পাটগ্রামে ইউএনও ও এসিল্যান্ড না থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির

Printed Edition

পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) সংবাদদাতা

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এক সাথে অনুপস্থিত থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে জমির খাজনা খারিজসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পাটগ্রাম উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাসিব উল আহসানকে গত বছরের ১৪ অক্টোবর বদলি করা হয়। এরপর থেকে প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে এ পদটি শূন্য রয়েছে। ওই সময় থেকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে পর্যায়ক্রমে তৎকালীন ইউএনও নুরুল ইসলাম, জিল্লুর রহমান ও উত্তম কুমার দাশ এসি ল্যান্ডের দায়িত্ব পালন করেন। চলতি বছরের ৮ ডিসেম্বর উত্তম কুমার দাশ বদলি হলে ৯ ডিসেম্বর নতুন ইউএনও হিসেবে পাটগ্রামে যোগ দেন সানজিদা আক্তার।

উপজেলা পরিষদ সূত্র জানায়, ইউএনও সানজিদা আক্তার গত ১৮ ডিসেম্বর অফিস শেষে ঢাকায় যান একটি প্রশিক্ষণে অংশ নিতে। সেখানে তিনি পারিবারিক ও ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এ ছাড়া গত এক সপ্তাহ ধরে ইউএনও ও দীর্ঘদিন ধরে এসি ল্যান্ড না থাকায় উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে। বিশেষ করে ভূমি অফিসে জমির খাজনা খারিজ, নামজারি ও সংশ্লিষ্ট কাজ বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ভূমি অফিসে খাজনা খারিজ করতে আসা এক ভুক্তভোগী জানান, খারিজ শেষ করে জমি বিক্রির মাধ্যমে মেয়ের বিয়ে ও পারিবারিক খরচ চালানোর পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু এসি ল্যান্ড না থাকায় তিনি কাজটি সম্পন্ন করতে পারছেন না।

গতকাল বুধবার সরেজমিন উপজেলা পরিষদে গিয়ে দেখা যায়, অফিস খোলা থাকলেও অনেক দফতরে কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতি নেই। প্রশাসনের মূল চালিকাশক্তি ইউএনও অনুপস্থিত থাকায় কর্মচারীদের মধ্যে গাফিলতির প্রবণতাও লক্ষ্য করা গেছে। এ বিষয়ে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দারের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত এসি ল্যান্ড পদে কর্মকর্তা নিয়োগ ও ইউএনওর কার্যকর উপস্থিতি নিশ্চিত করে প্রশাসনিক সেবা স্বাভাবিক করা হোক।