নেত্রকোনা-৩ আসন
বিদ্রোহী প্রার্থীর চ্যালেঞ্জের মুখে বিএনপি প্রার্থী
Printed Edition
আবু বকর ছিদ্দিক কেন্দুয়া (নেত্রকোনা)
নেত্রকোনা-৩ সংসদীয় আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী। নির্বাচনী মাঠে নানা প্রতিবন্ধকতা, ভয়ভীতি ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে ধানের শীষের প্রার্থীসহ তাঁর কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। তাঁদের অভিযোগ, সাধারণ ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে নিরুৎসাহিত করতে মামলা-হামলার ভয় দেখানো হচ্ছে, প্রচারে বাধা দেয়া হচ্ছে এবং কোথাও কোথাও শারীরিক হামলার ঘটনাও ঘটছে। পাশাপাশি বিধিবহির্ভূত নানা প্রতিশ্রুতি ও ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য পুলিশি হয়রানির আশঙ্কা সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে। সচেতন মহলের আশঙ্কা, সরকারিভাবে বিশেষ ব্যবস্থা না নেয়া হলে ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কমে যেতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনীতিবিদরা।
এবারের নির্বাচনে স্বতন্ত্রসহ মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপি থেকে প্রার্থী হয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ও নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম হিলালী। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কেন্দুয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া (দুলাল)। জামায়াতে ইসলামী থেকে অধ্যাপক খায়রুল কবির, জাতীয় পার্টি থেকে আবুল হোসেন তালুকদার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে জাকির হোসেন এবং ইসলামী ফ্রন্ট থেকে শামছুদ্দোহা প্রার্থী হয়েছেন।
জানা যায়, কেন্দুয়া ও আটপাড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটি একসময় আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। পরবর্তীতে বিএনপির ভোটব্যাংকে পরিণত হয় বলে স্থানীয়দের ধারণা। সাধারণ ভোটারদের একটি অংশ মনে করেন, নির্বাচন যদি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপে হয়, তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি প্রার্থী ও বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে। তবে কেউ কেউ জামায়াতসহ ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রা বলেন, ভয়ভীতি ও সহিংসতা চলতে থাকলে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। সরকারি উদ্যোগ ছাড়া এই আসনে ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করা কঠিন হবে। নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১৪৯টি। মোট ভোটার চার লাখ ২০ হাজার ৬৮৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার দুই লাখ ১৪ হাজার ৮৮৪ জন, নারী ভোটার দুই লাখ পাঁচ হাজার ৭৯৪ জন এবং হিজড়া ভোটার ৯ জন।