শীতে শিশুর সুরক্ষায় করণীয়
Printed Edition
ডা: সাহিদা সুলতানা সিমু
শীতকাল শিশুদের জন্য যেমন আনন্দের, তেমনি এই সময় তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। ঠাণ্ডা আবহাওয়া, কুয়াশা ও শুষ্কতার কারণে শিশুরা সহজেই সর্দি-কাশি, জ্বর, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও ত্বকের সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারে। যেহেতু শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পূর্ণাঙ্গভাবে গড়ে ওঠে না, তাই শীত মৌসুমে তাদের সুরক্ষায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।
শীতকালে শিশুর অসুস্থতার ঝুঁকি কেন বাড়ে?
শীতে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় শিশুর শরীর দ্রুত ঠাণ্ডা হয়ে যায়। অনেক সময় অভিভাবকের অসচেতনতা, অপর্যাপ্ত গরম কাপড়, কম পানি পান এবং সংক্রমিত পরিবেশে থাকার কারণে শিশুদের রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এছাড়া শীতে ঘরের ভেতরে বেশি সময় কাটানোর ফলে ভাইরাস সংক্রমণ দ্রুত ছড়াতে পারে।
শিশুকে শীত থেকে সুরক্ষা
শিশুর শরীর সবসময় উষ্ণ রাখা শীতকালীন সুরক্ষার প্রথম শর্ত।
মাথা, কান, গলা ও পা ভালোভাবে ঢেকে রাখতে হবে
সকালে ও রাতে কুয়াশার সময় শিশুকে বাইরে নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে
অতিরিক্ত ঠাণ্ডায় শিশুকে বাইরে নেয়া প্রয়োজন হলে মোজা, টুপি ও মাফলার ব্যবহার করা জরুরি
পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য
শীতে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সুষম খাদ্য অপরিহার্য।
বুকের দুধপানকারী শিশুদের নিয়মিত বুকের দুধ খাওয়াতে হবে
বড় শিশুদের জন্য ডিম, দুধ, শাকসবজি, ফলমূল ও ঘরে তৈরি খাবার নিশ্চিত করতে হবে
ভিটামিন ঈ সমৃদ্ধ ফল শিশুর সর্দি-কাশি প্রতিরোধে সহায়ক
পর্যাপ্ত পানি পান নিশ্চিত করা
শীতে শিশুদের পিপাসা কম লাগে, ফলে তারা কম পানি পান করে। এতে শরীর দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
বয়স অনুযায়ী শিশুকে কুসুম গরম পানি পান করাতে হবে
স্যুপ ও তরল খাবার শিশুর শরীর আর্দ্র রাখতে সহায়তা করে
ত্বক ও ব্যক্তিগত পরিচর্যা
শীতকালে শিশুর ত্বক সহজেই শুষ্ক ও ফেটে যেতে পারে।
অতিরিক্ত গরম পানি দিয়ে গোসল করানো উচিত নয়
গোসলের পরপরই শিশুর ত্বকে ময়েশ্চারাইজার বা বেবি অয়েল ব্যবহার করা ভালো
ঠোঁট ও হাত-পা ফাটলে শিশুদের জন্য নিরাপদ ক্রিম ব্যবহার করতে হবে
পরিচ্ছন্নতা ও সংক্রমণ প্রতিরোধ
শীতে ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে।
শিশুর হাত নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে
সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে
শিশুর ব্যবহৃত কাপড় ও খেলনা পরিষ্কার রাখা জরুরি
কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন
জ্বর তিন দিনের বেশি থাকলে
শ্বাস নিতে কষ্ট হলে
খাওয়ায় অনীহা বা অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে
নবজাতকের ক্ষেত্রে সামান্য সমস্যাতেও দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
লেখক : সহকারী রেজিস্ট্রার , শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ