রাষ্ট্রপতির অভিশংসন ও গ্রেফতার দাবি নাহিদ ইসলামের

Printed Edition
3rd-5
বনানী সামরিক কবরস্থানে শহীদ সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এনসিপি নেতারা : নয়া দিগন্ত

ঢাবি প্রতিনিধি

নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিনের অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরুর দাবি জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। একই সাথে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দ্রুত গ্রেফতারেরও আহ্বান জানান তিনি। বুধবার বিকেলে ঢাকার বনানী সামরিক কবরস্থানে পিলখানা হত্যাকাণ্ডে নিহতদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ দাবি তোলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতির অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু হওয়া উচিত। তার ভাষ্য, ফ্যাসিস্ট সময়ের রাষ্ট্রপতিকে অপসারণে সরকার ও বিরোধী দল একসাথে পদক্ষেপ নেবে- এমনটিই আমাদের প্রত্যাশা। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য রয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের দাবি উঠেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য না থাকায় তখন তা সম্ভব হয়নি। ‘রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও সাংবিধানিক শূন্যতার কথা বিবেচনায় রেখে তাকে বহাল রাখা হয়েছিল। এখন নতুন সরকার ও নতুন সংসদ এসেছে। রাষ্ট্রপতির বিদায় সময়ের ব্যাপার’- বলেন তিনি।

জুলাইয়ের গণহত্যা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতির ভূমিকার সমালোচনা করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, ওই সময়ে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেননি। ‘তিনি নীরব ও নিষ্ক্রিয় ছিলেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে কোটা সংস্কারের দাবি নিয়ে আমরা বঙ্গভবনে গিয়েছিলাম। কিন্তু তার নিষ্ক্রিয়তার কারণেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়’- দাবি করেন নাহিদ ইসলাম।

রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার দাবি, রাষ্ট্রপতির পদে যে নিরপেক্ষতা ও ভাবমূর্তি প্রয়োজন, তা রক্ষা করা হয়নি। তাই অভিশংসনের মাধ্যমে তাকে অপসারণ করে আইনের আওতায় আনা জরুরি। এ ছাড়া শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে রাষ্ট্রপতির বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন নাহিদ ইসলাম। তার মতে, এ ধরনের মন্তব্য রাষ্ট্রপতির শপথের পরিপন্থী।

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম আবার শুরু হওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এনসিপির নেতা সারজিস আলম ও আব্দুল হান্নান মাসুদসহ নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে হামলার শিকার হচ্ছেন। ‘সরকারও বলেছে তারা আইনিব্যবস্থা নেবে। আইনগতভাবে নিষিদ্ধ কোনো দল প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালাতে পারে না’- বলেন তিনি। নতুন সরকারের সাথে আওয়ামী লীগের কোনো গোপন সমঝোতা হয়েছে কি না- এ প্রশ্নে সরাসরি মন্তব্য না করে সন্দেহের ইঙ্গিত দেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া এ ধরনের কার্যক্রম সম্ভব নয়।

সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘আমরা আইনের শাসন চাই। যদি প্রশাসন নিষিদ্ধ দলকে কার্যক্রম চালানোর সুযোগ দেয়, তাহলে জনগণের পক্ষ থেকে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। সরকার আইনের শাসনের পক্ষে থাকবে, নাকি দেশকে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেবে- সেটিই এখন দেখার বিষয়।’