপত্র দাখিলের বিষয়টি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনেকটাই অজানা ছিল। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে নীরবে যাওয়া-আসা এবং কোনো আনুষ্ঠানিক প্রচার না থাকায় বিষয়টি গোপনই ছিল। তবে মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার পরই বিষয়টি স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে।

এ আর খান নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও ইউনিয়নের আচারগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আব্দুল আজিজের ছেলে। ২০০৪ সাল থেকে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন এবং দীর্ঘ দিন দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবেও আলোচনায় ছিলেন।

২০১৪ সালে তিনি ‘বাংলাদেশ আওয়ামী পর্যটন লীগ’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন এবং আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দলীয় মনোনয়ন চাইলেও সে সময় তিনি মনোনয়ন পাননি। তখন আওয়ামী লীগের প্রার্থী করা হয় সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আবেদীন খান তুহিনকে।

২০১৬ সালে এ আর খান আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য হন এবং ২০১৮ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি দলীয় মনোনয়ন পাননি। এরপর ধীরে ধীরে তাকে দলীয় রাজনীতির সক্রিয় স্রোত থেকে দূরে সরে যেতে দেখা যায়। বাংলাদেশ আওয়ামী পর্যটন লীগের নান্দাইল উপজেলা শাখার সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ২০১৮ সালের পর থেকে এ আর খানের সাথে তাদের আর যোগাযোগ নেই।

নিজের প্রার্থিতা প্রসঙ্গে এ আর খান বলেন, তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছেন এবং দলীয় মনোনয়ন চেয়েছেন। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ততার কারণে কোনো আইনি জটিলতা তৈরি হলে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত কর্তৃপক্ষ নেবে বলেও জানান তিনি। এ আর খানের এই স্বতন্ত্র প্রার্থিতা নান্দাইলের নির্বাচনী সমীকরণে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে এখন স্থানীয় রাজনীতিতে নানা হিসাব-নিকাশ চলছে।