কাশফুলে সুতা, রাসায়নিক ছাড়াই কাপড় রঙ- ডুয়েটের ৩ উদ্ভাবন
Printed Edition
গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি
কাশফুলের আঁশে সুতা, রাসায়নিক ছাড়াই কাপড় রঙ এবং ময়লা-আবর্জনা থেকে জ্বালানি- স্থানীয় সমস্যার সমাধানে এমন তিন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি নিয়ে বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬-এ অংশ নিয়েছে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর। গবেষকদের এসব প্রকল্পে এক দিকে উৎপাদন খরচ কমানোর সম্ভাবনা, অন্য দিকে পানি ও পরিবেশদূষণ কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
‘ইনোভেট টু মার্কেট’ প্রতিপাদ্যে রাজধানীর বিজয় সরণির ভাসানী নভোথিয়েটারে গত ১২ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী এ মেলা শেষ হবে আজ। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আয়োজিত এ মেলায় সরকারি-বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ৭৩টি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষক, শিক্ষার্থী, স্টার্টআপ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান (এসএমই) ও বিনিয়োগকারীরা অংশ নিয়েছেন। প্রদর্শিত হচ্ছে প্রযুক্তি, ব্যবসা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও পরিবেশসহ বিভিন্ন খাতের এক হাজারের বেশি উদ্ভাবন।
ডুয়েটের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহজালাল খন্দকারের তত্ত্বাবধানে পিএইচডি গবেষক ইয়াসিন আরাফাতের গবেষণায় কাশফুলের আঁশকে তুলার আংশিক বিকল্প হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাই করা হয়েছে। গবেষণায় ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত কাশফুলের আঁশ মিশিয়ে তৈরি সুতা কাপড় তৈরির উপযোগী পাওয়া গেছে। ৪০ শতাংশ কাশফুল মিশ্রণেও বাণিজ্যিকভাবে গ্রহণযোগ্য মানের সুতা পাওয়া গেছে। সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ অনুপাত হিসাবে ২৭.৭ শতাংশ কাশফুল ও ৭২.৩ শতাংশ তুলার মিশ্রণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে সুতা উৎপাদন খরচ প্রায় ১১.৭ শতাংশ কমতে পারে।
অধ্যাপক ড. মো: আব্দুল হান্নানের তত্ত্বাবধানে নুসরাত জাহান খানের প্রকল্পে লবণ ও ক্ষার ছাড়াই শুধু গরম পানি ব্যবহার করে তুলা রঙ করার পদ্ধতি উদ্ভাবন করা হয়েছে। এতে রাসায়নিকের ব্যবহার বন্ধের পাশাপাশি পানির অপচয় ৬৬ শতাংশ এবং দূষিত বর্জ্য পানি ৭৩ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর দাবি করা হয়েছে। একই রঙের পানি ১০ বার পর্যন্ত পুনর্ব্যবহার করা সম্ভব।
এ ছাড়া অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুবুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে শেখ রেজওয়ানুল হকসহ গবেষকরা ‘ব্রিকুয়েট মেশিন’ তৈরি করেছেন। মেশিনটি পচনশীল ও দাহ্য আবর্জনাকে তিন ধাপে জ্বালানির উপযোগী কয়লায় রূপান্তর করতে পারে। এতে বর্জ্য ও বায়ুদূষণ কমানোর পাশাপাশি স্বল্পমূল্যে জ্বালানি সরবরাহ এবং গ্রামীণ ও ক্ষুদ্র শিল্পে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।