জুলাই অভ্যুত্থানের বার্ষিকীতে জামায়াতের কর্মসূচি ঘোষণা
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ২০-২২ বছর জামায়াতে ইসলামীর সাথে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি যখন চার দল, ১৮ দল, ২০ দলের জোট নিয়ে রাজনীতি করেছে তখন ৭১ কোথায় ছিল।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপনে কর্মসূচি ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে তিন দফা দাবি তুলে ধরেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। দাবিগুলো হলো- জুলাইয়ের হত্যাকা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে জড়িতদের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা, শহীদ ওসমান বিন হাদির হত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত করা এবং গণভোটের গণরায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করা।
জামায়াতের কর্মসূচি অনুযায়ী ২ থেকে ৯ জুলাই রাজধানীতে জুলাই শহীদ, আহত ও পঙ্গু পরিবারের সাথে মতবিনিময়, জুলাইয়ের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলোতে স্মৃতিচারণ, আলোচনা সভা ও দোয়া এবং ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে ঢাকার দুই মহানগরীর উদ্যোগে আলোচনা সভা আয়োজন করা হবে। এ ছাড়া ১৮ থেকে ৩১ জুলাই সারা দেশে জুলাই শহীদ, আহত ও পঙ্গু পরিবারের সাথে মতবিনিময়, স্মৃতিবিজড়িত স্থানে স্মৃতিচারণ, আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। ১ আগস্ট মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে গণমিছিলের কর্মসূচি পালন করবে দলটি। ১ থেকে ৪ আগস্ট শ্রমিক সংগঠনের উদ্যোগে পৃথক কর্মসূচি পালন করা হবে।
৫ আগস্ট ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে রাজধানীসহ সব জেলা, মহানগর ও উপজেলায় ১১ দলের উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশ ও মিছিলে সমর্থন ও অংশগ্রহণ করবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এ ছাড়া মহিলা বিভাগ, ছাত্র সংগঠন এবং জুলাই যোদ্ধাদের বিভিন্ন ফোরামের উদ্যোগে গৃহীত কর্মসূচিতেও অংশ নেবে দলটি।
এ সময় মিয়া পরওয়ার বলেন, বিএনপির নেতারা প্রশ্ন করেন ৭১-এ অমুক দলের ভূমিকা কী ছিল, তমুক দলের কী ছিল। সেই সময়কার রাজনৈতিক বাস্তবতায় অনেক রাজনৈতিক দল ভারতীয় আগ্রাসন থেকে বাঁচার জন্য কিভাবে ভূমিকা পালন করেছিল তা অনেকেরই জানা আছে। সেটা রাজনীতির বিতর্কের বিষয় হতে পারে। দেশের রাজনীতির সঙ্কট সম্পর্কে নেতৃবৃন্দ কথা বলছেন তখন ক্ষমতাসীন দল বিএনপির এমপি, মন্ত্রী ও নেতৃবৃন্দ জাতির সামনে কিছু প্রশ্ন, কিছু কনফিউশন, কিছু বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। করপোরেট গ্রুপের দুই-একটা সংবাদপত্র সরাসরি কোন রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য এমনভাবে রিপোর্ট করছে, যা কোনো সংবাদপত্রের ভূমিকা হতে পারে না। তিনি ওই সব পত্রিকার উদ্দেশে বলেন, আপনারা যদি কোনো পলিটিক্যাল এজেন্ডা নিয়ে থাকেন বা বিএনপি যদি কোনো অ্যাসাইনমেন্ট দিয়ে থাকে, তবে ঘোষণা দিয়ে দেন যে, এই পত্রিকা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কোনো পলিটিক্যাল এজেন্ডার পরিচালনা করছেন এবং আপনি ওই দলের মুখপত্র। কোনো প্রোপাগান্ডা সাংবাদিকতা নয়। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক গোলাম আযমের কাছে বিএনপি ধর্ণা দিয়েছে, যাতে জামাতের ভোটগুলো বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর পক্ষে আসে। একটা পুরনো মীমাংসিত ইস্যুকে বারবার জাতির সামনে আনা হচ্ছে। মনে রাখা উচিত, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করার জন্য যখন সমর্থন পাচ্ছিল না, তখন জামায়াতে ইসলামীর নিঃস্বার্থ সমর্থনে সরকার গঠন করেছিলেন। তখন কি ৭১-এর কথা মনে ছিল না, প্রশ্ন করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, বিএনপির ৩১ দফার প্রথম দফায় ছিল সংবিধান সংস্কারের কথা, সংশোধন নয়। জামায়াত সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাব দিলে তারা তার বিরোধিতা করছেন। গণভোটে ৭০ ভাগ মানুষ এই সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ বলেছে। ওই নোট অব ডিসেন্ট জনগণের ভোটে খারিজ হয়ে গেছে।
দলটির সহকারী সেক্রেটারি এ টি এম মাসুম বলেন, ৫৪ বছর দুর্নীতি করে, লুট করে মানুষের অধিকার হরণ করে যারা মানুষের ওপরে জুলুম বাজির শাসন চাপিয়ে দিয়েছিল তাদের কর্মকা আজ ফাঁস হয়ে গেছে। আমাদের জীবন থাকতে আর কোনো স্বৈরাচারকে বাংলাদেশে মাথা উঁচু করতে দেবো না।
সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আগামী দিনের দেশ হবে একটি দুর্বৃত্তমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত ও দুর্ভিমুক্ত স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। সেই দেশ গড়ার জন্য স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে পুনরায় জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং নতুন বিপ্লবের জাগরণ সৃষ্টি করে আরেকটি বিপ্লব সংঘটিত করার মাধ্যমে নব্য স্বৈরাচারের পতন ঘটানো হবে।
দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো: নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, ঢাকা দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন প্রমুখ।