ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবস উদযাপন

Printed Edition

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার পরিবেশ সংরক্ষণে বাংলাদেশকে নেতৃত্বের ভূমিকা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের বৃহত্তম বদ্বীপ। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন, দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত এবং বৃহত্তম গভীর-সমুদ্র সাবমেরিন ফ্যানও বাংলাদেশে অবস্থিত। তাই পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বৈশ্বিক নেতৃত্বের ভূমিকাও বাংলাদেশকেই নিতে হবে।

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে বিশ্ব পরিবেশ দিবস এবং বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে প্রফেসর ফারহাত আনোয়ার এসব কথা বলেন। ৮ ও ৯ আগস্ট ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির মেরুল বাড্ডা ক্যাম্পাসে দুই দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এর আয়োজন করে ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ (সিথ্রিইআর) এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি। জাতিসঙ্ঘের উদ্যোগে ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস এবং ২৮ জুলাই বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবস পালন করা হয়ে থাকে।

প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দেশজুড়ে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে। বিভিন্ন অঞ্চলের জন্য উপযোগী গাছের প্রজাতি নির্ধারণে ইতোমধ্যে ম্যাপিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো: সাইমুম পারভেজ। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ‘রিডিউস, ‘রিইউজ’ এবং ‘রিসাইকেল’ বা ‘থ্রিআর নীতি’র গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। তিনি সার্কুলার অর্থনীতির ওপরও গুরুত্ব দেন, যেখানে বর্র্জ্যকে পুনরায় ব্যবহারযোগ্য সম্পদে পরিণত করা হয়। এ কাজে সরকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংকসহ সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ইমেরিটাস অধ্যাপক ও সিথ্রিইআর-এর উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আইনুন নিশাত বলেন, বাংলাদেশ যে অপরাধ করেনি, তার পরিণতিই আজ ভোগ করছে। তিনি বলেন, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বাংলাদেশ ৪০ থেকে ৫০টি আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এসব অঙ্গীকারের আরো কার্যকর বাস্তবায়নের পাশাপাশি দেশের নিজস্ব দায়বদ্ধতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।