সাক্ষাৎকার : সাইফুল হক
পথ না হারাতে অন্তর্বর্তী সরকারের রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে বোঝাপড়া জরুরি
ঐকমত্য কমিশনের কাজ হচ্ছে রাজনৈতিকদলগুলোর সাথে ঐকমত্যের জায়গাগুলো খুঁজে বের করা। কারণ পুরনো জমানায় আমরা কেউ ফিরতে চাই না।
Printed Edition
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা সাইফুল হক বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন নেই। কিন্তু আন্দোলন ও অভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে মানুষের বড় দাগের যে অর্জন সেখান থেকে এই সরকার যেনো পথ না হারায়। সরকারের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেয়াসহ কোনো কোনো ক্ষেত্রে ঘাটতি আছে এবং সেটা অভিজ্ঞতার কমতি থাকার কারণে হচ্ছে।
সাইফুল হক বলেন, এই ঘাটতি মোকাবেলা করতে না পারলে মানুষের মধ্যে সরকারের ওপর আস্থা কমবে এবং অস্বস্তি শুরু হতে পারে। সরকারকে এ কারণে সজাগ ও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, কাজের সমন্বয়টা হচ্ছে না। আওয়ামীলীগের গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে ট্রাইব্যুনালের গতি বাড়ানো দরকার। ষোল বছরের অপরাধের বিচার দৃশ্যমান হতে হবে। রাজনৈতিকদলগুলোর সাথে সরকারের বোঝাপড়া দরকার। রাজনৈতিক দল তো সরকারের প্রতিপক্ষ না। ঐকমত্য কমিশনের কাজ হচ্ছে রাজনৈতিকদলগুলোর সাথে ঐকমত্যের জায়গাগুলো খুঁজে বের করা। কারণ পুরনো জমানায় আমরা কেউ ফিরতে চাই না।
নয়া দিগন্ত : রাজনৈতিকদলের চ্যালেঞ্জগুলো তো বাড়ছেই, এগুলোর মোকাবেলা রাজনৈতিক দলগুলো কি সঠিকভাবে করতে পারছে?
সাইফুল হক : আমি এখনো আশাবাদী। অনেক চ্যালেঞ্জ থাকবে, টানাপড়েন থাকবে। এখনো মনে করি অন্তর্বর্তী সরকার ব্রডলি রাইট ট্রাকে আছে। নির্বাচন, সংস্কার, বিচারের ব্যাপারে এগুলো নিয়ে আমাদের সমালোচনা হচ্ছে সরকারের কাজে গতি বাড়ানোর জন্য। সরকার এসব কাজ ত্বরান্বিত করবে, রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আস্থা বাড়িয়ে তুলবে। তাহলে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ রিফর্ম বা সংস্কার আমরা করতে পারব। কিন্তু আওয়ামী লীগের বিষয়টি ৯ মাস পরে এসে এ রকম সিদ্ধান্ত নিতে হবে কেন। এটা কমপক্ষে ছয় মাস আগে এ রকম সিদ্ধান্ত নেয়া যেত। সরকার তো এর আগে বলেছে তারা কোনোভাবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে চাচ্ছে না। প্রধান উপদেষ্টা থেকে শুরু করে একাধিক উপদেষ্টা বারবার এটি বলেছেন। সরকারের মধ্যে প্যারালাল বা সমান্তরাল অনেকগুলো সরকার মনে হয় কাজ করছে। আবদুল হামিদ সাহেবকে তারা বাইরে যেতে দিলেন এবং যে এয়ারপোর্টে একটা মশা মাছি পর্যন্ত ইমিগ্রেশনে বিনা চেকে যাওয়ার সুযোগ নেই। সেখানে এ রকম একটা জলজ্যান্ত তিনজন মানুষ চলে গেলেন সাবেক রাষ্ট্রপতিসহ এবং কাউকে দায়িত্ব নেয়ার জন্য পাওয়া যাচ্ছে না। এগুলো চূড়ান্ত দায়িত্বহীনতা, মানে ঘরের মধ্যে ঘর। অনেকগুলো প্যারালাল সরকার মনে হয় কাজ করছে। অবশ্যই এর দায়-দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে।
নয়া দিগন্ত : জুলাই আন্দোলনের পর এসব ঘটনা ঘটছে কিভাবে?
সাইফুল হক : এসব ঘটনা জুলাই আন্দোলনকে ব্যাক ফায়ার করছে। মানে একই যাত্রার অনেকগুলো ফলাফল দেখতে পাচ্ছি। এবং তাদের অনেকগুলো আচরণ বেশ স্ববিরোধী ও পরস্পরবিরোধী। কারা দেশ চালাচ্ছে কারা সিদ্ধান্ত নিচ্ছে অনেক সময় তা অস্পষ্ট মনে হচ্ছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি চলে যাওয়ার পর হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দায়িত্ব নেবে, ইমিগ্রেশনে তারা দায়িত্ব নেবে বা গোয়েন্দারা দায়িত্ব নেবে। এগুলো মানুষকে এক ধরনের বিভ্রান্তির মধ্যে নিয়ে যায়। এগুলো সরকারের ওপর আস্থাটা কমিয়ে দেয়। যত দিন যাচ্ছে আস্থার জায়গাটা কিন্তু কমে যাচ্ছে।
নয়া দিগন্ত : সরকারের ওপর আস্থা কমলে তো জনমনে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।
সাইফুল হক : হ্যাঁ অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। কারণ এটা তো আমাদের সমর্থিত সরকার। আমরা একাট্টা হয়ে সমর্থন দিয়েছি। সরকারের নানা বিষয়ে আমরা সমালোচনা করি সেটা হচ্ছে সরকার যেনো রাইট ট্রাকে থাকে। মানুষের যে বড় দাগের অর্জন আন্দোলন ও অভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে, সেখানে সরকার যেন পথ না হারায়। কিন্তু সরকার মনে হচ্ছে এক ধরনের পপুলিজম দ্বারা চালিত। যেমন ধরেন, আরাকানে মানবিক করিডোর দেয়ার যে প্রশ্ন, জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব আসার পর দু’জন মার্কিন প্রতিনিধি এখানে ঘুরে যাওয়ার পরপরই পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বললেন, করিডোর নিয়ে তারা নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এক দিন পরই যখন রাজনৈতিকদলগুলো মতামত দেয়া শুরু করল তখন বলা হলো এ ব্যাপারে কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা কিন্তু তার বক্তব্য প্রত্যাহার করেননি। তার মানে সরকারের ভেতর দ্বিচারিতা, দ্বৈততা, পরস্পর বিরোধী সিদ্ধান্তগুলো এবং প্রায় একটা সিদ্ধান্তের পাল্টা আরেকটা সিদ্ধান্ত দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। আমি নাগরিক হিসেবে রাজনীতির মানুষ হিসেবে খুব উদ্বিগ্ন। এ রকম যদি সিদ্ধান্তহীনতা থাকে দোলাচল থাকে, যদি পরস্পর বিরোধী জায়গা থাকে তাহলে কিন্তু মানুষের মধ্যে সরকারের ওপর যে আস্থা তা গ্র্যাজুয়ালি কমতে থাকবে।
নয়া দিগন্ত : এটা কেন হচ্ছে, ক্যাবিনেটে কোনো রাজনীতিক নেই, টেকনোক্র্যাটের সংখ্যা বেশি দেখে কি এমনটা হচ্ছে? সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।
সাইফুল হক : সরকারের উপদেষ্টাদের সদিচ্ছা নিয়ে আমার প্রশ্ন নেই। তবে অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতার ডেফিনিটলি ঘাটতি আছে। কাজের সমন্বয়টা হচ্ছে না। খুব নীতিগত প্রশ্নে কথা বলতে হলে প্রধান উপদেষ্টারই কথা বলা উচিত।
নয়া দিগন্ত : উপদেষ্টার সংখ্যা তো বাড়ছে।
সাইফুল হক : বাড়ছে, উপদেষ্টাদের অনেকের ব্যক্তিগত পছন্দের তালিকা থেকে সংখ্যাটা বাড়ছে। যত না ক্রেডিনশিয়াল তারচেয়ে বেশি পছন্দের জায়গা থেকে সংখ্যাগুলো বাড়ছে। তাতে যে সরকারের কার্যক্রমে খুব বেশি গতি আসছে সে রকমটা মনে হয় না।
নয়া দিগন্ত : এ অবস্থা চলতে থাকলে তো তরুণদের মধ্যে হতাশা চলে আসতে পারে। সঠিক নেতৃত্বের অভাবে কি তাদের বারবার রাস্তায় নেমে আসতে হবে?
সাইফুল হক : একটা পারপাজ নিয়ে তো মানুষ বারবার রাস্তায় নামে না। অভ্যুত্থান তো প্রতি বছর প্রতি এক দশকে ঘটে না। একটি অভ্যুত্থান ২০, ৩০, ৪০ বা ৫০ বছরে একবার ঘটে। মব সন্ত্রাসের নাম করে যখন খুশি তখন নেমে আসার একটা সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। বহু ধরনের বা ব্যক্তিগত কারণে এটা হতে পারে। ধরেন অভুত্থানের পরপর হলে একটা আলাদা কথা ছিল। ৯ মাস পর গভর্নমেন্ট যখন ফুল অথরিটির মধ্যে আছে, এখন যদি আপনি এগুলোকে অ্যালাউ করেন, গ্রহণযোগ্য না।
নয়া দিগন্ত : রাজনৈতিক অধিকার আদায়ে মানুষ পথে নামলে তাকেও কেউ কেউ মব সন্ত্রাস বলতে চাচ্ছে?
সাইফুল হক : তরুণরা যেন বিভ্রান্ত না হয়। ভবিষ্যতে তরুণরা যেন সন্দেহ না করে রাজনীতির ক্ষেত্রে। যে আমরা জীবন দিচ্ছি কিন্তু জীবন দেয়ার তাৎপর্যকে আমরা ধারণ করছি কি না। উপলব্ধি করছি কি না। তরুণদের দ্রোহকে স্বীকৃতি না দিলে মর্যাদা না দিলে তো এবং তরুণদের যেন কেউ ব্যক্তিগত বা কোটারি স্বার্থে ব্যবহার না করতে পারে। এটা হলে তরুণদের কাছে খুব খারাপ বার্তা যাবে।
নয়া দিগন্ত : এখন আমাদের কি করা উচিত?
সাইফুল হক : সরকারকে রাইট ট্র্যাকে থেকে বিচারের বিষয়টি জোরদার করতে হবে। ট্রাইব্যুনালের গতি বাড়ানো দরকার। বিচারের কাজ দৃশ্যমান করা দরকার। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কিছু বিচার যেন সম্পন্ন করা যায়। তাহলে সরকারের প্রতি মানুষের আস্থার জায়গাটা বাড়বে।
নয়া দিগন্ত : ঐকমত্য কমিশনের দিকে সবাই তাকিয়ে আছে।
সাইফুল হক : আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে ঐকমত্যের কাজগুলো গুটিয়ে এনে যেখানে আমরা একমত হবো রাজনৈতিক দলগুলো, ন্যূনতম জাতীয় ঐক্যের জায়গাটা তৈরি করে একটা সনদে আমরা স্বাক্ষর করতে পারি। এটা একটা বড় অ্যাচিভমেন্ট হবে। যেগুলো সংবিধানের সাথে যুক্ত আর অনেকগুলো বিষয় আছে যেগুলো সংবিধান সংশোধনীর সাথে যুক্ত না, সেগুলোতে ঐকমত্যের জায়গাগুলো বের করে নিয়ে খুব দ্রুত নির্বাহী আদেশে অনেকগুলো আইন, অনেকগুলো সংশোধনী এখনি করা সম্ভব- এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
নয়া দিগন্ত : এরপর বাকি থাকে নির্বাচন...
সাইফুল হক : এরপর নির্বাচনের ব্যাপারটা। প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন নির্বাচন ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে যদি সরকারের বোঝাপড়া থাকে, বিএনপি জোর দিচ্ছে ডিসেম্বরে, আমরাও বলছি; কিন্তু বোঝাপড়া থাকলে তখন নির্বাচন যদি এক মাস দুই মাস পিছিয়ে যায় কেউ কিন্তু সমালোচনা করবে না। যদি বোঝা যায়, না এই কাজগুলো আছে, এগুলো সম্পন্ন করতে আরো দুই মাস লাগবে, তখন কেউ কিন্তু আপত্তি করবে না। আপত্তিটা কখন করে, যখন আপনার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, যখন দেখে আপনি অপ্রয়োজনীয়ভাবে সময়টা বৃদ্ধি করছেন কি না। বা কালক্ষেপণ করছেন কি না। তখনি সমালোচনা ওঠে। রাজনৈতিক দল তো সরকারের প্রতিপক্ষ না। দলগুলোকে আস্থায় নিয়ে সরকারকে যোগাযোগ আরো বাড়িয়ে সুযোগটা কাজে লাগাতে হবে। আমরা হেলায় ফেলায় সুযোগটা যেন না হারাই। নষ্ট না করি। তা না হলে মাশুলটা কিন্তু সবাইকে দিতে হবে।
নয়া দিগন্ত : সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিকদলগুলোর মধ্যে কি অনীহা রয়েছে?
সাইফুল হক : না সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিকদলগুলোর মধ্যে কোনো অনীহা নেই। এটাতে আমি একমত হচ্ছি না। সংস্কারের মাত্রা নিয়ে, ডিগ্রি নিয়ে, সংখ্যা নিয়ে মতভেদ থাকতে পারে। আছে। সংস্কার চায় না এমন কোনো রাজনৈতিক দল নেই। সরকার কোথায় দাঁড়াবে। অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান সঠিক কথা বলেছেন। যে যেখানে ন্যূনতম আমরা একমত হতে পারি, সেটাই হবে ভিত্তি। এরইমধ্যে অনেকগুলো, মিনিমাম অসংখ্য বিষয় আছে, যেখানে ন্যূনতম একমত হওয়ার জায়গা আছে। এখন ঐকমত্য কমিশনের দায়িত্ব হচ্ছে আলোচনার মাধ্যমে এগুলোকে চকডাউন করে ঐকমত্যেজায়গাগুলো খুঁজে বের করা। আমরা যখন সনদে স্বাক্ষর করব তখন তো এইটাই এক ধরনের ম্যাগনাকার্টারের মতো দাঁড়িয়ে যাবে। পরে যারা নির্বাচন করবেন, নির্বাচিত হবেন, পার্লামেন্টে যাবেন, সরকার গঠন করবেন, তাদের জন্য রাজনৈতিকভাবে এটা ম্যান্ডেটরি হয়ে যাবে বাস্তবায়ন করা। এই বাধ্যবাধকতার ব্যাপারে আমি আশাবাদী। কিছু হবে না এইটা আমি মনে করছি না। কারণ পুরনো জমানায় আমরা কেউ ফিরতে চাই না। যে ব্যবস্থা আওয়ামী লীগের মতো দলকে ফ্যাসিবাদী করে, হাসিনার মতো একজন নারীকে চূড়ান্ত কর্তৃত্ববাদী করে দুঃশাসনে পরিণত করে, তখন মনে হয় ওই জমানায় আমরা কেউ ফিরব না।
নয়া দিগন্ত : আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করাকে আপনি সঠিক সিদ্ধান্ত মনে করেন?
সাইফুল হক : আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয়নি, দলটির কার্যক্রমকে স্থগিত করা হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটা আইনগত বিচারিক প্রক্রিয়াতে যাওয়া দরকার। এটা নির্বাহী আদেশে করতে গেলে অনেক সময় ব্যাকফায়ার করে। এ ধরনের একটা রেজিমেন্টেড দলকে মোকাবেলা করতে হয়, এর বাইরেও রাজনৈতিকভাবে সাংগঠনিকভাবে সাংস্কৃতিকভাবে। শুধু নিষিদ্ধ করে পাল্টা বরং একটা সহানুভূতি সৃষ্টি করে অনেক সময় এটা ব্যাকফায়ার করে। আইনগত প্রক্রিয়ায় গেলে দলগুলো যদি ঐকমত্য থাকে তাহলে তা টেকসই হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। না হলে যেকোনো পরিবর্তন হয়ে গেলে তখন গণেশ উল্টে গেলে সবগুলো আগের জায়গায় ফিরে আসে। আওয়ামী লীগ দল হিসেবে যে গণহত্যা করেছে তার বিচার হওয়া দরকার। আওয়ামী লীগ ১৬ বছরে যে অপরাধ করেছে এগুলোর বিচার হওয়া দরকার। টেকনিক্যালি নিষিদ্ধ করতে গেলে বিচারের ব্যাপারটা অনেক সময় ঢাকা পড়ে যেতে পারে, অপরাধটা চাপা পড়ে যেতে পারে, অনেকে মনে করতে পারে দল তো নিষিদ্ধ হয়ে গেল, এখন আর বিচার-আচার কি? সুতরাং বিচারের প্রশ্ন হচ্ছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। গণহত্যা বলি, ১৬ বছরের অপরাধ বলি কোনোভাবেই যাতে এটা কম গুরুত্বপূর্ণ না হয়ে যায়- এটা খুব গুরুত্বের সাথে দেখা দরকার।