গণভোটে ‘হ্যাঁ’কে বিজয়ী করতে ডাকসুর মাসব্যাপী কর্মসূচি
Printed Edition
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) আসন্ন জাতীয় গণভোটকে সামনে রেখে গণতন্ত্র, জনগণের মতামতের মর্যাদা এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সারা দেশে মাসব্যাপী সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে।
গতকাল বুধবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভবনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম।
তিনি জানান, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে দেশব্যাপী জনমত গঠন ও সচেতনতা বাড়াতে ডাকসু। সরাসরি জনসংযোগ কার্যক্রম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ই-পোস্টার, ভিডিও, রিলস ও লেখালেখির মাধ্যমে অনলাইন ক্যাম্পেইন, যুক্তিতর্কভিত্তিক প্রদর্শনী বিতর্ক এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কার নিয়ে সেমিনার আয়োজন করবে।
এ ছাড়া কর্মসূচির অংশ হিসেবে সুশীল সমাজ, প্রিন্ট ও টেলিভিশন সাংবাদিক, মোবাইল সাংবাদিক, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট, ছাত্র ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সাথে মতবিনিময় সভা করা হবে। ‘জুলাই আহতদের ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভা, গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর যৌক্তিকতা তুলে ধরে গান, কবিতা ও ডকুমেন্টারি প্রকাশ, তারুণ্যের ভাবনা নিয়ে বক্তৃতা প্রতিযোগিতা, জনসচেতনতামূলক পথনাটক ও মাইম প্রদর্শনী এবং সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সফরের কর্মসূচিও রয়েছে।
সাদিক কায়েম বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনে জনগণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত থেকে বঞ্চিত ছিল। গণভোট সেই কাঠামো ভেঙে জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেয়ার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার জন্য শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট অপরিহার্য। এতে গুম-খুন, আয়নাঘরের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের অবসান হবে এবং সকল নাগরিক ন্যায়বিচার পাবে।
তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে জুলাই সনদ কার্যকর হবে, রাষ্ট্রক্ষমতায় ভারসাম্য আসবে, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী হবে, চাকরিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে, নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়বে, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার অধিকার সুরতি হবে এবং ইন্টারনেট মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি পাবে।
তিনি আরো বলেন, গণভোটের মাধ্যমেই ফ্যাসিবাদের চূড়ান্ত অবসান ঘটবে এবং একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হবে। এ সময় তিনি ডাকসুর পক্ষ থেকে সব ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দল, ছাত্রসংগঠন ও জনতাকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান জানান।
ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান বলেন, জুলাইয়ে যারা শহীদ হয়েছেন ও আহত হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগের একটাই লক্ষ্য ছিল একটি পরিবর্তিত বাংলাদেশ।
এই পরিবর্তন এখন নির্ভর করছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সংস্কারবিষয়ক গণভোটের ওপর। ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমেই শহীদদের ত্যাগের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানানো সম্ভব।
তিনি বলেন, ডাকসু ও অন্যান্য ছাত্র সংসদের সাথে নিয়ে সারা দেশের ছাত্রসমাজকে একত্রিত করে শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন ও একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে আমরা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ক্যাম্পেইন কর্মসূচি ঘোষণা করছি।