৩ মাসে দুইবার বদলির আদেশেও পুরনোকে ছাড়তে চাইছেন না এলজিইডির প্রকৌশলী!
কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
তিন মাসে দুইবার বদলির আদেশ দেয়া হলেও পুরনো কর্মস্থল ছাড়তে চাইছেন না এলজিইডির আইপিডির আইবিআরপি প্রকল্প পরিচালক শরীফ জামাল উদ্দিন। অভিযোগ উঠেছে কমিশন বাণিজ্যের লোভে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পুরনো কর্মস্থল থেকে যেতে চাইছেন তিনি। এমনকি পদোন্নতিকেও উপেক্ষা করছেন।
সূত্রমতে, গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ উন্নয়ন-১ শাখার আদেশে শরীফ জামাল উদ্দিনকে পদোন্নতি দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে রংপুরে বদলি করা হয়। কিন্তুতিনি সেখানে যোগ না দিয়ে সাবেক কর্মস্থল আইবিআরপি প্রকল্প পরিচালক হিসেবে অফিস করতে থাকেন। বিষয়টি নিয়ে দৈনিক নয়া দিগন্তে খবর প্রকাশের পর গত ১০ ফেব্রুয়ারি অপর একটি প্রজ্ঞাপনে তাকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) এলজিইডি বরিশাল অঞ্চলে বদলি করা হয়। কিন্তু তিনি সেখানেও যোগদান করেননি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আইপিডির আইবিআরপি প্রকল্পে প্রতিটি কাজে তাকে ৬ ভাগ কমিশন দেয়া বাধ্যতামূলক। এই কমিশন না দেয়া হলে তিনি কোনো ঠিকাদারকে কাজ করতে দেন না। প্রকল্পের প্রতিটি কাজের অনুমোদন থেকে শুরু করে কাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত ধাপে ধাপে আর্থিক সুবিধা নেন ।
একাধিক ঠিকাদারের অভিযোগ, এই প্রকল্পের অধীনে সারা দেশে প্রতি অর্থবছরে হাজার হাজার কোটি টাকার কাজ হয়। বরিশালের পাঁচটি জেলা বরিশাল ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, পিরোজপুর ও বরগুনায় এই প্রকল্প চলমান রয়েছে। যেসব ঠিকাদার এই প্রকল্পের অধীনে কাজ করেন তাদের প্রথমেই প্রকল্প পরিচালককে শতকরা ৬ শতাংশ টাকা দিতে হয়। কাজের স্টিমিটে দিতে হয় ২ শতাংশ করে, অনুমোদনে দিতে হয় ২ শতাংশ, অর্থ বরাদ্দে ১ শতাংশ ও অর্থ ছাড়ে ১ শতাংশ। এরপর কাজের অগ্রগতির বিভিন্ন পর্যায়ে তাকে বিভিন্ন পরিমাণ টাকা দিতে হয় । এ ব্যাপারে জানতে মোবাইলে ফোন যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও জামাল উদ্দিন ফোন রিসিভ করেননি।