রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে ড. আযাদ

৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কার হলে এমপিরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারতেন

Printed Edition
back-2
১১ দলীয় ঐক্যের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ড. কর্নেল (অব:) অলি আহমদের পক্ষে মনোনয়ন সংগ্রহের পর সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ : নয়া দিগন্ত

বিশেষ সংবাদদাতা

জয়-পরাজয় তাদের কাছে মূল বিষয় নয়, বরং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক করার মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সামনে নিয়ে আসাই তাদের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যজোটের সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কার করা হলে ১১ দলীয় ঐকের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ড. কর্নেল (অব:) অলি আহমদ বীর বিক্রমের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কারের আওতায় আসত। তখন সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দেয়ার সুযোগ পেতেন।

সোমবার আগারগাওস্থ নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশন থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের মনোনীত রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ড. কর্নেল (অব:) অলি আহমদ বীর বিক্রমের পক্ষে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ইসি সচিব আখতার আহমেদের কাছ থেকে তিনি এই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এ সময় ১১ দলীয় ঐক্যজোটের বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা: মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য কামাল হোসেন, ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য কর্নেল (অব:) আব্দুল বাতেন, শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রাশেদুল ইসলাম এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নূরন্নেসা সিদ্দিকা ও মারজিয়া বেগম, এলডিপির প্রতিনিধি বিল্লাল মিয়াজী, জাগপার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা মুফতি ফখরুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ফয়সাল এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মোহাম্মদ শহিদুল আলমসহ ১১ দলীয় ঐকের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ব্রিফিংয়ে ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আমরা ইলেকশনে অংশগ্রহণ করব দলীয়ভাবে, এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখানে জয়-পরাজয়টা বিষয় নয়। বিষয় হচ্ছে আমরা একটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সামনে নিয়ে আসছি। তিনি বলেন, সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রের সর্বস্তরের শাসনব্যবস্থা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিচালনার কথা বলা হয়েছে। রাষ্ট্রের প্রধান ও অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ পদ রাষ্ট্রপতির পদেও যদি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন হয়ে যায়, তাহলে গণতন্ত্রের যে চর্চা, সেটি বাধাগ্রস্ত হয়। আমরা গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে আনতে চাই, সুস্থ ধারার রাজনীতিতে দেশকে নিয়ে যেতে চাই। দেশ পরিচালনার জন্য আমরা সেই উদ্যোগই গ্রহণ করেছি।

১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত নেতা ড. আযাদ বলেন, ওই সময় সম্ভাবনার জায়গা থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়েছিল। বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল এবং জামায়াত বিএনপিকে সরকার গঠনের সুযোগ দিয়েছিল। ওই সংসদে জামায়াতের ১৮টি এবং জাতীয় পার্টির ৩৫টি আসন ছিল। অন্য দলগুলোর আসনও ছিল। তিনি বলেন, সে সময় যদি বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে সবাই মিলে একটা অবস্থান নিত, তাহলে বিএনপির প্রার্থী পরাজিত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। একটা সম্ভাবনা থেকে তখন প্রতিদ্বন্দ্বিতার জায়গা তৈরি হয়েছিল।

এবার বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে সেই সম্ভাবনা নেই; এর পরও মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করল ১১ দলীয় ঐক্য- সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, এবারো আমরা একটা বিষয় জাতির সামনে আনতে চাই। বিএনপির রাষ্ট্রের সাথে এবং জনগণের সাথে যে দ্বিচারিতা, এটা আমরা জাতির সামনে আনতে চাই। তিনি বলেন, জুলাই সনদে সবাই মিলে একমত হয়েছিল এবং এ বিষয়ে আদেশও হয়েছে। পরবর্তী সময়ে গণভোটে জনগণ তাদের রায় দিয়েছে। কিন্তু সেই রায় বিএনপি বাস্তবায়ন করেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

হামিদুর রহমান আযাদের দাবি, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কারের আওতায় আসত। তখন সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দেয়ার সুযোগ পেতেন। তিনি বলেন, এক দিকে আপনি সংসদ সদস্যকে ভোটাধিকার দিয়েছেন, আবার তার সেই অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ ও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে রেখেছেন। আপনি বলছেন, পাখির মতো স্বাধীন, কিন্তু হাত-পা বাঁধা। আমরা এই জায়গা থেকেই জাতিকে মুক্ত করতে চেয়েছি।

সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেয়ার অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি তুলে ধরে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ১১ দলীয় ঐক্য বারবার সংস্কারের কথা বলেছে। সংসদের ভেতরে ও বাইরে আন্দোলন-কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারকে বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কার করা হলে ১১ দলীয় ঐক্যের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ড. কর্নেল (অব:) অলি আহমদ বীর বিক্রমের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল।

অলি আহমদের রাজনৈতিক ও মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকার কথা তুলে ধরে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আমরা যাকে প্রার্থী দিয়েছি, তিনি একজন বর্ষীয়ান নেতা, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা, রণাঙ্গনের সাবসেক্টর কমান্ডার ছিলেন। স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি আরো বলেন, চাকরিতে আরো ৯ বছর বাকি থাকলেও রাষ্ট্রের প্রয়োজনে অলি আহমদ রাজনীতিতে আসেন। তিনি চারবার মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘তিনি একজন পিএইচডিধারী, দক্ষ কর্মকর্তা ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য একজন মানুষ, যাকে নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। এমন একজন প্রার্থী জাতি আশা করেছে।’

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারলে অলি আহমদ সবার কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হিসেবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে পারতেন। কিন্তু গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেয়ার সুযোগ তৈরি হয়নি। তিনি বলেন, এই সম্ভাবনা সমুজ্জ্বল ছিল। দুর্ভাগ্য, জাতি এখান থেকে বঞ্চিত হলো। বিএনপির বিচক্ষণতার অভাবে অথবা সংস্কারের ব্যাপারে তাদের ইতিবাচক মানসিকতা না থাকার কারণে রাষ্ট্র একজন দক্ষ ও যোগ্য মানুষের সেবা থেকে বঞ্চিত হলো।

হামিদুর রহমান আযাদ জানান, অলি আহমদের পক্ষে মনোনয়ন ফরমটি আগামী ১৩ আগস্ট বেলা ১১টায় দাখিল করা হবে।