তেল সঙ্কটে বদলে গেছে দৃশ্যপট লাইনে কৃষকের দীর্ঘশ্বাস

Printed Edition
bangla-3
চুয়াডাঙ্গায় পাম্পে তেলের জন্য কৃষকদের দীর্ঘ লাইন : নয়া দিগন্ত

চুয়াডাঙ্গা থেকে প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গায় জ্বালানি সঙ্কট এক নতুন বাস্তবতার জন্ম দিয়েছে। কয়েক দিন আগেও যেখানে মোটরসাইকেল চালকদের উপচে পড়া ভিড়ে পেট্রলপাম্পগুলো ছিল অচলপ্রায়, এখন সেই দৃশ্যপট পুরোপুরি পাল্টে গেছে। পাম্পজুড়ে এখন দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন কৃষকেরা। পেট্রলের চেয়ে ডিজেলের চাহিদাই বর্তমানে বেশি, আর এর মূল কারণ বোরো মৌসুমে সেচনির্ভর কৃষিকাজ।

জেলার বিভিন্ন পেট্রলপাম্প ঘুরে দেখা গেছে, প্রশাসনের কড়াকড়ি নজরদারি এবং ‘নো কার্ড, নো ফুয়েল’ নীতির ফলে মোটরসাইকেল চালকদের ভিড় অনেকটাই কমে এসেছে। আগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল না পেয়ে ফিরতে হতো, এখন অনেকেই পাম্পে যাওয়ার আগে তেল পাওয়া যাবে কি না তা নিশ্চিত হচ্ছেন। ফলে বাইকারদের উপস্থিতি কমলেও কৃষকদের ভিড় বেড়ে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

শহরের রেলবাজার এলাকার একাধিক পাম্পে দেখা যায়, সীমিত সরবরাহের মধ্যেও ডিজেল নিতে কৃষকদের দীর্ঘ সারি। কারো হাতে জেরিক্যান, কেউ ট্রলির পাশে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। সবার চোখেমুখে একটাই চিন্তা, সময়ে সেচ না দিতে পারলে মাঠের ফসল ঝুঁকিতে পড়বে।

চার বিঘা জমির চাষি মজিবর রহমান বলেন, ৫০০ টাকার তেলে কি আর জমির সেচ হয়? তবুও লাইনে দাঁড়িয়ে যা পাই, তাই নিয়েই ফিরতে হয়। ফসল বাঁচানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় জনপ্রতি ২০০ থেকে ৫০০ টাকার বেশি তেল না দেয়ার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষকদের ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিলতা থাকলেও বাস্তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে অভিযোগ তাদের। এর সাথে যোগ হয়েছে সরবরাহ ঘাটতি, যা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে।

চুয়াডাঙ্গায় এক দিকে তীব্র তাপদাহ, অন্য দিকে সেচ মৌসুম, এই দুইয়ের চাপে ডিজেলের চাহিদা এখন তুঙ্গে। কিন্তু সরবরাহ সীমিত থাকায় কৃষকদের সামনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সময়মতো সেচ দিতে না পারলে বোরো ধান উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রেলবাজারের একটি পাম্পের সহকারী ব্যবস্থাপক জানান, ৬ এপ্রিল তারা তিন হাজার লিটার পেট্রোল, ২ হাজার লিটার অকটেন ও সাড়ে ৪ হাজার লিটার ডিজেল পেয়েছেন, যা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। তিনি বলেন, আগে বাইকারদের চাপ ছিল বেশি, এখন সেই জায়গা নিয়েছে কৃষকেরা। সবাইকে সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

সবমিলিয়ে, চুয়াডাঙ্গার পাম্পগুলো এখন শুধু জ্বালানি নেয়ার স্থান নয়; বরং কৃষকের দুশ্চিন্তা, অপেক্ষা ও সংগ্রামের প্রতিচ্ছবিতে পরিণত হয়েছে। যেখানে প্রতিটি লিটার ডিজেল মানে একটি ফসল বাঁচানোর লড়াই।