১৭ আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণের শুনানি বৃহস্পতিবার
Printed Edition
আদালত প্রতিবেদক
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে দেয়া চার্জশিট গ্রহণের বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেছেন আদালত। গতকাল সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এই দিন ধার্য করেন। গতকাল মামলার চার্জশিট গ্রহণের জন্য দিন ধার্য ছিল।
একই সাথে মামলায় রাষ্ট্রপক্ষকে সহায়তার জন্য তিন আইনজীবী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তারা হলেন, সিনিয়র আইনজীবী আব্দুস সোবহান তরফদার, ব্যারিস্টার এস এম মইনুল করিম এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মুস্তাফিজুর রহমান মুকুল।
গতকাল বেলা ১১টার দিকে মামলার বাদি ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের, ফাতিমা তাসনিম জুমা, শান্তা আক্তারসহ অন্যরা আদালতে উপস্থিত হন। এ সময় সাক্ষীসেলে দাঁড়িয়ে বাদি আদালতকে জানান, মামলায় নিয়োগপ্রাপ্ত আইনজীবীদের আবেদনের সাথে তিনি সম্মত।
শুনানিকালে আইনজীবীরা চার্জশিট পর্যালোচনার জন্য দুই দিন সময় চান। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মঙ্গলবার ও বুধবার সময় মঞ্জুর করেন। পর্যালোচনা শেষে বৃহস্পতিবার চার্জশিট গ্রহণ করা হবে নাকি নারাজি দেয়া হবে- সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
শুনানি শেষে আইনজীবীরা সাংবাদিকদের বলেন, শহীদ ওসমান হাদি সবসময় বলতেন- ‘আমার শত্রুর সঙ্গেও ন্যায়বিচার চাই’।
সেই আদর্শকে সামনে রেখেই তারা চার্জশিট গভীরভাবে পর্যালোচনা করতে চান, যাতে কোনো নির্দোষ ব্যক্তি শাস্তির শিকার না হন। এ মামলায় এ পর্যন্ত গ্রেফতার ১৭ জনের মধ্যে ৯ জন আদালতে জবানবন্দী দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর বেলা ২টা ২০ মিনিটে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে ওসমান হাদির ওপর দুষ্কৃতকারীরা গুলি করে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদি হয়ে পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ১২০(বি)/৩২৬/ ৩০৭/১০৯/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। এরপর গত ২০ ডিসেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা (হত্যা) সংযোজনের আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ১২ ডিসেম্বর মতিঝিল মসজিদ থেকে জুমার নামাজের পর প্রচারণা শেষ করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাওয়ার পথে পল্টন থানাধীন বক্স কালভার্ট রোডে ওসমান হাদিকে পেছন থেকে অনুসরণ করে আসা মোটরসাইকেলে থাকা আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল দাউদ ও তার সহযোগী অজ্ঞাতনামা আসামি ওসমান হাদিকে চলন্ত অবস্থায় হত্যার উদ্দেশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি করে পালিয়ে যায়।
আহত হাদিকে চিকিৎসার জন্য প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার শারীরিক অবস্থা অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে গত ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
গত ৬ জানুয়ারি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাদি হত্যা মামলায় ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ। ১৭ আসামির মধ্যে ১১ জন কারাগারে আটক রয়েছে আর বাকি ৬ জন পলাতক রয়েছেন। চার্জশিটে সাক্ষী করা হয় ৭৭ জনকে।
এ মামলার পলাতক আসামিরা হলেন- শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ, ফয়সালের সহযোগী আলমগীর হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মিরপুর এলাকার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, ফিলিপ স্মাল পিলিপস, মুক্তি আক্তার ও ফয়সলের বোন জেসমিন আক্তার।
কারাগারে আটক থাকা আসামিরা হলেন- ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা মো: হুমায়ুন কবির ও মা মোসা: হাসি বেগম, ফয়সালের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, রেন্ট-এ কার ব্যবসায়ী মুফতি মো: নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, ফয়সালের সহযোগী মো: কবির, ভারতে পালাতে সহায়তাকারী সিবিউন দিউ ও সঞ্জয় চিসিম, কাউন্সিল বাপ্পির বোন জামাই আমিনুল ইসলাম রাজু এবং সিপুর ঘনিষ্ঠ ফয়সাল (ফয়সাল করিম মাসুদ নন)।