শহীদ ওসমান হাদি স্মরণে ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবের নাগরিক শোকসভা
Printed Edition
ঝালকাঠি থেকে প্রতিনিধি
আততায়ীর গুলিতে নিহত ইনকিলাব মঞ্চ ও ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির স্মরণে ঝালকাঠিতে নাগরিক শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত রোববার সন্ধ্যায় ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবের কাজী খলিলুর রহমান মিলনায়তনে ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে এ শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ওসমান হাদির সহপাঠীরা, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।
শোকসভায় ওসমান হাদির জীবন, রাজনৈতিক দর্শন, ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রচিন্তা, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং সাংস্কৃতিক ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে তার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
ঝালকাঠি জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান স্মৃতিচারণ করে বলেন, ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানে ১৬ জুলাই থেকে যখন ব্যাপকভাবে আন্দোলন শুরু হয়েছে, তখন কয়েকজনের নামের সাথে ওসমান হাদির নাম ততটা আসেনি। তিনি আলোচনায় আসেন তিন ও চার আগস্ট শাহাবাগে একটি স্লোগানে। লাফিয়ে লাফিয়ে উদ্দীপ্ত জাওয়ানের মতো বলতে শুনেছিলাম দিল্লি না ঢাকা। সেই স্লোগান থেকেই আমি তাকে প্রথম চিনেছি। এরপর ৫ আগস্টের পটভূমি পরিবর্তনের পরে বিভিন্ন টকশো ও আলোচনায় তার কথাবার্তা অসংখ্যবার শুনেছি। এখনো পুরনো রেকর্ডগুলো শুনি।
জেলা প্রশাসক মো: মোমিন উদ্দিন বলেন, ওসমান হাদি ছিলেন চিন্তাশীল একজন মানুষ, যিনি সময়ের অনেক আগেই কিছু বিষয় বুঝতে পেরেছিলেন।
শোকসভায় আরো বক্তব্য রাখেন ঝালকাঠি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, সিভিল সার্জন ডা: মুহাম্মদ হুমায়ুন কবির, ঝালকাঠি সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর শহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান, পৌর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট নাসিমুল হাসান, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের জেলা শাখার সভাপতি এনামুল হাসান, জেলা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট রেজাউল হক আজিম, শহীদ ওসমান হাদির সহপাঠী সাংবাদিক ইসমাঈল মুসাফিরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা। প্রেস ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল-আমিন তালুকদার সভাপতিত্ব করেন। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আককাস সিকদার।