নতুন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ফুটবলার থেকে রাজনীতিবিদ হয়েছেন আগেই। এবার মন্ত্রীও বনে গেলেন। নতুন বাংলাদেশে নতুন সরকারের টেকনোক্র্যাট কোটায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন সাবেক তারকা ফুটবলার মো: আমিনুল হক। এ মন্ত্রণালয়ের ৩৪তম অভিভাবক তিনি। সে সাথে প্রথমবারের মতো সাবেক কোনো ক্রীড়াবিদের টেকনোক্র্যাট হিসেবে প্রতিমন্ত্রী হওয়ার রেকর্ড গড়লেন আমিনুল। তবে এর আগে সাবেক ফুটবলার পরিচয়ে মন্ত্রী হয়েছিলেন মেজর (অব:) হাফিজ ও আরিফ খান জয়।
বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম কিংবদন্তি গোলকিপার এবং জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল। দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের গোলপোস্টের অতন্দ্র প্রহরী ছিলেন, যেখানে কোনো দলকে সহজে গোল করার সুযোগ দেননি এবং দেশের ফুটবলে নিজের একটি আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন। জাতীয় দলের অধিনায়ক এবং গোলকিপার হিসেবে খেলতে গিয়ে তিনি দেশকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তার গোলকিপিংয়ে বাংলাদেশ ২০০৩ সালে সাফ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন এবং ২০১০ সালে এসএ গেমসে স্বর্ণ জয় করে। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে দেশের বড় ক্লাবগুলোর হয়ে খেলেছেন এবং স্থানীয় লিগ ও টুর্নামেন্টে অসংখ্য শিরোপা অর্জন করেছেন, যা তার খেলোয়াড়ি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে চিহ্নিত।
ফুটবল জীবন থেকে অবসরের পর আমিনুল রাজনীতিতে জড়ান। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে দলের কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হলেও দলীয় অঙ্গীকারে অটল থেকেছেন। ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৬ আসন থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্রার্থী কর্নেল (অব:) মো: আবদুল বাতেনের কাছে হেরে যান। সংবিধান অনুযায়ী মন্ত্রিসভার সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ সদস্য টেকনোক্র্যাট হিসেবে নেয়ার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার ভিত্তিতেই এ ধরনের অন্তর্ভুক্তি হয়ে থাকে। তার পথ ধরেই যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর শপথ নিয়েছেন আমিনুল।
আমিনুল হক জাতীয় দলের হয়ে ১৯৯৮ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত প্রায় ৫৪টি ফিফা ম্যাচ এবং তিনটি নন-ফিফা ম্যাচ খেলেছেন। তিনি ২০১০ সালে জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব করেছেন এবং ২০১০ সালে বাংলাদেশ অ-২৩ দলের অধিনায়ক হিসেবে দক্ষিণ এশীয় গেমসে স্বর্ণপদক জিতেছেন। ক্লাব পর্যায়ে আমিনুল বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ক্লাবগুলোর হয়ে দীর্ঘ সময় খেলেছেন। তিনি মোহামেডান এসসি, ফরাশগঞ্জ এসসি, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, আবাহনী লিমিটেড ঢাকা, ব্রাদার্স ইউনিয়ন, শেখ জামাল ডিসি এবং টিম বিজেএমসির হয়ে খেলেছেন। ক্লাব পর্যায়ে তার অবদান অসাধারণ ছিল, যেখানে তিনি সুপার কাপ, ফেডারেশন কাপ এবং অন্যান্য ট্রফি জয়ী দলের অংশ হিসেবে উল্লেখযোগ্য ভূমিকায় ছিলেন। আমিনুলকে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা গোলকিপার এবং কিংবদন্তি খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তার আন্তর্জাতিক পারফরম্যান্স বিশেষ করে ২০০২ ও ২০০৯ সালে প্রশংসিত হয়েছিল এবং কোচ ও ফুটবল বিশ্লেষকদের নজর কাড়েন।
আমিনুলকে অভিনন্দন বিসিবি ও বাফুফের
বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় কিংবদন্তি ফুটবলার আমিনুল হককে অভিনন্দন জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ক্রীড়াঙ্গনে এমন দায়িত্বকে তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখছে বোর্ড।
এ ছাড়া নতুন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন, সাংবাদিকদের তিন সংগঠন বিএসজেসি, বিএসজেএ, বিএসপিএ এবং বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশন।