চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২০জনকে পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের
বিজিবির বাধায় শূন্য রেখায় অবস্থান
Printed Edition
শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চৌকা সীমান্তে ২০ জনকে পুশইন করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফ। শুক্রবার (১৯ জুন) গভীর রাতে তাদের ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে পাঠানো হয়। তবে বিজিবি সদস্যদের প্রতিরোধের মুখে তারা বাংলাদেশে ঢুকতে পারেনি। গতকাল সকালে ৫৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান , পুশইন করা ২০ জনের মধ্যে ৫জন পুরুষ, ১১ জন নারী ও চারজন শিশু। রাতে চৌকা সীমান্তের ১৭৭/২ আর পিলার-সংলগ্ন এলাকা দিয়ে তাদের বাংলাদেশের দিকে ঠেলে পাঠায় ১১৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সুকদেবপুর ক্যাম্পের সদস্যরা। খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা তাদের অবস্থান নিশ্চিত করে এবং বাংলাদেশে প্রবেশরোধে অবস্থান নেয়। এ অবস্থায় ওই ২০ জন সীমান্তের শূন্যরেখায় খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পতাকা বৈঠক হলেও কোনো ফোলপ্রসূ আলোচনা হয়নি। সীমান্তে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিত লক্ষ্য করছি এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। উভয় পাশে বিজিবি ও বিএসএফ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তাদের ফিরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করছে। তারা ফিরে না গেলে পুশব্যাকের চেষ্টা করা হবে বলেও জানান বিজিবির এই কর্মকর্তা।
দিনাজপুরে বিজিবি-প্রশাসনের যৌথ তৎপরতা
দিনাজপুর প্রতিনিধি জানান, দিনাজপুরের বিরল উপজেলার সীমান্তবর্তী ৬ নম্বর ভাণ্ডারা ইউনিয়নে চলমান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গতকাল সকালে পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজাউল ইসলাম। সময় তিনি সীমান্ত এলাকায় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং সীমান্ত পাহারায় নিয়োজিত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের সাথে মতবিনিময় করেন।
মতবিনিসয় সভায় সীমান্তে যেকোনো ধরনের অপরাধ নিরসন, অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইন বন্ধ এবং সীমান্ত দিয়ে মাদক চোরাচালান রোধের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সেই সাথে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ও যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে সীমান্ত সুরক্ষায় কঠোর অবস্থানে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
ইউএনও রেজাউল ইসলাম বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং চোরাচালান রোধে বিজিবি নিরলসভাবে কাজ করছে। তবে সীমান্তকে সম্পূর্ণ অপরাধমুক্ত রাখতে স্থানীয় জনসাধারণের ভূমিকা অপরিসীম। তিনি চোরাচালান ও মাদকের বিরুদ্ধে সচেতন থাকার এবং যেকোনো তথ্য দিয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য স্থানীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।