স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে প্রতিপালন হবে : সালাহউদ্দিন আহমেদ

সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেয়ার ব্যাখ্যা

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘শপথ পড়ানোর দায়িত্ব কার থাকবে, তা সংসদ নির্ধারণ করবে। সংবিধান সংশোধন হবে। তারপর দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি শপথবাক্য পাঠ করাতে পারে।’ তিনি আরো বলেছেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে যেভাবে স্বাক্ষর করা হয়েছে, সেটা আমরা অক্ষরে অক্ষরে প্রতিপালন করতে অঙ্গীকারবদ্ধ ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ার পরে এবং বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠক শেষে সালাহউদ্দিন এ মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসিরউদ্দিন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান। তবে তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।

সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেয়ার ব্যাখ্যা দিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘গণভোটের রায় অনুসারে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে হলে সংসদে যেতে হবে আগে এবং সংসদে প্রয়োজনীয় আইন ও সংবিধান সংস্কার করতে হবে। সেটা সংশোধন করার পরে যিনি শপথবাক্য পাঠ করাবেন, তার পদমর্যাদা এবং সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে শপথের ফর্ম সংযুক্ত হবে।’

সালাহউদ্দিন বলেন, ‘এখন বিদ্যমান সংবিধানে ১৪৮ অনুচ্ছেদের ২(ক)-এ বলা আছে, স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকার যদি শপথ পাঠ করাতে না পারেন, অপারগতা প্রকাশ করেন বা তাদের পাওয়া না যায়, তাদের মনোনীত প্রতিনিধি যদি তা না করেন তিন দিনের মধ্যে, তাহলে পরবর্তীতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন।’

তিনি বলেন, ‘সেই বিধান অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার সাংবিধানিকভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে আমাদের শপথ পাঠ করিয়েছেন। এখানে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে কোনো বিধান সংবিধানে নেই এবং তারও (সিইসি) শপথ পাঠ করানোর এখতিয়ার নেই।’

সালাহউদ্দিন বলেন, ‘সে বিবেচনায় তিনি (সিইসি) আমাদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করানোর জন্য এপ্রোচও করেননি, আমরাও শপথ গ্রহণ করিনি। যেহেতু সেখান থেকে এপ্রোচ করা হয়নি। সাংবিধানিকভাবেই সমস্ত কিছু পরিচালিত হওয়া দরকার। এ পর্যন্ত আমরা সাংবিধানিক পদ্ধতি মেনেই এসেছি। আগামীতেও আমরা সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চাই।’

বিএনপির এই নেতা জানান, সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর তারেক রহমান দলের সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে দুটি নির্দেশ দিয়েছেন ১. কোনো সংসদ সদস্য ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি নেবেন না। ২. সংসদ সদস্য হিসেবে সরকারি কোনো প্লট গ্রহণ করবেন না। তিনি বলেন, আজ থেকে পরিবর্তনের শুরু। সংসদ সদস্য হলেই কেউ বিশেষ সুবিধাভোগী হবে, এ ধারণা বদলাতে হবে।