গৌরীপুরে শ্যালকের টাকায় দুলাভাই, দুলাভাইয়ের টাকায় শ্যালকের নির্বাচন!
Printed Edition
সাজ্জাতুল ইসলাম ময়মনসিংহ অফিস
ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে ব্যতিক্রমধর্মী এক আর্থিক চিত্র। এখানে এক প্রার্থী শ্যালকের ধার করা টাকায় নির্বাচনে নেমেছেন, আবার আরেক প্রার্থী বোন জামাইয়ের অর্থসহায়তায় শুরু করেছেন প্রচার-প্রচারণা। বিষয়টি মংমনসিংহসহ সারা দেশে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ ফজলুর রহমান হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, তার নিজস্ব ব্যবসা থেকে বার্ষিক আয় পাঁচ লাখ টাকা। তবে নির্বাচনী ব্যয়ের বড় অংশ আসছে আত্মীয়স্বজনের ধার ও দান থেকে। এর মধ্যে তারাকান্দা উপজেলার শ্যালক মাসুদ রানার কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা এবং শ্যামল সাইদুল ইসলামের কাছ থেকে আরো পাঁচ লাখ টাকা ধার নেয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া বড় ভাইসহ অন্যান্য আত্মীয়ের কাছ থেকে স্বেচ্ছাপ্রণোদিত দান হিসেবে আরো প্রায় ১৫ লাখ টাকা পাওয়ার সম্ভাবনার কথাও হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে।
সম্পদ বিবরণীতে দেখা যায়, ফজলুর রহমানের রয়েছে ২৪ শতাংশ ভিটাবাড়ি, এক দশমিক ২০ একর চাষযোগ্য জমি এবং দৌলতপুর এলাকায় একটি হাফ বিল্ডিং ও একটি ছাদ করা ভবন। এসব সম্পদের মূল্য ১৩ লাখ টাকার বেশি। তবে তার নামে কোনো ব্যাংক আমানত নেই।
অন্য দিকে বাসদ দলের কাঁচি প্রতীকের প্রার্থী এ কে এম আরিফুল হাসান মূলত বোন জামাইয়ের সহায়তায় নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন, কেন্দুয়ার বোনজামাই দেলোয়ার হোসেন তার প্রচারণার জন্য ৩০ হাজার টাকা দিয়েছেন। আরিফুল হাসানের প্রধান আয়ের উৎস টিউশনি, যা থেকে বার্ষিক আয় এক লাখ টাকা। আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছ থেকে ছোট অঙ্কের স্বেচ্ছাপ্রণোদিত দানের কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন। তার কোনো স্থাবর সম্পত্তি নেই। ব্যাংকে জমা রয়েছে মাত্র ৭০৯ টাকা। হলফনামা অনুযায়ী তার মোট বার্ষিক আয় তিন লাখ ১০ হাজার টাকা এবং ব্যয় এক লাখ ৭০ হাজার টাকা।
এ আসনে প্রচার-প্রচারণায় আরো সক্রিয় রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত আহ্বায়ক আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরণ এবং জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী উপজেলা আমির মাওলানা বদরুজ্জামান। উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, গৌরীপুর উপজেলায় মোট ভোটার দুই লাখ ৯৪ হাজার ৬০৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৪৮ হাজার ৪৬৯ জন এবং নারী ভোটার এক লাখ ৪৬ হাজার ১৩৯ জন।