ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলায় শিশুসহ নিহত ৩

Printed Edition

এএফপি

রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের দক্ষিণ বন্দরনগরী ওদেসায় তিনজন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। সোমবার একজন সামরিক কর্মকর্তা এ তথ্য জানান। শহরটির সামরিক প্রশাসনের প্রধান সেরহিয় লিসাক টেলিগ্রামে জানান, ‘গত রাতে শত্রুপক্ষের হামলার ফলে দুঃখজনকভাবে তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে চারজনকে উদ্ধার করেছে।’

জেলেনস্কি এক্স-এ দেয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন, একজন গর্ভবতী নারী ও দুই শিশুসহ এগারো জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে সবচেয়ে ছোটটির বয়স এক বছরেরও কম। এ দিকে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে দূরপাল্লার হামলা জোরদার করেছে ইউক্রেন। রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইউক্রেনের একটি ড্রোন হামলায় বাল্টিক বন্দর প্রিমোরস্কের কাছে একটি তেল পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনের এমন হামলায় চাপে পড়েছে মস্কো!

ইউক্রেনের হামলা এড়াতে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানা দূরের এলাকায় সরিয়ে নিচ্ছে রাশিয়া। দক্ষিণ-পশ্চিম সাইবেরিয়ার ওমস্ক এবং উরাল পর্বতের কাছে পার্ম শহরে নতুন করে এগুলো বসানো হচ্ছে। ইউক্রেনের দূরপাল্লার হামলা বাড়ায় ক্রেমলিনের উদ্বেগ বেড়েছে। এসব হামলায় রাশিয়ার তেল উৎপাদন ও সামরিক সরঞ্জাম সংশ্লিষ্ট স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এপ্রিলের শুরুর দিকে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় উফা শহরের (বাশকোর্তোস্তান) বাশনেফত-নোভোইল তেল শোধনাগারের একটি বড় ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। এই ইউনিটটি পুরো শোধনাগারের ২৮ শতাংশ ক্ষমতা বহন করত। তবে অন্য তিনটি ইউনিট এখনো চালু আছে। এ দিকে ৫ এপ্রিল ড্রোন হামলার লক্ষ্য হয় প্রিমোরস্কের কাছে একটি রুশ তেল পাইপলাইন। জায়গাটি এস্তোনিয়া ও ফিনল্যান্ডের মাঝামাঝি এলাকায়। এ ছাড়া দু’টি স্থাপনায় ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এগুলো হলো কস্তোভস্কি শোধনাগার এবং নোভোহিরকোভস্কায়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র। শুধু স্থলভাগ নয় সমুদ্রেও হামলা চালাচ্ছে ইউক্রেন। ভূমধ্যসাগরে রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’ ট্যাংকারগুলো লক্ষ্য করেও আঘাত করা হচ্ছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে স্থবির হয়ে পড়েছে।