চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ৬৫০ একর জমিতে ফ্রি ট্রেড জোন করা হবে : আশিক চৌধুরী

Printed Edition
back-2
ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলন : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকার বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ফ্রি ট্রেড জোন (এফটিজেড) গঠনের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় ৬০০ থেকে ৬৫০ একর জমির ওপর এই জোন গড়ে তোলা হবে। গতকাল রাজধানীর বেইলি রোডের বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে বিনিয়োগ প্রচার সংস্থাগুলোর (আইপিএ) গভর্নিং বোর্ডের চতুর্থ সভার সিদ্ধান্তগুলোর ওপর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম ও আইপিএগুলোর নির্বাহী সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বিডা, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ও মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) গভর্নিং বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বেজার গভর্নিং বোর্ডে ফ্রি ট্রেড জোন গঠনের নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়। প্রসঙ্গত, চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বিডার পাশাপাশি বেজা ও মিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশের পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)।

সংবাদ সম্মেলনে চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, ফ্রি ট্রেড জোন হিসেবে প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রায় ৬০০ থেকে ৬৫০ একর জমিতে এ জোন গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। ফ্রি ট্রেড জোনকে কার্যত ‘ওভারসিজ টেরিটরি’ হিসেবে পরিচালনা করা হবে, যেখানে কাস্টমস বাধ্যবাধকতা ছাড়াই পণ্য সংরক্ষণ, উৎপাদন ও পুনঃরফতানি করা যাবে।

তিনি বলেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের টাইম টু মার্কেট সমস্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ থেকে কাঁচামাল এনে দ্রুত উৎপাদন ও রফতানির সুযোগ তৈরি হবে। উদাহরণ হিসেবে আমেরিকান কটনের ব্যবহার বাড়ানোর সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়।

এই গুরুত্বপূর্ণ জোন করার জন্য কেন আনোয়ারাকে বাছাই করা হলো এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ফ্রি ট্রেড জোন অবশ্যই সামূদ্রিক অঞ্চলে হতে হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থার স্বার্থে এই স্থানটি বাছাই করা হয়েছে। এটি উত্তর অঞ্চলে করার সুযোগ ছিল না। ভৌগোলিক দিক বিবেচনায় নিয়েই চট্টগ্রামের আনোয়ারাতে এই জোনটি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, দুবাইয়ের জেবেল আলি ফ্রি জোনের মতো মডেল অনুসরণ করে এ ফ্রি ট্রেড জোন গড়ে তোলা হলে এটি বাংলাদেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে। এ সিদ্ধান্ত কার্যকরে আটটি আইন ও বিধিমালা সংশোধনের প্রয়োজন হবে। বিষয়টি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য শিগগিরই উপদেষ্টা পরিষদে উপস্থাপন করা হবে।