ভালো কোম্পানির শেয়ারে আগ্রহ বাড়ছে বিনিয়োগকারীদের

কোম্পানির ২০ লাখ শেয়ার কিনবেন স্কয়ার এমডি

Printed Edition
artho-1
ভালো কোম্পানির শেয়ারে আগ্রহ বাড়ছে বিনিয়োগকারীদের

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

দেরিতে হলেও পুঁজিবাজারে আবার ভালো কোম্পানির শেয়ারে আগ্রহ বাড়তে শুরু করেছে বিনিয়োগকারীদের। গতকাল নিয়ে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দুই পুঁজিবাজারে মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানি নিয়ে গড়া সূচকের উন্নতি তারই ইঙ্গিত বহন করছে। গতকাল এবং এর আগের দিন সোমবার দেশের দুই পুঁজিবাজার সূচকেই এ আচরণ দেখা যায়। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা ব্যাংকিং খাতের ভালো কোম্পানিগুলোর থাকলেও অন্যান্য খাতেও ধীরে ধীরে এর প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা। তারা মনে করেন সম্প্রতি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃক একসাথে ৯টি কোম্পানিকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে।

বছরের প্রথম দুই দিন পুঁজিবাজারে ইতিবাচক আচরণের ফলে মূল্যস্তরে যে পরিবর্তন ঘটেছে তা থেকে সংশোধনের পর্যায়ে রয়েছে বাজার। সে হিসাবে আগের দিন সূচকের যে অস্থির আচরণ দেখা গিয়েছিল গতকাল তাতে কিছুটা পরিবর্তন ঘটেছে। এদিন লেনদেনের শুরুতে সূচকের নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেলেও মাঝামাঝি সময়ে তা কেটে যায়। বেলা ১২টার দিকে ঢাকা শেয়ারবাজারে প্রধান সূচকটির উন্নতি ঘটে প্রায় ৩০ পয়েন্ট। তবে ওই সময় নতুন করে বিক্রয়চাপ তৈরি হওয়ায় বৃদ্ধি পাওয়া সূচক টিকে থাকেনি। এ সময় উভয় বাজারে ব্যাংকিং খাতের বেশ কিছু ভালো কোম্পানিতে বিনিয়োগকারীদের যেমন আগ্রহ দেখা যায় তেমনি অন্যান্য খাতের মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিগুলোর বেলায়ও এ প্রবণতা দেখা যায়।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল ১ দশমিক ২৬ পয়েন্ট অবনতির শিকার হয়। ৪ হাজার ৯৫৪ দশমিক ৮৬ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করা সূচকটি দিনশেষে স্থির হয় ৪ হাজার ৯৫৩ দশমিক ৬০ পয়েন্টে। একই সময়ে বাজারটির দুই বিশেষায়িত সূচকের মধ্যে মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানি নিয়ে গড়া ডিএসই-৩০ ৮ দশমিক ৭৭ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়। আবার ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গড়া সূচক ডিএসই শরিয়াহ হারায় ১ দশমিক ২৩ পয়েন্ট।

দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) প্রধান সূচক সিএএসপিআই গতকাল ২৮ দশমিক ২১ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখে। এখানে দুই বিশেষায়িত সূচক সিএসই-৩০ ও সিএসসিএক্স সূচকের উন্নতি ঘটে যথাক্রমে ৬৬ দশমিক ২১ ও ২২ দশমিক ৯২ পয়েন্ট।

দিনের বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায় আগের দিনের মতো গতকালও ব্যাংকিং খাতে বিনিয়োগকারীদের বেশ আগ্রহ ছিল। ফলে লেনদেনে এ খাতের কয়েকটি কোম্পানিকে এগিয়ে থাকতে দেখা যায়। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ ‘জেড’ গ্রুপের কোম্পানিগুলোতে ভর করলেও সম্প্রতি ডিএসইর নেয়া সিদ্ধান্ত তাদের বিনিয়োগ ভাবনায় পরিবর্তন আনতে বাধ্য করেছে। ফলে গতকাল মৌলভিত্তিহীন কোম্পানিগুলোর একটি বড় অংশই বড় ধরনের দরপতনের শিকার ছিল, যা দিনের সূচকের অবনতিতে ভূমিকা রেখেছে।

এ দিকে পুঁজিবাজার থেকে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের ২০ লাখ শেয়ার কেনার ঘোষণা দিয়েছেন কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী। সোমবার দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তিনি তার শেয়ার কেনার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে দেয়া ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বাজার থেকে স্কয়ার ফার্মার ২০ লাখ শেয়ার কেনা সম্পন্ন করবেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী। মূল বাজারের পাশাপাশি ব্লক মার্কেটের মাধ্যমেও তিনি এই শেয়ার কেনার কথা জানিয়েছেন।

ঢাকার পুঁজিবাজারে গতকাল দিন শেষে স্কয়ার ফার্মার প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল ২০২ টাকা ৪০ পয়সা। সোমবার কোম্পানিটির শেয়ারের দর ছিল ২০০ টাকা ৪০ পয়সা। সেই হিসাবে ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরীর দেয়া ঘোষণা অনুযায়ী ২০ লাখ শেয়ারের বাজারমূল্য দাঁড়ায় ৪০ কোটি টাকা। নিজের কোম্পানির শেয়ারে এই বিনিয়োগ করবেন তিনি। কোম্পানির এমডির শেয়ার কেনার ঘোষণায় গতকাল ঢাকার বাজারে স্কয়ার ফার্মার প্রতিটি শেয়ারের দাম ২ টাকা বা ১ শতাংশ বেড়েছে। আর দিনশেষে ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ কোম্পানি হিসেবে নিজের জায়গা করে নেয় কোম্পানিটি। ডিএসই থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে এর আগে গত মার্চে কোম্পানির চারজন উদ্যোক্তা পরিচালক প্রতিজন ১৫ লাখ করে মোট ৬০ লাখ শেয়ার কেনার ঘোষণা কার্যকর করেছেন

সবশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে স্কয়ার ফার্মা সম্মিলিতভাবে ২ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকার রেকর্ড মুনাফা করেছে। এই মুনাফা থেকে কোম্পানি ওই অর্থবছরের জন্য শেয়ারধারীদের মধ্যে লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণ করেছে এক হাজার ৬৪ কোটি টাকা। গত অর্থবছর কোম্পানিটি রেকর্ড মুনাফার পাশাপাশি শেয়ারধারীদের জন্য রেকর্ড ১২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে।

ডিএসইর প্রকাশিত তথ্য অনুসারে গত এক বছরের মধ্যে স্কয়ার ফার্মার শেয়ারের দাম এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। এই এক বছরের মধ্যে কোম্পানিটির শেয়ারের সর্বোচ্চ দাম উঠেছিল ২৩২ টাকা।

গতকাল ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষ কোম্পানি ছিল স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস। ১৪ কোটি ২৮ লাখ টাকায় কোম্পানিটির ৭ লাখ ৫ হাজার শেয়ার হাতবদল হয়। ১৩ কোটি ২১ লাখ টাকায় ৫৪ লাখ ৮৯ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে দিনের দ্বিতীয় কোম্পানি ছিল ব্যাংকিং কোম্পানি উত্তরা ব্যাংক। লেনদেনে ডিএসইর শীর্ষ দশ কোম্পানির তালিকায় আরো ছিল যথাক্রমে ওরিয়ন ইনফিউশন, সায়হাম কটন মিলস, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানি, সিটি ব্যাংক, রহিমা ফুড করপোরেশন, সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ ও রবি আজিয়াটা।

দিনের লেনদেনে ডিএসইর মূল্যবৃদ্ধিতে শীর্ষ কোম্পানি ছিল বিবিধ খাতের জিকিউ বলপেন। কোম্পানিটির মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল ৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ। ৬ দশমিক ৫১ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি পেয়ে এ তালিকার দ্বিতীয় কোম্পানি ছিল টেকনোড্রাগ লি:। মূল্যবৃদ্ধিতে ডিএসইর শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে এনভয় টেক্সটাইলস, ফার্স্ট জনতা ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড, শাইনপুকুর সিরামিকস, প্রাইম ফিন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, মতিন স্পিনিং, বিডিকম অনলাইন, রহিম টেক্সটাইলস ও শাশা ডেনিমস।