জেলায় জেলায় উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ

Printed Edition
bangla-1
বান্দরবানে ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত বিজিবি সদস্যরা : নয়া দিগন্ত

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

দেশের বিভিন্ন জেলায় শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে গতকাল অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এক নাগারে ভোট গ্রহণ চলে। সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। প্রথমবারের ভোটার থেকে শুরু করে প্রবীণ ও নারী ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে কেন্দ্রগুলো প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে ওঠে। কোথাও কোথাও প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের সরব উপস্থিতি থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় সামগ্রিক পরিস্থিতি ছিল নিয়ন্ত্রণে। ভোটাধিকার প্রয়োগের মধ্য দিয়ে জনগণ তাদের প্রত্যাশা ও মতামত ব্যালটের মাধ্যমে ব্যক্ত করেছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা।

গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, গাজীপুর-৫ (কালিগঞ্জ, পুবাইল, বাড়িয়া) আসনে সকাল থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি দেখা গেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় পরিবেশ শান্ত রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। তবে কয়েকটি কেন্দ্রে একই বুথে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর একাধিক এজেন্ট থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরেজমিন কালীগঞ্জের জামালপুর ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের ১ নম্বর মহিলা বুথে ধানের শীষ প্রতীকের তিনজন এজেন্টকে একসাথে অবস্থান করতে দেখা যায়। পরে বিষয়টি নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে উপস্থিত ভোটাররা।

এ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো: খাইরুল হাসান বলেন, সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছে, যা গণতন্ত্রের জন্য একটি ইতিবাচক দিক। তবে কিছু কিছু স্থানে ধানের শীষের এজেন্ট ও নেতাকর্মীরা প্রভাব বিস্তার ও অনিয়মের চেষ্টা করছে বলে তার কাছে তথ্য এসেছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় এসব বিচ্ছিন্ন অনিয়ম দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসবে।

দিনাজপুর প্রতিনিধি জানান, জেলায় মোট ৬০ শতাংশের অধিক ভোটগ্রহণ হয়েছে। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া দিনাজপুরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রার্থীর কর্মীরা ভোট কেন্দ্রের আশপাশের নিষিদ্ধ এলাকায় মিছিল বের করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সদর-৩ আসনের মহারাজা হাই স্কুল কেন্দ্র, ইকবাল হাইস্কুল কেন্দ্র ও আদর্শ কলেজ কেন্দ্রের বাইরে ধানের শীষ প্রার্থীর কর্মীরা মিছিল পিকেটিং করেছে।

এ ব্যাপারে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কাছে অভিযোগ দেয়া হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। কিন্তু কর্তব্যরত বাহিনীর টহল টিম সরে গেলে আবারো মিছিল ও পিকেটিং করতে দেখা গেছে। এ আসনের ৩ নং ফাজিলপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আয়েশা সিদ্দিকা (২৮) তার পশ্চিম মহারাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে গিয়ে দেখেন তার ভোট আগেই দেয়া হয়ে গেছে। ভোট দিতে না পারায় তিনি ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তার ভোটার নম্বর ছিল ২৭০৯৩৯২৬৫৪৬১ এবং সিরিয়াল নম্বর ০১২ ।

ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) সংবাদদাতা জানান, ১২ই ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

বিরামপুর-হাকিমপুর-নবাবগঞ্জ-ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর-৬) আসনে উৎসবমুখোর পরিবেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সকাল থেকে মহিলা ও তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি বেশ চোখে পড়ার মত ছিল। ঘোড়াঘাট উপজেলায় ৩৬টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ২২টি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন ছিল। পুলিশ, আনছার, বিজিপি ও সেনাবাহিনীর নজরদারিও জোরদার ছিল। ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রতীকে ভোট দিয়ে বেশ খুশি। ভোট চলাকালীন কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি জানান, সকাল সাড়ে ৭টার আগে থেকেই নারী পুরুষ ভোটাররা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে দেখা যায়। বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটারদের উপস্থিতিও বাড়তে থাকে। সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া ভোট চলে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। জেলার ২০৩টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলে। প্রতিটি কেন্দ্রে তিনজন পুলিশ ও ১৩ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া জেলায় ৩৭ প্লাটুন বিজিবি, সেনাবাহিনী ও র‌্যাব স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোতায়েন ছিল। ৯ উপজেলায় চারজন জুডিশিয়াল ও ১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে ছিলেন।

বরিশাল ব্যুরো জানায়, নগরীতে ভোটার উপস্থিতি কম, গ্রামে উপস্থিত বেশি ছিল। সদরের ১৭৬টি ভোটকেন্দ্রে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে নগরীর নূরিয়া স্কুল, জিলা স্কুল, একে স্কুল, অশ্বিনী কুমার টাউন হল ও মহিলা কলেজ ভোটকেন্দ্র ঘুরে সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ভোটারদের খুব একটা উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি। বেলা বাড়ার সাথে সাথে নারী ভোটারদের উপস্থিতি বাড়তে দেখা গেছে মহিলা কলেজ ও অশ্বিনী কুমার টাউনহল কেন্দ্রে। তবে গাঁও-গ্রামের ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল অনেক বেশি। ভোটের আমেজটাও ছিল বেশ উৎসবমুখর। সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতাও ছিল চোখে পড়ার মত।

বান্দরবান প্রতিনিধি জানান, জেলার ১৮৬টি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভিন্ন জায়গার দুর্গম এলাকা থেকে নারী-পুরুষ ভোটাররা এসে ভোট দেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়ছে ভোট কেন্দ্রগুলোতে। বিভিন্ন কেন্দ্রে ঘুরে দেখা গেছে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল বেশি। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। বিএনপির প্রার্থী সার্চিং প্রু জেরী শহরের আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ মডেল প্রাইমারি কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন।

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি জানান, চুয়াডাঙ্গার দুই আসনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। সকাল থেকেই বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে নারী-পুরুষ ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। ভোটকেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, সেনাবাহিনী ও আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে ভোটগ্রহণ পরিচালিত হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহর সোহরাওয়ার্দী স্বরণী বিদ্যাপীঠ কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মুতাচ্ছিন বিল্লাহ বলেন, ভোটের পারসেন্ট ভালো হবে আশা করছি। ভোট দিতে এসে বয়োজ্যেষ্ঠ ভোটার রবিউল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ ২০ বছর পর ভোট দিলাম। খুব ভালো লাগছে সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পেরে।

মাদারীপুর প্রতিনিধি জানান, ভোট কেন্দ্রের ভেতর ও বাইরে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের টহল বাড়ানো হয়েছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। বিরতিহীনভাবে এই ভোট গ্রহণ চলে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। জেলার তিনটি আসনে ২৫ প্রার্থী। ৩৮১টি কেন্দ্রের মধ্যে ২২৪টি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে তিনজন করে অস্ত্রধারী পুলিশ, তিনজন অস্ত্রধারী আনসার ও ১০ জন লাঠিধারী আনসার সদস্য নিয়োজিত ছিল।

নীলফামারী প্রতিনিধি জানান, জেলার চারটি আসনের ৫৬২টি ভোট কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোট চলে। রিটার্নিং অফিসার নায়িরুজ্জামান বলেন, নীলফামারীতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ভোটগ্রহণের শেষ পর্যন্ত কোথায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি জানান, জেলায় নির্বাচনকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। দায়িত্বে রয়েছেন তিন হাজার ৪০০ সেনাসদস্য, ৩৭ প্লাটুন বিজিবি, এক হাজার ৫৯৫ জন পুলিশ, দুই হাজার ৭৬৯ জন আনসার সদস্য এবং ১২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, গোয়েন্দা সংস্থা, আনসার ব্যাটালিয়ন ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী যৌথভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। নির্বাচনী কর্মকর্তা, প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রাঙ্গুনিয়া-কাপ্তাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, রাঙ্গুনিয়ায় দুই-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে ৯২টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। রাজানগর রানীরহাট আলামিন ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে সকাল ১০টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী ডাক্তার এ টি এম রেজাউল করিমকে প্রতিপক্ষের লোকজন লাঞ্ছিত করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাঙ্গুনিয়া এসপি সার্কেল বেলায়েত হোসেন ও রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ওসি মো: আরমান জানান, এ জেলায় যথারীতি ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ময়মনসিংহ অফিস জানায়, নাসিরাবাদ কলেজ, মৃত্যুঞ্জয় স্কুল, সিটি কলেজিয়েট স্কুলসহ কয়েকটি কেন্দ্রের বাইরে বিএনপির সমর্থকরা ভোটারদেরকে ‘না’ ভোট দেয়ার পরামর্শ দিতে দেখা যায়। বেশ কিছু কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা ‘বিকল্প’ ভোট প্রদান করেছেন। তারা ‘না’ ভোট দেয়ার পাশাপাশি ৯ জন প্রার্থীর মধ্যে কাউকেই ভোট না দিয়ে ধানের শীষের পাশে শূন্য ঘরে ‘নৌকা’ এঁকে অথবা ‘জয়বাংলা’ লিখে অথবা ‘মোহিতুর রহমান শান্ত’র নাম লিখে সিল মেরে ব্যালট পেপারের ছবি তুলে একই আসনের সাবেক এমপি মোহিত-উর-রহমান শান্তকে দিয়ে দেন।

ময়মনসিংহ-১০ গফরগাঁও আসনে পাগলা থানার দিঘলবাগ কেন্দ্রে ধানের শীষে জাল ভোট দেয়ার খবর পেয়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইসমাইল হোসেন সোহেল ঘটনাস্থলে পৌঁছলে ধানের শীষের সমর্থকদের সাথে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। ময়মনসিংহ-১১ ভালুকা আসনের ভরাডোবা কেন্দ্রে ধানের শীষের সমর্থকরা বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ‘হরিণ’ প্রতীকের এজেন্টকে বের করে দেন। মেদুয়ারী ইউনিয়নের লোহাবৈ বরাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বেলা আড়াইটার দিকে এক দল তরুণ কেন্দ্রে প্রবেশ করে একটি বুথের ব্যালট পেপারে সিল মারতে শুরু করে। ভোটকক্ষে সিল মারার সিসিটিভির ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনায় আধা ঘণ্টা ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকার পর পুনরায় শুরু হয়।

ভালুকা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ফিরোজ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, সিল মারার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মোহাম্মদ হাফিজ উদ্দিনকে অব্যাহতি দিয়ে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার আবু হেনাকে দায়িত্ব দেয়া হয়। কিছু ব্যালট পেপার জব্দ করা হয়েছে বলেও স্বীকার করেন। তবে কোন প্রার্থীর সমর্থকরা করেছে, তা যাচাই করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানান, জেলার চারটি নির্বাচনী আসনে কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে বিএনপি প্রার্থী রেজা আহমেদ বাচ্ছু মোল্লা দৌলতপুর রফিকনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এবং জামায়াতের প্রার্থী উপাধ্যক্ষ বেলাল হোসেন মানিকদিয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন। কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনের জামায়াত প্রার্থী আব্দুল গফুর ভোট দেন নিমতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এবং বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী ভোট দেন মিরপুর ছত্রগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে। কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে জামায়াত প্রার্থী মুফতি আমির হামজা কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজ কেন্দ্রে এবং বিএনপি প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার কমলাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন। কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী খোকসার কমলাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এবং জামায়াত প্রার্থী আবজাল হোসেন কুমারখালী সরকারি বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন।

প্রতিটি কেন্দ্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রয়েছে। সর্বত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে।

বিশঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার কবুরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জেলা প্রশাসক ইকবাল হোসেন যুবদলের সাবেক সমন্বয়ক আব্দুল মাজেদকে পুলিশি হেফাজতে নেয়া হয়। এর পর উত্তেজনা সৃষ্টি হলে সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং রথ্যাব ওই সময় সেখানে উপস্থিত হয়। এর আগে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে যুবদল নেতা আব্দুল মজিদের ছেলে সাঞ্জিত জামায়াত সমর্থিত পাঁচজনকে আঘাত করে। এতে আহত হন কয়েকজন। তারা হলেন কবুরহাট গ্রামের আব্দুর রব, লাদেন, কাজী আব্দুস সালাম, জাকারিয়া শাওন।

পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, দুই-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে পঞ্চগড়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। পঞ্চগড়-১ আসনের আটোয়ারী উপজেলায় নমুনা ব্যালটসহ উপজেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক সুকুমার দাস বাবুকে (৪৮) তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন সংক্ষিপ্ত বিচারিক আদালত। সকালে উপজেলার আটোয়ারী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের গেটের সামনে থেকে তাকে প্রশাসনের হাতে ধরিয়ে দেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। পরে সংক্ষিপ্ত বিচারিক আদালতের বিচারক রানা পারভেজ এই আদেশ দেন।

এ ছাড়া দু’টি আসনে সন্দেহজনকভাবে কয়েকজনকে আটক করা হলেও পরে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার দু’টি আসনে মোট ২৮৬টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক কাজী মো: সায়েমুজ্জামান জানিয়েছেন, জেলায় ২০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পাঁচজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ৮০০ সেনাসদস্য, ৮৫০ জন বিজিবি সদস্য, এক হাজার ২০০ জন পুলিশ সদস্য, ৭৮ জন আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্য এবং তিন হাজার ৭৩১ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করেন।

পীরগাছা (রংপুর) সংবাদদাতা জানান, রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন সকালে তার মাকে সাথে নিয়ে ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কাউনিয়ার টেপামধুপুর ইউনিয়নের ভায়ারহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন তার মা রোকেয়া বেগম। তবে আখতার হোসেন নিজে ঢাকার ভোটার হওয়ায় এই আসনে ভোট দিতে পারেননি তিনি।

ছেলের প্রতীক ‘শাপলা কলি’ মার্কায় ভোট দিয়ে রোকেয়া বেগম আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, আল্লাহ রহম করুক, বাবা যেন উঠি যায় (জয়লাভ করে)। মাকে কেন্দ্রে নিয়ে আসা প্রসঙ্গে আখতার হোসেন বলেন, একজন সন্তান হিসেবে আমার মা আমাকে ভোট দিচ্ছেন, এই দৃশ্য দেখা আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের। আশা করছি, রংপুরের মানুষ সব বাধা উপেক্ষা করে শাপলা কলি প্রতীকেই ভোট দেবেন এবং শেষ পর্যন্ত আমরাই বিজয়ী হবো। তিনি আরো বলেন, গতকাল রাত থেকে বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন অনিয়ম ও সংঘর্ষের খবর পাচ্ছি। শাপলা কলি ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থকদের ওপর হামলা ও হুমকি দেয়া হয়েছে। এক কর্মীর স্কার্ফ খুলে নেয়া এবং মাইক কেড়ে নেয়ার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনাও ঘটেছে।

লালপুর (নাটোর) সংবাদদাতা জানান, সকাল ৮টায় ১১ দলীয় ঐক্যজোট মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মাওলানা আবুল কালাম আজাদ তার নিজ কেন্দ্র পাইকপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এসে ভোট দেন। স্বতন্ত্র (বিএনপির বিদ্রোহী) প্রার্থী তাইফুল ইসলাম টিপু সকাল সাড়ে ৭টায় বিলমাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন। বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল গৌরীপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে সকাল ১০টায় ভোট দেন।

ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন নিজের জন্য, দেশের জন্য ভোট দিলাম। নিরপেক্ষ ও সুন্দর পরিবেশে ভোট গ্রহণ সম্পূর্ণ হলে ধানের শীষের বিজয়ী হবে ইনশা আল্লাহ। আবুল কালাম আজাদ বলেন, দীর্ঘ কয়েক বছর পর ভোট দিতে পেরে নিজের কাছে খুব ভালো লাগছে। ভোটের পরিবেশ সুন্দর আছে। জয়-পরাজয় যেটাই হোক, আমরা মেনে নেবো। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ সম্পূর্ণ হলে দিনশেষে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী বিজয়ী হবে।

জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা জানান, কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। আন্দুলবাড়ীয়া বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা স্থানীয় ভোটার আব্দুল করিম বলেন, প্রায় ১৬ বছর ভোট দিতে পারিনি। আজ ভোরে নামাজ পড়ে সবার আগে কেন্দ্রে এসেছি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পেরে খুব ভালো লাগছে। একই কেন্দ্রের নারী ভোটার রওশন আরা বেগম জানান, অনেক বছর পর নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারলাম। লাইনে কিছুক্ষণ দাঁড়াতে হয়েছে, কিন্তু ভোট দিতে পেরে ভালো লাগছে।

চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু সকাল ৮টায় আন্দুলবাড়ীয়া বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন। তিনি বলেন, মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে আসছে। জামায়াত মনোনীত প্রার্থী রুহুল আমিন সকাল ৭টায় ধোপাখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন। তিনি বলেন, ভোটারদের উপস্থিতি আশাব্যঞ্জক। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নরসিংদী প্রতিনিধি জানান, অত্যন্ত ‘শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে’ ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। জেলার ছয়টি উপজেলার ৫টি আসনের প্রতিটি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। কয়েকটি কেন্দ্রে জাল ভোটের অভিযোগ ও প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা থাকলেও প্রশাসনের শক্ত অবস্থানের কারণে কোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

নরসিংদী জেলার পাঁচটি আসনে মোট পাঁচটি পৌরসভা ৭১টি ইউনিয়নে ৬৬৩ টি ভোট কেন্দ্রেও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ছিল। সেনাবাহিনীর ছয় শতাধিক সদস্য, পুলিশের ১৫ শতাধিক সদস্য, বিজিবির ১৩ প্ল্যাটুন সদস্য ছাড়াও র‌্যাব, আনসার ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে মাঠে ছিলেন।

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, কিছু কিছু কেন্দ্রের বাইরে প্রার্থীর সমর্থকরা বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করেছিল, এমন কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে স্ট্রাইকিং ফোর্স অ্যাক্টিভ থাকায় কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা ছাড়াই ভোটগ্রহণ কার্যক্রম শেষ হয়। নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক মো: রেজাউল করিম এজেন্ট বের করে দেয়া এবং জাল ভোটের অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। দুপুরে সোনারগাঁয়ের মেঘনা শিল্ল এলাকায় সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ ঘোষণা দেন। এর আগে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, বিএনপির প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের নেতাকর্মীরা তার এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়েছেন এবং বিভিন্ন কেন্দ্রে জাল ভোট দেয়া হয়েছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান। এ সময় তিনি নতুন করে নির্বাচনের দাবিও জানান।

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে জেলার চারটি আসনে নির্বাচন এবং গণভোট ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপারের তথ্য অনুযায়ী জেলার চারটি আসনে ৭২ দশমিক ৭৩ শতাংশ ভোট পড়েছে।

বিভিন্ন ভোট কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে ভোটাররা ভোট দিতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে এ লাইন আরো দীর্ঘ হতে থাকে। জেলার প্রতিটি কেন্দ্রে নারী-পুরুষ পৃথক লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেন। সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আরেফিন জুয়েল জানান, নির্বাচনে ভোটারের উপস্থিত ছিল মোটামুটি সন্তোষজনক। জেলার চারটি সংসদীয় আসনে ৭২ দশমিক ৭৩ শতাংশ ভোট পড়েছে। এর মধ্যে কলারোয়া উপজেলায় সার্বাধিক ভোট পড়েছে ৮১ দশমিক ৮৯ শতাংশ। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মিস্ আফরোজা আখতার বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে জেলায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। কোথাও কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। এখন চলছে ভোট গণনা।

ফরিদপুর প্রতিনিধি জানান, জেলার চরভদ্রাসন উপজেলায় ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা করার দায়ে উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি কামরুল হাসানকে (৪৩) ছয় হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। কামরুল হাসান চরভদ্রাসন উপজেলার আব্দুল মজিদ খাঁর ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম মাইন উদ্দিন মাতুব্বর।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, চরভদ্রাসন উপজেলার সদর ইউনিয়নের মৌলভীরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে তিনি ঘোরাফেরা করার সময় দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা তার কাছে কারণ জানতে চান। এ সময় তার হাতে ভোট দেয়ার কালি দেখতে পেয়ে ঘোরাঘুরি করার কোনো সদুত্তর দিতে না পারায় তাকে জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) যায়েদ হোছাইন জানান, দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১৭১(চ) ধারায় কামরুল হাসানকে ছয় হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা আদায় করার পর তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

ঘিওর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, বালিয়াখোড়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোটদানের ছবি তোলায় রেজা নামে এক যুবককে আটক করা হয়। আটক রেজা মিয়া স্থানীয় বালিয়াখোড়া গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে এবং পেশায় মুদি দোকানি। কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, রেজা ভোট দেয়ার সময় গোপন কক্ষের ভেতরে নিজের মোবাইল ফোনে ব্যালট পেপারের ছবি তুলছিলেন। বিষয়টি কেন্দ্রে দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের নজরে এলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আটক করেন এবং মোবাইল ফোনটি জব্দ করেন। উল্লেখ্য যে, নির্বাচনী আইন অনুযায়ী ভোট-কক্ষের ভেতরে মোবাইল ব্যবহার বা ছবি তোলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের প্রিজাইটিং কর্মকর্তা এস এম হাফিজুর রহমান জানান, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে ভুল স্বীকার করায় এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ করবেন না মর্মে লিখিত মুচলেকা দেয়ায় তাকে দুই ঘণ্টা পর ছেড়ে দেয়া হয়।