ঢাকায় এলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন
বৃহস্পতিবার পরিচয়পত্র পেশ
Printed Edition
কূটনৈতিক প্রতিবেদক
বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসাবে দায়িত্ব নিতে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকা পৌঁছেছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারা হজরত শাহজালাল (রহ:) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান।
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন আগামী বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নেবেন। এর প্রস্তুতি হিসেবে তিনি পররাষ্ট্রসথচিব আসাদ আলম সিয়ামের সাথে সাক্ষাৎ ও রাষ্ট্রাচার অনুবিভাগের প্রধান নুরল ইসলামের সাথে বৈঠক করবেন।
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এ ছাড়া তিনি মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোতে বাংলাদেশের কান্ট্রি অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এখন যুক্তরাষ্ট্রের ঢাকা মিশনে তিনি পিটার হাসের উত্তরসূরি হবেন। পিটার হাস ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তদশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে ২০২২ সালের মার্চ থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। অন্তর্বর্তী সময়ে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের শার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স (ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন।
মার্কিন দূতাবাসের ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অফ স্টেটের সিনিয়র অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই ভূমিকায় তিনি নিরাপত্তা সহযোগিতা, সন্ত্রাসবাদ দমন, মাদকদ্রব্য দমন এবং অস্ত্র বিস্তার রোধে পররাষ্ট্র দফতরের বিশ্বব্যাপী প্রচেষ্টা তদারকি করেছেন। সিনিয়র ফরেন সার্ভিসের একজন সদস্য হিসাবে ক্রিস্টেনসেন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের কমান্ডারের বৈদেশিক নীতি উপদেষ্টা এবং ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সেলর হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া তিনি ফিলিপাইন, এল সালভাদর এবং ভিয়েতনামে যুক্তরাষ্ট্র মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার অন্যান্য অভ্যন্তরীণ ভূমিকার মধ্যে রয়েছে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অস্ত্র স্থানান্তর অফিস, রাজনৈতিক-সামরিক বিষয়ক ব্যুরো, উত্তর কোরিয়া নীতিবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধির বিশেষ সহকারী, মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির ফেলো এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোতে বাংলাদেশের কান্ট্রি অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা। ক্রিস্টেনসেন মার্কিন ফেডারেল লেবার রিলেশনস অথরিটির অংশ, ফরেন সার্ভিস ইমপেসেস ডিসপিউটস প্যানেলের দুইজন ক্যারিয়ার ফরেন সার্ভিস সদস্যের একজন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
ন্যাশনাল ওয়ার কলেজের স্নাতক রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি টেক্সাস এঅ্যান্ডএম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিসংখ্যানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং রাইস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি ও ব্যবস্থাপনা স্টাডিজে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ক্রিস্টেনসেন স্প্যানিশ, জার্মান এবং ভিয়েতনামী ভাষায় কথা বলতে পারেন এবং ফরাসি, জাপানি এবং পর্তুগিজ ভাষায় পড়াশোনা করেছেন। ২০০২ সালে ফরেন সার্ভিসে যোগদানের আগে তিনি হিউস্টন এবং নিউ ইয়র্ক সিটিতে ব্যবস্থাপনা পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করেছিলেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর সেপ্টেম্বরে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। সিনেট শুনানির পর অনুমোদন পাওয়ায় গত মাসে তার নিয়োগ চূড়ান্ত হয়। আর গত শনিবার বাংলাদেশের ১৮তম রাষ্ট্রদূত হিসেবে শপথ নিয়েছেন ক্রিস্টেনসেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরে ডেপুটি সেক্রেটারি অব স্টেট মাইকেল আর ম্যাকফাউল ক্রিস্টেনসেনকে শপথ বাক্য পাঠ করান। এ সময় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান।
সিনেটের কমিটি অন ফরেন রিলেশন্সের শুনানিতে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেছিলেন, আমি যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ক এগিয়ে নিতে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এবং এর গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত উত্তরসূরি উভয়ের সাথে শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তুলতে ঢাকা দূতাবাসের টিমকে নেতৃত্ব দেয়ার প্রত্যাশায় রয়েছি। নতুন এশিয়ান টাইগারদের মধ্যে একটি হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক অগ্রগতি করেছে। প্রচণ্ড চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে বাংলাদেশ এখন স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা থেকে উত্তরণের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। বাংলাদেশের জনগণের এই অধ্যবসয়ের প্রতি সত্যিকারের শ্রদ্ধা জানাতে হয়। তিনি বলেন, রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব নিশ্চিত হলে আমি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসার সুযোগ বাড়াতে, বাণিজ্য বাধা ও বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে এবং যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে কাজ করব।