সিইসির সাথে বৈঠক শেষে ড. হামিদ
লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড রাখতে না পারলে জামায়াত নিজের মতো ব্যবস্থা নেবে
Printed Edition
বিশেষ সংবাদদাতা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নেই। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সবার জন্য সমান সুযোগ যদি রাখতে ব্যর্থ হয় তাহলে জামায়াত ‘নিজেদের মতো ব্যবস্থা নিবে’ বলে জানিয়েছেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার আগেই কিছু দলের প্রার্থীরা মাঠে প্রচার চালাচ্ছেন, কিন্তু অন্য দলগুলোর বিরুদ্ধে উল্টো অভিযোগ, হয়রানি ও বিচ্ছিন্ন ঘটনার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কিছু প্রার্থীকে জরিমানা করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে নির্বাচন কর্মকর্তারা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। মাঠ প্রশাসনের এটা বৈষম্যমূলক আচরণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে গতকাল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদিনের সাাথে বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের কাছে তিনি এ মন্তব্য করেন। জামায়াত প্রতিনিধি দলে ছিলেন, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মো: মোবারক হোসাইন ও অ্যাডভোকেট মো: জসিম উদ্দিন সরকার।
ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সবার অংশগ্রহণে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করাই এখন সবচেয়ে জরুরি। ইসি যদি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো। ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা ও সিসিটিভি স্থাপনও জরুরি বলে উল্লেখ করেন এ জামায়াত নেতা। তিনি বলেন, আমরা কথা বলে জেনেছি, সব বিদ্যালয়ে সিসিটিভি নেই। স্থানীয় প্রশাসনের ওপর বিষয়টি ছেড়ে দিলে বাস্তবায়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
তাই সরকারি অর্থায়নে সব কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপনের দাবি জানিয়েছি আমরা। তিনি বলেন, ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক এটাই প্রত্যাশা। তবে সে নির্বাচন হতে হবে অতীতের বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন থেকে মুক্ত, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য।
নির্বাচনী পরিবেশে এখনো ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত হয়নি। তফসিল অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হওয়ার কথা ২২ জানুয়ারি থেকে। অথচ এর আগেই কিছু এলাকায় বিশেষ কিছু দলের প্রার্থীরা অবাধে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
বিপরীতে আমাদের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে হয়রানি করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাচনী কর্মকর্তারা দ্বৈত নীতি অনুসরণ করছেন।
প্রণোদনা এবং বিভিন্ন ধরনের কার্ড বিতরণ ইস্যুতে বিএনপির দিকে অভিযোগ তুলে জামায়াতের এ সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, অতীতে এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে ভোটার প্রভাবিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে কার্ড বিতরণের নামে একই ধরনের তৎপরতা দেখা যাচ্ছে, যা নির্বাচনী পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে। এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করতে ইসির প্রতি আহ্বান জানিয়েছি।
তিনি বলেন, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভোট চাইতে গিয়ে অভিযোগের মুখে কিছু শিক্ষককে জরিমানা করা হলেও আচরণবিধি বাস্তবায়নে বৈষম্য থাকলে নির্বাচন পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ড. হামিদুর রহমান আযাদ জানান, কিছু রিটার্নিং কর্মকর্তা পক্ষপাতের অভিযোগে ইতোমধ্যে চিহ্নিত হয়েছেন।
ডুয়েল সিটিজেনশিপ ইস্যু নিয়েও বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর জনগণের প্রত্যাশা আরো বেড়েছে। তাই কমিশনকে দায়িত্বশীলভাবে নির্বাচন পরিচালনা করতে হবে। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ীও বিদেশে রাজনৈতিক দলের শাখা রাখা যায় না। জামায়াত এ নিয়ম মানে বলে দাবি করেছেন হামিদুর রহমান আযাদ।
বিদেশে পোস্টাল ব্যালট জামায়াতের নেতারা পাচ্ছে এ দাবি ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বাহরাইন বা বিদেশে জামায়াতের কোনো সাংগঠনিক শাখা নেই। কারণ সে দেশ রাজনৈতিক দলের শাখা অনুমোদন করে না।
উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা চলছে। বিএনপির উদ্দেশে জামায়াতের এ নেতা বলেন, ‘ঠাকুর ঘরে কে রে, আমি কলা খাই না’।
পোস্টাল ব্যালটের ক্রমবিন্যাসে বিশেষ সুবিধা দেয়া হয়েছে- এ অভিযোগ প্রসঙ্গে ড. আযাদ বলেন, প্রতীক অ্যালফাবেটিক্যাল ক্রমে সাজানো হয় এবং ইসির ব্যাখ্যা অনুযায়ী এখানে কোনো বিশেষ সুবিধা দেয়া হয়নি।
বিকাশ নম্বর দিয়ে অর্থ পাঠানোর অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমরা এ ধরনের কোনো কার্যক্রম করি না।
বেশ কিছু বিষয়ে কমিশন আশ্বাস দিয়েছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, আশা করি এসব ব্যবস্থা বাস্তবে কার্যকর হবে।