অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা থেকে হলিউডের প্রিয় গল্পকার

Printed Edition
bino-1
অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা থেকে হলিউডের প্রিয় গল্পকার

সাকিবুল হাসান

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার নিগূঢ় তথ্যের সাথে হলিউডের রুপালি পর্দার গ্ল্যামারকে এক সুতোয় গেঁথে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন প্যাট্রিক রাডেন কিফ। ‘সে নাথিং’ এবং ‘এম্পায়ার অফ পেইন’-এর মতো সাড়াজাগানো অনুসন্ধানী বইয়ের মাধ্যমে তিনি সত্য ঘটনাকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, যা বাজারে আসা মাত্রই বেস্টসেলারে পরিণত হচ্ছে এবং পরবর্তীতে নেটফ্লিক্স বা এইচবিও-র মতো বড় প্ল্যাটফর্মে নামী টিভি সিরিজে রূপান্তরিত হচ্ছে। চিত্রনাট্যকাররা সাধারণত বইয়ের লেখকদের বুদ্ধিবৃত্তিক আধিপত্যকে কিছুটা ঈর্ষার চোখে দেখেন, আবার লেখকরা মনে মনে স্বপ্ন দেখেন হলিউডে কাজ করার; কিন্তু প্যাট্রিক কিফ যেন এই দুই জগতের ব্যবধানকে অবলীলায় ঘুচিয়ে দিয়েছেন।

প্যাট্রিক কিফের সফলতার রহস্য লুকিয়ে আছে তার তথ্যের গভীরে যাওয়ার অসাধারণ ক্ষমতায়। তার আসন্ন বই ‘লন্ডন ফলিং’-এর প্রেক্ষাপটটিও তৈরি হয়েছে এক নাটকীয় ঘটনার মধ্য দিয়ে। লন্ডনে নিজের আগের বইয়ের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত একটি সিরিজের শুটিং সেটে বসে এক ব্যক্তির মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন ১৯ বছর বয়সী তরুণ জ্যাক ব্রেটলারের রহস্যময় মৃত্যুর গল্প। সেই তরুণটি নিজেকে একজন রুশ ধনকুবেরের সন্তান সাজিয়ে লন্ডনের আন্ডারওয়ার্ল্ডের অন্ধকার জগতে মিশে গিয়েছিল। কিফ এই ঘটনার মধ্যে আধুনিক লন্ডনের বদলে যাওয়া রূপ এবং সেখানে পুঞ্জীভূত কালো টাকার এক ভয়ংকর চিত্র খুঁজে পান। এই সত্য অনুসন্ধানের নেশাই তাকে পৌঁছে দেয় ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে, যারা পুলিশের তদন্তে আস্থা হারিয়ে কিফের ক্ষুরধার লেখনীর ওপর ভরসা খুঁজে পান।

কিফের ক্যারিয়ার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনি আইআরএ-র সঙ্ঘাত থেকে শুরু করে স্যাকলার পরিবারের ওপিওড কেলেঙ্কারির মতো ইতিহাসের জটিল সব নেটওয়ার্ক সফলভাবে উন্মোচন করেছেন। তার লেখনী এতটাই সিনেমাটিক যে, তা সরাসরি পাঠকদের চোখের সামনে দৃশ্যপট তৈরি করে। চিত্রনাট্য রচনার অভিজ্ঞতাকে তিনি কাজে লাগান বইয়ের বর্ণনায় যেখানে শত শত পৃষ্ঠার বিরক্তিকর আদালতের নথিকে তিনি মাত্র কয়েক লাইনের রোমাঞ্চকর প্যারাগ্রাফে রূপান্তর করার মুন্সিয়ানা দেখান। মজার বিষয় হলো, বর্তমানে ৪৯ বছর বয়সী এই লেখক কেবল পর্দার পেছনের কারিগর হিসেবেই পরিচিত নন, বরং জনপ্রিয় টিভি সিরিজে অভিনয় করে কিংবা নামী ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনী মুখ হয়ে তিনি নিজে এক বৈশ্বিক সেলিব্রিটিতে পরিণত হয়েছেন। তবে এই সাফল্যের পথটি মোটেও মসৃণ ছিল না। প্রভাবশালী ও অপরাধী মহলের রক্তচক্ষু এবং বড় বড় আইনি হুমকি তাকে প্রতিনিয়ত মোকাবিলা করতে হয়। স্যাকলার পরিবারের মতো শক্তিশালী পক্ষের বিরুদ্ধে কাজ করার সময় তার বাড়ির সামনে গোয়েন্দা লাগিয়ে নজরদারিও করা হয়েছিল। তবে প্যাট্রিক কিফ মনে করেন, হুমকি পাওয়া মানেই হলো কাজটি সঠিকভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। সাংবাদিকতার নৈতিক গভীরতা এবং সিনেমার টানটান উত্তেজনাকে একসূত্রে গেঁথে তিনি এখন সাহিত্য ও বিনোদন জগতের এক অনন্য পথিকৃৎ।