সেন্টমার্টিন নিয়ে গুজব থাকলেও বাস্তবে স্বাভাবিক ও প্রাণচঞ্চল
Printed Edition
এস এম মিন্টু সেন্টমার্টিন থেকে ফিরে
- বঙ্গোপ সাগরে সাড়ে ৩ শ’ কিমি জুড়ে নৌবাহিনী জাহাজের টহল
- প্রতিদিন দুই হাজার পর্যটকের উৎসবমুখর পদচারণা
২০২৫ সালের মাঝামাঝি থেকে ফেসবুক, ইউটিউব এবং অনলাইন গ্রুপগুলোতে দেখা যায়, বিদেশী নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজের ছবি ব্যবহার করে লেখা হয়েছে, ‘সেন্টমার্টিন দখল হয়ে গেছে’ বা ‘বিদেশী সেনারা ঘাঁটি তৈরি করছে।’ কিছু ভিডিওতে দেখানো হয় রাতের অন্ধকারে আলো ও আগুন, যা দাবি করা হয়েছে সামরিক কার্যক্রম হিসেবে। তবে এসব পোস্টে প্রমাণ হিসাবে সরকারি নথি, সময় বা উৎস উল্লেখ করা হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে পুরনো নৌ মহড়ার ছবি এবং ভিডিও ব্যবহার করে তা সাম্প্রতিক ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। অনলাইনে প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে পড়ার আরেকটি উৎস ছিল রাজনৈতিক বক্তব্য। যেখানে কিছু নেতাকর্মী বক্তব্যে অভিযোগ করেছেন যে সরকার দেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূখণ্ড বিদেশী শক্তির কাছে দিতে পারে। কিন্তু সেন্টমার্টিনে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। সেন্টমার্টিন দ্বীপে কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতির ছাপ পাওয়া যায়নি। বরং নীল সমুদ্র, কর্মচঞ্চল মানুষ আর পর্যটকদের কোলাহলে দ্বীপটি এখনো স্বাভাবিক ও উৎসবমুখর জীবনযাত্রায় ভরপুর।
প্রকৃতপক্ষে সেন্টমার্টিন দ্বীপ বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এর নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষায় নিয়মিত পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীসহ সেখানে দায়িত্বরত অন্যান্য বাহিনীর পক্ষ থেকে। সাম্প্রতিক সময়ের গুজবগুলো যাচাই করতে সেন্টমার্টিন দ্বীপে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দ্বীপে কোনো বিদেশী সেনা বা সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের আলামত নেই। বাংলাদেশ নৌবাহিনীসহ অন্যসব বাহিনীগুলো শুধু নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছে, কোনো অস্বাভাবিক সামরিক কার্যক্রম নেই।
দেখা যায়, দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে জনজীবন একেবারেই স্বাভাবিক ও প্রাণচঞ্চল। দ্বীপজুড়ে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিরামহীন কর্মব্যস্ততা চোখে পড়ে। ভোরের আলো ফোটার আগেই জেটি ঘাট এলাকায় ব্যস্ততা শুরু হয়ে যায়। বিশাল বিশাল মাছ ধরার বোট নিয়ে জেলেরা দল বেঁধে গভীর সমুদ্রে পাড়ি জমাচ্ছেন, কারো হাতে জাল, কারো কাঁধে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সব মিলিয়ে এক কর্মমুখর দৃশ্য।
অন্য দিকে দ্বীপের ভেতরে ঢুকতেই দেখা যায়, কেউ ব্যস্ত কৃষি কাজে, কেউবা রোদে শুকানো শুঁটকি মাছ গোছাতে ব্যস্ত। নারকেল বাগান, ছোট দোকান, খাবারের হোটেল সবখানেই মানুষের আনাগোনা। স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের জীবিকা নির্বাহে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় কাটাচ্ছেন নিরলস পরিশ্রমে।
এ দিকে পর্যটন মৌসুম থাকায় দ্বীপটি যেন উৎসবের রঙে রঙিন। প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিনে আসছেন। সকাল হলেই কক্সবাজার থেকে জাহাজে করে দল বেঁধে পর্যটকদের নামতে দেখা যায় জেটি ঘাটে। কারো হাতে ক্যামেরা, কারো চোখে বিস্ময় স্বচ্ছ নীল পানি আর প্রবাল দ্বীপের সৌন্দর্যে মুগ্ধ সবাই। ঘোরাঘুরি শেষে পর্যটকরা নিয়মশৃঙ্খলা মেনে আবার জাহাজে করে দ্বীপ ছাড়ছেন। পর্যটকদের আগমনকে ঘিরে দ্বীপের পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসায়ও চলছে, ব্যস্ত সময়। হোটেল, রেস্টুরেন্ট, নৌকা ভ্রমণ ও স্থানীয় পণ্যের দোকানে অতিথিদের আতিথেয়তায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন দ্বীপবাসী।
সরেজমিনে আরো দেখা যায়, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী পর্যটন কার্যক্রম স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখতে সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে নৌবাহিনী। জেটি ঘাট থেকে শুরু করে পুরো দ্বীপজুড়ে নৌবাহিনীর সদস্যদের দায়িত্বশীল উপস্থিতি চোখে পড়ে। নৌবাহিনীর এমন কঠোর নজরদারিতে দেশের জলসীমা নিরাপদ রয়েছে। তাদের তৎপরতায় কোনো বিদেশী যুদ্ধজাহাজ তো দূরের কথা, একটি ছোট ফিশিং বোটও সেন্টমার্টিন কিংবা বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার কাছাকাছি আসার সাহস পাবে না এমনটাই মনে করছেন স্থানীয়রা।
দ্বীপের বাসিন্দা মো: আয়াতুল্লাহ পেশায় একজন জেলে। মাছ ধরার নৌকায় কাজ করে তার জীবন কাটে সমুদ্রে। তিনি জানান, তার পূর্বপুরুষরা প্রায় এক শ’ বছর আগে সেন্টমার্টিনে বসতি গড়েন। তিনি বলেন, আমরা এখানকার স্থায়ী মানুষ। নৌবাহিনীসহ দেশের বিভিন্ন বাহিনী নিয়মিত দ্বীপে দায়িত্ব পালন করে। তাদের থাকতে অন্য দেশের বাহিনী এখানে আসবে এটা ভাবাই যায় না। এসব সম্পূর্ণ মিথ্যা ও গুজব। আমরা জীবনে কখনো এখানে অন্য দেশের কোনো বাহিনীর আনাগোনা দেখিনি। দ্বীপের প্রতিটি ইঞ্চি আমরা চিনি। যা অনলাইনে ছড়াচ্ছে, তার কিছুই বাস্তবে নেই।
বঙ্গোপসাগরে সজাগ নৌবাহিনী : শুধু সেন্টমার্টিন দ্বীপ নয়, উপকূলীয় এলাকা ও গভীর সমুদ্রে বাংলাদেশের জলসীমা পাহারা দিতে নীল সমুদ্রে অবস্থান করতে দেখা যায়, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একাধিক অত্যাধুনিক জাহাজকে। গত বুধবার গভীর সমুদ্রে টহলে যায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অত্যাধুনিক ‘জাহাজ খালিদ বিন ওয়ালিদ’। এই জাহাজে গভীর সমুদ্র এলাকা পরিদর্শনকালে দেখা গেছে, গভীর সমুদ্র এলাকাতেও নৌবাহিনীর আরো একাধিক জাহাজের টহল। প্রযুক্তি বা রাডারের মাধ্যমে পুরো বঙ্গোপসাগরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল ওই জাহাজ থেকে। বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল নেভাল এভিয়েশনের একটি আধুনিক হেলিকপ্টার, যা এই জাহাজ থেকেই সরাসরি বিভিন্ন অভিযান চালিয়ে থাকে।
এ প্রসঙ্গে ‘বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদ’র অধিনায়ক ক্যাপ্টেন আরিফ বলেন, সেন্টমার্টিনসহ সমুদ্র উপকূলের অধিকাংশ লোকজন মৎস্য সম্পদের ওপর নির্ভরশীল। তাদের জন্য নিরাপত্তা জোরদার করা এবং তারা আমাদের জলসীমার মধ্য থেকে মাছ শিকার করছে কি না, অথবা সীমানা অতিক্রম করছে কি না সে বিষয়ে নৌবাহিনী সার্বক্ষণিক কাজ করে থাকে। সমুদ্রে সার্বক্ষণিক আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং রাডার নজরদারি নিশ্চিত করা হয়, কেউ যেন অন্য দেশের জলসীমানায় প্রবেশ না করে, যা দেশের ভাবমূর্তির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে অন্য দেশের কেউ যাতে অনুপ্রবেশ করতে না পারে সেটাও নজরদারি করা হয়। বিভিন্ন মাধ্যমে প্রায়ই শোনা যায়, ‘বিভিন্ন গোষ্ঠী (আরাকান আর্মি) আমাদের জেলেদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে। অথচ, পরে তদন্তে দেখা যায়, মূলত নিজেদের জলসীমা অতিক্রম করে অন্য দেশে প্রবেশ করলেই এ ধরনের ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশের জলসীমার ভেতর থেকে কাউকে ধরে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
ওই জাহাজের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, নৌবাহিনীর জাহাজ, গার্ড বোট এবং হাইস্পিড বোটের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জলসীমা এলাকা দিয়ে নিয়মিত টহল দেয়া হয়। রাডারের মাধ্যমে সমুদ্রপৃষ্ঠে থাকা ছোট বোটও ডিটেক্ট করার সক্ষমতা রয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর, ফলে তাদের গতিবিধিও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়। আজ পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশী নাগরিককে দেশের জলসীমা থেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেনি। তবে জেলেদের ভুলের কারণেই অনেক সময় তারা সীমানা অতিক্রম করে ফেলে। নৌবাহিনী এ বিষয়ে জেলেদের সচেতন করার চেষ্টা করছে।
বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদে নিয়োজিত নেভাল এভিয়েশনের পাইলট লেফটেন্যান্ট কমান্ডার শফিক বলেন, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজগুলো সাগরে পেট্রোলিং করে আমাদের সমুদ্র রক্ষা, বিভিন্ন অপারেশনাল মিশন বা শান্তিকালীন সময়ে যে ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে থাকে, সেই কাজগুলোকে আরো বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে আমাদের নেভাল এভিয়েশনের চারটি মেরিটাইম পেট্রোল এয়ার এয়ারক্রাফট, চারটি হেলিকপ্টার এবং নতুন সংযুক্ত দু’টি ইউএভি (আনমেন্ট এরিয়াল ভেহিকেল) সংযোজিত হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, জাহাজগুলোর সাথে সমন্বয় করে আমাদের সমুদ্রসীমাকে পেট্রোলিং (টহল) করা, সমুদ্রকে নজরদারি করা। আমাদের অত্যাধুনিক হেলিকপ্টারগুলোতে প্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে।
সেন্টমার্টিনে অপতৎপরতা ও পাচাররোধে তৎপর নৌবাহিনী : সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নৌবাহিনীর সদস্যরা অবৈধ পরিবহন রোধ, নিষিদ্ধ জালের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি এবং সন্দেহজনক গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য দিনরাত নৌ টহল পরিচালনা করে থাকে। চলতি জানুয়ারির শুরুতে, নৌবাহিনীর একটি জাহাজ সেন্টমার্টিনের প্রায় ৩০ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে অভিযান চালিয়ে ২৭৩ জনকে বহনকারী একটি কাঠের ট্রলার আটক করে। ওই যাত্রীরা অবৈধভাবে বাংলাদেশ ত্যাগ করে এবং মালয়েশিয়ায় পাচার হচ্ছিলেন। যাত্রীদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল। পাশাপাশি নৌকাটিতে জীবন রক্ষাকারী মৌলিক সরঞ্জাম, খাবার বা পানীয় জলের যথেষ্ট অভাব ছিল। সন্দেহভাজন পাচারকারীসহ ২৭৩ জন আটক করে আইনি ব্যবস্থার জন্য টেকনাফ পুলিশ এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এভাবেই নিয়মিতভাবে সেন্টমার্টিনসহ সাগর উপকূলে এই জাতীয় বিষয়েও কাজ করে যাচ্ছে নৌবাহিনী।
যে কারণে গুজব উঠেছে তুঙ্গে : সেন্টমার্টিন দ্বীপ নিয়ে গুজব থেকে শুরু করে প্রোপাগান্ডা সব সময় ছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার দ্বীপে পর্যটক সীমিত করার পর থেকে এ গুজব আরো তুঙ্গে উঠেছে। গুজবকারীদের অনেকে দাবি করেছেন যে পর্যটন সীমিত করা হয়েছে সামরিক উদ্দেশ্যে। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, পর্যটন সীমিত করার মূল কারণ ছিল পরিবেশ সুরক্ষা। সেন্টমার্টিন দ্বীপের আয়তন মাত্র আট বর্গকিলোমিটার এবং এটি বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ। দ্বীপের প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র অত্যন্ত সংবেদনশীল। অতিরিক্ত পর্যটন, প্লাস্টিক দূষণ, প্রবাল সংগ্রহ এবং রাতের আলো ও শব্দ দূষণ দ্বীপের জীববৈচিত্র্যকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সামুদ্রিক কচ্ছপ, শামুক, লাল কাঁকড়া প্রভৃতি প্রাণীর জীবনচক্রের ওপর পর্যটক চাপের প্রভাব স্পষ্ট।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে নতুন পরিবেশবান্ধব পর্যটন নীতি কার্যকর করা হয়। দর্শনার্থীর সংখ্যা সীমিত রাখা, নির্দিষ্ট সিজনে রাতের অবস্থান নিয়ন্ত্রণ, সমুদ্র সৈকতে আলো এবং শব্দের সীমাবদ্ধতা। ২০২৫ সালের নভেম্বরে নিয়ন্ত্রিত পর্যটন আবারো চালু হয়। এতে দৈনিক পর্যটকদের সংখ্যা দুই হাজার বেশি হয়নি এবং দিনের মধ্যে সীমিত সময়ে দ্বীপ পরিদর্শন করা হয়েছে।
আর গুজবকারীরা সরকারের এসব সিদ্ধান্তকে মোক্ষম সুযোগ হিসেবে বেছে নিয়েছে। পর্যটকদের যাতায়াত সীমিত করে বিদেশী শক্তিকে সামরিক কার্যকলাপ করতে দেয়া হচ্ছে দ্বীপে- এমন গুজবে সয়লাব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফর্ম। দ্বীপের আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিতরা বলছেন, সেন্টমার্টিনকে কেন্দ্র করে ছড়ানো গুজবগুলো মূলত অস্পষ্ট ছবি, পুরনো ভিডিও এবং রাজনৈতিক বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যার সমন্বয়।
প্রসঙ্গত, স্বচ্ছনীল জলরাশিতে ঘেরা সেন্টমার্টিন দ্বীপটি বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্ব অংশে অবস্থিত। দ্বীপটি প্রায় ৮ বর্গকিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত। সেন্টমার্টিন দ্বীপের টোটাল জনসংখ্যা আনুমানিক ১১ হাজার। এই দ্বীপ ও সমুদ্রসীমার নিরাপত্তার দায়িত্বে কাজ করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ছাড়াও বাংলাদেশ কোস্টগার্ড বা বাংলাদেশ বর্ডারগার্ড এবং পুলিশ।