চরম তাপমাত্রার ১০ শহরের মধ্যে ঢাকা ৯ম
বাড়ছে তাপমাত্রা সম্পর্কিত রোগ
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
দ্রুত নগরায়ন ও সবুজ গাছ-গাছালি শোভিত এলাকা কমে যাওয়ায় ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে তাপের তীব্রতা বাড়ছে। পৃথিবীর চরম তাপমাত্রার ১০ শহরের মধ্যে ঢাকা নবম অবস্থানে। এ শহরে তাপমাত্রা সম্পর্কিত রোগবালাই শুধুই বাড়ছে। হিটস্ট্রোক ছাড়াও অন্যান্য তাপমাত্রা সম্পর্কিত (হিট রিলেটেড) রোগে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে বিশেষ করে শিশু-বৃদ্ধ, খোলা আকাশে কর্মরত কর্মী ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে। বাংলাদেশে হিট রিলেটেড নানা রোগবালাই ও তাপমাত্রা মোকাবেলায় সার্বিক ও সমন্বিত কোনো জাতীয় উদ্যোগ নেই। গতকাল সোমবার ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির জেমস পি গ্র্যান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের (ব্র্র্যাক জেপিজিএসপিএইচ) উদ্যোগ ঢাকার স্থানীয় একটি হোটেলে ‘হিট হেলথ এডাপটেশন প্ল্যান বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: রেজাউল মাকসুদ জাহেদী। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো: মাহমুদুল হাসান এনডিসি। সুপারিশগুলো তুলে ব্র্র্যাক জেপিজিএসপিএইচ ড. ফারজানা মিশা ও রাজিব মাহমুদ শুভ্র। স্বাগত বক্তব্য দেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি অধ্যাপক আরশাদ মাহমুদ চৌধুরী।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকির দেশ হলেও বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের অবদান মাত্র ০.৩ শতাংশ। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে তা মোকাবেলায় একটি অভিযোজন বা খাপখাওয়ানোর পরিকল্পনা দরকার। এ জন্য সরকারের সব মন্ত্রণালয়ের একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা লাগবে।
মো: রেজাউল মাকছুদ জাহেদী বলেন, বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত জলবায়ু সংবেদনশীল দেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা ইতোমধ্যে বাংলাদেশের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনাতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি তাপ শোষণ ও প্রশমনসংক্রান্ত কার্যক্রমের পরিকল্পনা আছে। অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে স্বাস্থ্যের ওপর যে নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ করা যাচ্ছে ভবিষ্যতে তা আরো বাড়বে, এটি ঠিক। তাপমাত্রা সম্পর্কিত ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবেলায় সরকারের সাথে বেসরকারিভাবেও এগিয়ে আসতে হবে।
বাংলাদেশে বিশেষ করে শহরাঞ্চলে হিটহেলথের অভিযোজনে কিছু করণীয় সুপারিশ করেছে ব্র্র্যাক জেপিজিএসপিএইচ। এগুলো হলো- ওয়ার্ডভিত্তিক স্থানীয় নার্সারি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে বার্ষিকক্ষুদ্র বনায়ন (মাইক্রো ফরেস্ট) কর্মসূচি চালু করা; তীব্র তাপপ্রবাহের সময় বড়বাজার, সায়দাবাদ, মহাখালী, গাবতলী, আরামবাগ ও আবদুল্লাহপুরের মতো বাস টার্মিনালে পার্ক, খেলার মাঠ ও জনসমাগমস্থলে জরুরি শীতল আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করা। এ ছাড়া ছাদবাগান, ভার্টিক্যালগার্ডেন ও যান্ত্রিক বায়ু চলাচল ব্যবস্থা গ্রহণকারী বাণিজ্যিক ভবনের জন্য প্রণোদনা হিসেবে ফ্লোর এরিয়া রেশিও (ফার) চালু করার সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি আবাসিক ভবনের জন্য তাপ প্রতিরোধী ছাদ (কুল রুফ) মানদণ্ড বাংলাদেশ জাতীয় ভবন নির্মাণ বিধিমালায় (বিএনবিসি) অন্তর্ভুক্ত করা এবং সাশ্রয়ী তাপ প্রশমন উপকরণ উৎপাদনে স্থানীয় শিল্পকে উৎসাহিত করার প্রস্তাব দেয়া হয়।
এ ছাড়াও নগরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ডিজিটাল বিলবোর্ডের মাধ্যমে রিয়েল-টাইম তাপমাত্রা ও তাপ সতর্কতা প্রদর্শন করে জনসচেতনতা ও মানুষের আচরণগত পরিবর্তন জোরদারের করার সুপারিশ করা হয়। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের (বিএমডি) তথ্য ও কমিউনিটি সেন্সর যুক্ত করে একটি ‘বাংলাদেশ তাপ সতর্কতা’ অ্যাপ চালু করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল পর্যবেক্ষণের জন্য একটি জাতীয় তাপ সূচক প্রণয়নের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।