নতুন বছর মানে শুধু ক্যালেন্ডারের পাতা বদলানো নয়

Printed Edition
Pach-2
নতুন বছর মানে শুধু ক্যালেন্ডারের পাতা বদলানো নয়

ফারদিন মোহাম্মদ

নতুন বছর মানে নতুন শুরু, পুরনো ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নেয়ার সুযোগ, ভেঙে পড়া স্বপ্নগুলো আবার গুছিয়ে নেয়ার সাহস। নতুন বছর মানে আশা, পরিবর্তন আর সামনে এগিয়ে যাওয়ার নতুন এক অধ্যায়। নতুন বছরে দেশের কাছে আমাদের বড় প্রত্যাশার মধ্যে একটি হলো স্থিতিশীল কর্মসংস্থানমুখী পরিবেশ এবং বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থার সুযোগ, যাতে পড়াশোনা শেষে অনিশ্চয়তা নয় বরং নিশ্চিত ক্যারিয়ারের হাতছানি থাকবে। আমাদের আনন্দ আর প্রত্যাশাগুলো যেন একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার কারিগর হয়। শিক্ষার্থীদের এমন ভাবনা ও প্রত্যাশাগুলো তুলে ধরেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফারদিন মোহাম্মদ

একজন সুনাগরিকের ভাবনা

মনিরুজ্জামান তুহিন

শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ

২০২৬ সাল বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল সময়। ’২৫ সালে ওসমান হাদির মৃত্যু আমাদের ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকাতে শেখায়, আর তারেক রহমানের স্বদেশে প্রত্যাবর্তন রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি করছে। এসব ঘটনার মধ্যেই ’২৬ সালে জাতীয় নির্বাচন দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। একজন সুনাগরিক হিসেবে আমি মনে করি, এই সময়ে সবচেয়ে প্রয়োজন ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়া, রাজনৈতিক সহনশীলতা বজায় রাখা এবং গণতান্ত্রিক আচরণ চর্চা করা। নির্বাচন যেন হয় অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য। সেজন্য নাগরিকদের সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা জরুরি। সঙ্কট মোকাবেলায় বিভাজন নয়, ঐক্য দরকার; সহিংসতা নয়, সংলাপ দরকার। দায়িত্বশীল নাগরিকত্ব, নৈতিকতা ও দেশের প্রতি ভালোবাসাই পারে ২০২৬ সালকে সঙ্কট নয়, সম্ভাবনার বছরে পরিণত করতে।

নতুন উদ্যম ও ইতিবাচক রাজনীতি চাই

মো: রিজওয়ান খান

শিক্ষার্থী, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ

নতুন বছরে নতুন উদ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে কাজ করতে হবে। দেশীয় রাজনীতির মারমুখী ও বিভাজনমূলক ধারা ক্যাম্পাসে না এনে, একতা ও সংহতির মাধ্যমে নিজেদের ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে সব ছাত্র সংগঠনের ভূমিকা রাখা জরুরি। বর্তমানে আমরা দেখছি, শীর্ষস্থানীয় ছাত্র সংগঠনের নেতারা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে শিক্ষার্থীবান্ধব কর্মকাণ্ডে এগিয়ে আসছেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সাধারণ শিক্ষার্থী ও সংগঠনের অনুসারীরা সোশ্যাল মিডিয়া কেন্দ্রিক বিভিন্ন ফোরামে বিভক্ত হয়ে একে অপরকে ডমিনেট করার চেষ্টায় লিপ্ত হচ্ছেন। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয় জাতির কাছে প্রশ্নবিদ্ধ শীর্ষস্থানীয় নেতাদের প্রতি আকুল আবেদন যে, এ ধরনের পরিস্থিতি নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখুন।

নতুন বছর : স্বপ্ন, সাহস ও আত্মউন্নয়নের পথে যাত্রা

কানিজ ফাতিমা অনন্যা

কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগ

নতুন বছর মানেই নতুন আলো, নতুন স্বপ্ন আর নতুন করে শুরু করার সাহস। পুরনো বছরের ভুলগুলোকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার এক সুন্দর সুযোগ এনে দেয় নতুন বছর। নতুন বছরে আমার ভাবনা হলো নিজেকে আরো গুছিয়ে নেয়া, সময়ের মূল্য বুঝে চলা এবং প্রতিটি কাজ মনোযোগ ও সততার সাথে করা। অতীতের ব্যর্থতা যেন হতাশা না হয়ে শিক্ষা হয়, আর সাফল্য যেন অহঙ্কার নয়, অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে। প্রত্যাশা একটাই জীবনে শান্তি থাকুক, মনে থাকুক দৃঢ়তা, আর কাজে থাকুক ধারাবাহিকতা। নিজের পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও দেশকে নিয়ে ভাবার মানসিকতা তৈরি হোক। ভালোবাসা, সহানুভূতি ও মানবিকতা যেন প্রতিদিনের আচরণে প্রকাশ পায়। প্রতিটি দিন হোক অর্থপূর্ণ, প্রতিটি চেষ্টা হোক সৎ, আর প্রতিটি স্বপ্ন হোক বাস্তবের পথে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার গল্প।

জ্ঞানচর্চা ও মানসিক বিকাশের কেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়

আলিফ শাহরিয়ার রাতুল

শিক্ষার্থী, কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ

নতুন বছর নতুন আশা, নতুন লক্ষ্য ও আত্মউন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে আসে। এই বছরে আমার প্রত্যাশা নিজেকে আরো দায়িত্বশীল ও সচেতন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা এবং অর্জিত জ্ঞান সমাজ ও দেশের কল্যাণে কাজে লাগানো। একজন সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে আমার ভাবনা অত্যন্ত ইতিবাচক। ঐতিহ্য, নৈতিকতা ও অ্যাকাডেমিক উৎকর্ষতার সমন্বয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় একটি ব্যতিক্রমী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সবুজে ঘেরা ক্যাম্পাস ও গুণগত শিক্ষার পরিবেশ শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নতুন বছরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আরো গবেষণামুখী শিক্ষা, প্রযুক্তিনির্ভর অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করবে এটাই আমার বিশ্বাস। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ভবিষ্যতের যোগ্য ও নৈতিক নেতৃত্ব গঠনে আরো শক্ত ভূমিকা রাখবে।

নতুন বছরে ন্যায় ও নিরাপত্তার বাংলাদেশ চাই

মো: আব্দুল্লাহ আল মুনাইম

শিক্ষার্থী, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ

শীতের হিমেল হাওয়ার সাথে সাথে বিদায় নিয়েছে ২০২৫। এ যেন এক স্মৃতিময় বছর। পুরনো বছরের প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তিকে এক সাইডে রেখে আমাদের নতুন বছরের প্রত্যাশা নিরাপদ, শান্তিময় হোক, প্রিয় বাংলাদেশ। আমার দেশ হোক সবার জন্য নিরাপদ আশ্রয়। শহীদ ওসমান হাদি ভাইয়ের মতো আর কোনো হাহাকার কিংবা গগনবিদারী আর্তনাদ আমরা চাইনা। শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারই নতুন বছরের প্রথম প্রত্যাশা। পাশাপাশি রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর হোক, সুস্থ রাজনীতির চর্চা হোক বাংলাদেশে। নতুন বছরে এক নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আমরা চাই। আরো চাই দেশ থেকে দূর হোক দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি। দুর্নীতি রুখে দিতে পারলেই খুলে যাবে সম্ভাবনার সকল দুয়ার। আমরা পারবো আমাদের কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে। আমরা বিশ্বাস করি জীবনের কোনো না কোনো সময় সবকিছু অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। তবুও বিগত বছরের সব ভুল শুধরে নিতে হবে আমাদের। এগিয়ে যেতে হবে বহুদূর। এ বাংলাদেশ আমাদের সবার।

নতুন বছরের শিক্ষাঙ্গন ভাবনা

নাফিজ আহমেদ

শিক্ষার্থী, দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্ট্যাডিজ বিভাগ

নতুন বছর আমার কাছে শুধু ব্যক্তিগত নতুন শুরুর বার্তা নয়, এটি দেশ ও ক্যাম্পাসকে ঘিরে নতুন করে ভাবার সময়। একটি বছরের অভিজ্ঞতা আমাকে বুঝিয়েছে, দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে ক্যাম্পাস থেকেই। তাই নতুন বছরে প্রত্যাশা, শিক্ষাঙ্গন হোক জ্ঞান, যুক্তি ও নৈতিকতার নিরাপদ আশ্রয়। আমি চাই, আমাদের ক্যাম্পাসে মতের ভিন্নতা থাকবে; কিন্তু থাকবে না বিদ্বেষ। থাকবে আন্দোলন; কিন্তু তা হবে দায়িত্বশীল ও জনস্বার্থকেন্দ্রিক। ছাত্রসমাজ যেন দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও মানুষের কথা ভাবতে শেখে। জ্ঞানচর্চা, ন্যায়বোধ আর প্রতিবাদের ভাষা এই তিনে মিলেই গড়ে উঠুক সুস্থ ক্যাম্পাস সংস্কৃতি। নতুন বছরে দেশের জন্য প্রত্যাশা একটাই আইনের শাসন, ন্যায়বিচার আর তরুণদের নেতৃত্বে একটি সচেতন বাংলাদেশ। ক্যাম্পাস থেকে শুরু হোক সেই পরিবর্তনের পথচলা।