ভরা মৌসুমেও শীতের সবজির দামে ঊর্ধ্বগতি

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

এক সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারে শীতের সবজির দাম আবারো বেড়েছে। ভরা মৌসুমেও টমেটোসহ প্রায় সব শীতকালীন সবজির দাম বাড়তি থাকায় ক্রেতাদের মধ্যে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, তীব্র শীতের কারণে মাঠ থেকে সময়মতো সবজি তোলা যাচ্ছে না, ফলে সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

গতকাল রাজধানীর কাওরান বাজার, নাখালপাড়া, হাতিরপুল ও মিরপুর-১১ কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বছরের এই সময়ে সাধারণত টমেটোর দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে থাকলেও বর্তমানে পাকা, কাঁচা ও আধাপাকা- সব ধরনের টমেটোই বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগেও পাকা টমেটো পাওয়া গেছে ৮০ টাকায়।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক সপ্তাহ আগে মাঝারি আকারের ফুলকপি যেখানে ১৫ থেকে ২৫ টাকায় মিলছিল, এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়। মুলার দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ টাকায়, বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। শিমের দাম ২০ টাকা বেড়ে কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৭০ টাকায় উঠেছে। আলু কিছুটা বেড়ে কেজিতে ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শালগম, পেঁপে ও ব্রকলি কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ঢেঁড়স ও পটোলের দাম ৯০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে।

সবজির দামের এই ঊর্ধ্বগতির পেছনে আবহাওয়াকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা। কাওরান বাজারের সবজি বিক্রেতা শরিফুল ইসলাম বলেন, তীব্র শীতে ঢাকার বাইরে থেকে সবজি আসছে কম। কৃষকরা ক্ষেত থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী সবজি তুলতে পারছেন না। ফলে বাজারে সরবরাহ কমে গেছে, যার প্রভাব পড়েছে দামে।

এ দিকে আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, দেশের কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং আগামী পাঁচ দিনে আবহাওয়ার বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। তীব্র শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ায় কৃষি উৎপাদন ও সরবরাহেও প্রভাব পড়ছে।

ক্রেতাদের অভিযোগ, মৌসুমে সবজির দাম এমন থাকার কথা নয়। নাখালপাড়া বাজারের ক্রেতা আল আমিন বলেন, সবজির দাম এখনই বাড়তি, রোজা সামনে রেখে আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা হচ্ছে। আরেক ক্রেতা বলেন, এই সময়ে পাকা টমেটোর দাম সাধারণত ৪০-৫০ টাকার মধ্যে থাকে, কিন্তু এখন দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা শীতের কথা বললেও খবরে দেখা যায় কৃষক ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না- এই বৈপরীত্যও প্রশ্ন তৈরি করছে।

তবে সবজির বাইরে কয়েকটি নিত্যপণ্যের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। গত সপ্তাহের মতোই ফার্মের বাদামি ডিম ডজনপ্রতি ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৫৫ থেকে ১৬৫ টাকা এবং সোনালি জাতের মুরগি প্রতি কেজি ২৪০ থেকে ২৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। গরুর গোশত কেজিপ্রতি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারেও বড় ধরনের পরিবর্তন নেই। পাঙাশ কেজিতে ১৭০ থেকে ২০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৫৩০ টাকা, কৈ ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, রুই ৩২০ থেকে ৪২০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৮০ টাকা, কাতলা ৩৪০ থেকে ৪৪০ টাকা এবং শিং ৩৪০ থেকে ৬৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শীতের ভরা মৌসুমেও সবজির দাম বাড়তি থাকায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের ব্যয়চাপ আরো বেড়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে সরবরাহ বাড়বে। তখন দাম কিছুটা কমতে পারে- এমন আশার কথাই বলছেন তারা।