ব্রাদার্সকে উড়িয়ে ফাইনালে বসুন্ধরা

জিতে অপেক্ষায় মোহামেডান

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

  • বসুন্ধরা কিংস ৪-০ ব্রাদার্স
  • মোহামেডান ৩-০ রহমতগঞ্জ

গোল মিস একটি দলকে কিভাবে ভোগাতে পারে তা বোধ হয় এই মুহূর্তে ব্রাদার্স ইউনিয়নের চেয়েও বেশি আর কোনো দল বুঝার কথা নয়। ইউনাইটেড হেলথ কেয়ার ফেডারেশন কাপে গতকাল ছিল কোয়ালিফায়ার রাউন্ড ওয়ান এবং কোয়ালিফায়ার রাউন্ড টু এর খেলা। কিংস এরিনায় বসুন্ধরা কিংসের প্রতিপক্ষ ছিল ব্রাদার্স ইউনিয়ন। তিন মিনিটে পিছিয়ে পড়া ব্রাদার্স ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেছিল। তবে গোল মিস তাদের আর খেলায় ফিরতে দেয়নি। সাথে ছিল বসুন্ধরা কিংসের গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবনের প্রতিরোধ। দুইয়ের যোগ ফলে ফেডারেশন কাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা যেমন গোল হজম করেনি উল্টো বিপক্ষ ডিফেন্ডারদের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে আরো ৩ গোল আদায়। ফলে ৪-০তে ম্যাচ জিতে ফেডারেশন কাপের ফাইনালে চলে গেল বসুন্ধরা কিংস। আর ব্রাদার্সকে এখন মোহামেডানের সাথে কোয়ালিফায়ার রাউন্ড থ্রিতে খেলতে হবে। গতকাল কুমিল্লা স্টেডিয়ামে কোয়ালিফায়ার টুতে সাদা-কালোরা ৩-০ গোলে হারিয়েছে রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটিকে।

ম্যাচের বয়স তিন মিনিট। তখনই বসুন্ধরা কিংসের গোল। ডান দিক থেকে ঢুকে বক্সের ভেতর থেকে ডান পায়ের প্রচণ্ড গতির শট রাকিব হোসেনের। ব্রাদাস কিপার ইশাক আকন্দ কিছুই করতে পারেননি সেই শটে। দর্শনীয় এই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর শুরু হয় ব্রাদার্সের ম্যাচে ফেরার লড়াই। তবে গোল আর আসেনি। ২৪ মিনিটে পাকিস্তানি শায়েক দোস্তের ফ্রি-কিক বাম দিকে শরীর ভাসিয়ে কর্নার করেন শ্রাবণ। এরপর প্রতিপক্ষের আরেকটি ক্লোজ রেঞ্জের গোল চেষ্টা রুখে দেন জাতীয় দলের এই কিপার। অবশ্য ১৩ মিনিটে গিনির ফরোয়ার্ড কেরফালা কৌয়াত হেডে যে গোলের সুযোগ মিস করেছেন তা অবিশ^াস্য। ডান দিকে থেকে আসা ক্রসে ফাঁকা পোস্টে তিনি যে হেড নেন তা পোস্টে না গিয়ে গেছে কর্নার পতাকার কাছে। বসুন্ধরা কিংসও ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু ডরিয়েলটন পারেননি গোল করতে। ফলে তাদের ১-০তে লিডেই শেষ হয় প্রথমার্ধ।

বিরতির পর অবশ্য ভিন্ন চেহারায় আবির্ভূত হয় বসুন্ধরা। বৃষ্টি-কাদার কারণে কিংস এরিনায় মাঠের দক্ষিণ দিকের পোস্টের সামনে কাদা কাদা হয়ে যায়। এতে ডিফেন্ডারদের স্বাভাবিক খেলা উপহার দেয়া সম্ভব হচ্ছিল না। সেই ধারাক্রমেই ৭১ মিনিটে বিপক্ষ একটি ক্রস রুখতে গিয়ে কাদায় পা পিছলে পড়ে যান ব্রাদার্সের ডিফেন্ডার। ফলে ফাঁকায় বল পেয়ে তা জালে পাঠাতে কোনো ভুলই করেননি ডরিয়েলটন গোমেজ। ৭৪ মিনিটে তার দ্বিতীয় গোল। বাম দিক থেকে আসা ক্রসের বল ধরে ডজে পরাস্ত করেন ব্রাদার্স রক্ষণকর্মীকে। এরপর কোনাকুনি শটে গোল এই ব্রাজিলিয়ানের। ম্যাচ থেকে তখনই ছিটকে গেছে জামাল ভূঁইয়ারা। গোপীবাগের দলটির কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকেন বসুন্ধরা কিংসের বদলি ফুটবলার সাব্বির হোসেন। রাকিবের মুন্সীয়ানায় বল পেয়ে ডজে এক ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে ডান পায়ের চমৎকার শটে বল জালে পাঠান তিনি। তবে বাকি সময়ে চেষ্টা করেও হ্যাটট্রিক করতে পারেননি ডরিয়েলটন।

কুমিল্লায় ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত স্টেডিয়ামে ঝড়-বৃষ্টি আর বজ্রপাতের কবলে পড়েছিল মোহামেডান ও রহমতগঞ্জের ম্যাচ। এতে খেলা প্রায় ঘণ্টাখানেক বন্ধ ছিল। অবশ্য এতেও থামানো যায়নি মোহামেডানকে। ঝড়ের আগে পরে মিলে তাদের তিন গোল। এই স্কোর লাইনেই তাদের জয়ে ফাইনালে খেলার আশা বেঁচে থাকল। জোড়া গোল করেন জুয়েল মিয়া। তার দুই গোল ২৯ ও ৫৩ মিনিটে। ৭৭ মিনিটে দলের তৃতীয় গোল করেন সৌরভ দেওয়ান। ১২ মে তৃতীয় কোয়ালিফায়ারে ফাইনালে উঠতে ব্রাদার্সের বিপক্ষে লড়বে মোহামেডান।