ফায়ার ফাইটার ও পুলিশসহ নিহত ৯

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

বিভিন্ন স্থানে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় একজন ফায়ার ফাইটার ও এক পুলিশ কনস্টেবলসহ নয়জন নিহত হয়েছেন।

শেরপুর (বগুড়া) সংবাদদাতা জানান, বগুড়ার শেরপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করতে যাওয়ার সময় প্রাণ হারিয়েছেন আহসান হাবিব (৪৬) নামের এক ফায়ার ফাইটার। শনিবার রাত ২টার দিকে শেরপুরের মহিপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সামনেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আহসান হাবিব গাইবান্ধার সাঘাটা এলাকার মৃত আবেদার রহমানের ছেলে। তিনি মহিপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে কর্মরত ছিলেন।

ফায়ার সার্ভিস অফিস ও স্থানীয় সূত্রে যায়, শনিবার রাত ২টার দিকে খবর আসে যে চান্দাইকোনা বগুড়া বাজার এলাকায় একটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। খবর পাওয়া মাত্রই মহিপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত উদ্ধার অভিযানে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। স্টেশন থেকে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িটি বের করার জন্য আহসান হাবিব রাস্তায় দাঁড়িয়ে সঙ্কেত দিচ্ছিলেন। এ সময় তিনি (ঢাকা মেট্রো-ন ১৯-২১৪৯) বগুড়াগামী ট্রাকের গতি রোধ করেন যেন ফায়ার সার্ভিসের গাড়িটি নিরাপদে বের হতে পারে। ট্রাকটি থামার পরপরই পেছন থেকে গাইবান্ধাগামী আহসান পরিবহন নামে একটি দ্রুতগতির বাস ওই ট্রাকটিকে সজোরে ধাক্কা দিলে ট্রাকটি দায়িত্বরত আহসান হাবিবের ওপর উঠলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ রইছ উদ্দিন বলেন, ঘাতক বাস ও ট্রাকটি আটক রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

অপর দিকে রাত ১টার দিকে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের হামছায়াপুর এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় শাহ-বন্দেগী ইউনিয়নের খন্দকারটোলা মুন্সীপাড়া এলাকার আমিনুল ইসলামের স্ত্রী খাদিজা খাতুনকে (৩৯) অজ্ঞাত একটি প্রাইভেট কার ধাক্কা দিলে গুরুতর অবস্থায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান স্থানীয়রা। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

শনিবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের ১০ মাইল এলাকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন আহত হয়েছে। গুরুতর আহতরা হলো রনবীরবালা এলাকার আরজু (২৮), বিকেল বাজার এলাকার শুভ (২৮) নামের দুই মোটরসাইকেল আরোহী। শুভকে শজিমেক হাসপাতাল বগুড়ায় আইসিইউতে নেয়া হয়েছে। অপর দুইজনের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি মোটরসাইকেলকে অজ্ঞাত গাড়ি ধাক্কা দিলে আরোহীরা রাস্তায় ছিটকে পড়েন। এ সময় পেছনের অন্য গাড়িগুলো তাৎক্ষণিক ব্রেক করে দাঁড়িয়ে গেলে হঠাৎ করে একটি দ্রুতগতির ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ির পেছনে সজোরে ধাক্কা দিলে ত্রিমুখী সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। গুরুতর আহত শুভর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে পলাতক এক আসামিকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় পুলিশ কনস্টেবল নজরুল ইসলাম (৪৯) নিহত হয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার রাত দেড়টার দিকে গ্রেফতারকৃত আসামি নিয়ে থানায় ফেরার পথে উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের পদোরগাতি এলাকায় পুলিশের ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশার সাথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে কনস্টেবল নজরুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে দ্রুত কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা পর অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে গতকাল রোববার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

হোসেনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো: রাশেদুল ইসলাম জানান, আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পর লাশ তার নিজ বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দিতে ওভারটেক করতে গিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে দু’জন নিহত হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছে আরো সাতজন। গতকাল রোববার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জিংলাতলী ব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত দু’জন হলেন চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক মিয়ার ছেলে মিজানুর রহমান (৪৭) ও অটোচালক দাউদকান্দি উপজেলার একই ইউনিয়নের বাহাদুরখোলা গ্রামের হারুন মিয়ার ছেলে ফারুক হোসেন (৩৭)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা থেকে ইকোনো পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি দাউদকান্দির জিংলাতলী এলাকায় পৌঁছে পৃথক আরেকটি যাত্রীবাহী বাসকে ওভারটেক করতে গিয়ে একটি অটোরিকশাসহ এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় যাত্রীবাহী বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি অটোরিকশাসহ সড়কের পাশের মৎস্য প্রকল্পে পড়ে যায়। অন্য বাসটি দ্রুত কুমিল্লার দিকে পালিয়ে যায়। শুকনো মৎস্য প্রজেক্টের শ্রমিকরা দৌড়ে এসে কয়েকজনকে উদ্ধার করে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গৌরীপুর পৌঁছে দেন। অটোচালক ঘটনাস্থলেই মারা যান।

দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত ডা: দিলরুবা শারমিন জানান, এ ঘটনায় আহত আটজনকে হাসপাতালে নিয়ে এলে দু’জন মারা যায়। তিনজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার বজ্রযোগিনী নাহাপাড়া এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে এক ব্যবসায়ী নিহত আরো একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দ্রুতগতিতে আসা একটি মোটরসাইকেলের সাথে বিপরীত দিক থেকে আসা সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষ হলে মোটরসাইকেলটি সড়কে ছিটকে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই রাসেল কবির (৪২) নামের এক ব্যক্তি মারা যান।

তিনি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার শাহী মহল্লা এলাকার বাসিন্দা। দুর্ঘটনায় আহত নাজমুল হাসানকে গুরুতর অবস্থায় প্রথমে মুন্সীগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

রাঙ্গুনিয়া-কাপ্তাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক রোহিঙ্গা শ্রমিক নিহত হয়েছে। নিহতের নাম মো: খাইরুল বাশার (৪৮)। গতকাল রোববার সকালে চন্দ্রঘোনা হাজীপাড়া এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটেছে।

জানা যায়, উপজেলার চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়নের হাজী পাড়ার চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের পাশে এক ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে। প্রাথমিক তদন্তে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশ জানায়। নিহতের বাড়ি কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বালু খালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প ব্লক-৪৭।

স্থানীয়রা জানায়, খাইরুল বাশার তিন-চার মাস আগে কাজের সন্ধানে চন্দ্রঘোনা কদমতলী এলাকায় আসেন।

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার এসআই দেলোয়ার হোসেন বলেন, রোহিঙ্গা শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করে পোস্ট মর্টেমের জন্য চমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সিলেট ব্যুরো জানায়, সিলেটে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ দুজন নিহত হয়েছেন। শনিবার ও রোববার পৃথক সময়ে সিলেটের জকিগঞ্জ ও দক্ষিণ সুরমায় এ দু’টি দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, রোববার সকালে কুলাউড়া থেকে সিলেট আসার পথে দক্ষিণ সুরমায় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান নাজমুল ইসলাম নিয়াজ (৫০)। তিনি দৈনিক যুগান্তরের কুলাউড়া প্রতিনিধি আজিজুল ইসলামের ভাই ও কুলাউড়া উপজেলার জয়চণ্ডী ইউনিয়নের আবুতালিপুর এলাকার বাসিন্দা।

নিহতের ভাই আজিজুল ইসলাম জানান, সিলেটের দক্ষিণ সুরমার ময়লার ভাগাড় এলাকায় পৌঁছালে তাদের বহনকারী গাড়িটি একটি দ্রুতগতির যানবাহনের ধাক্কায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই নাজমুল ইসলাম নিয়াজের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার সময় গাড়িতে থাকা চালকসহ আরো দুই যাত্রী গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

এদিকে জকিগঞ্জে মোটরসাইকেল, ট্রাক ও বাই-সাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে মারওয়ান আহমদ (১০) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। শনিবার বিকেল ৪টার দিকে সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের ইউনিয়ন অফিস বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল ও ট্রাকের সাথে একটি বাইসাইকেলের সংঘর্ষ হলে গুরুতর আহত হয় শিশু শিক্ষার্থী মারওয়ান। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত মারওয়ান আহমদ উপজেলার কসকনকপুর ইউনিয়নের পূর্ব ইনামতি গ্রামের খছরুজ্জামানের দ্বিতীয় ছেলে ও ইনামতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল।