তাড়াশে আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে ৫ কোটি টাকার শিক্ষাবাণিজ্যের অভিযোগ

২ প্রতিবন্ধী স্কুলে তালা, একটিতে হাঁসের খামার

লুৎফর রহমান, তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ)
Printed Edition
bangla-4
প্রতিবন্ধী স্কুল ঘরকে হাঁসের খামার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে : নয়া দিগন্ত

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় দু’টি প্রতিবন্ধী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট নেতাদের বিরুদ্ধে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও শিক্ষাবাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। একটিতে দীর্ঘদিন ধরে তালা ঝুলছে, অপরটিতে স্কুল বন্ধ করে গড়ে তোলা হয়েছে হাঁসের খামার। চাকরি পেতে লাখ লাখ টাকা ‘ডোনেশন’ দিয়ে নিয়োগ পাওয়া শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারী এখন বেকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৭ সালে তাড়াশ উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হক ও তার স্ত্রী তাহিরা হক পৌর সদরের কাউরাইল বাজার এলাকায় ‘তাহিরা-হক প্রতিবন্ধী বিদ্যানিকেতন’ প্রতিষ্ঠা করেন। এমপিও সহজে পাওয়া যাবে, এমন আশ্বাস দিয়ে তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা করে নিয়ে শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, নামমাত্র ম্যানেজিং কমিটি গঠন করে এমপিওর নামে প্রায় চার কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে গেটে তালা ঝুলছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষক জানান, টাকা ফেরতের আশ্বাস দেয়া হলেও বাস্তবে কেউ কিছু পাননি। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহাদৎ হোসেন বলেন, এমপিও হলে ফিরবেন। ডোনেশনের বিষয়ে তিনি প্রতিষ্ঠাতাদের দায়ী করেন।

এদিকে একই উপজেলায় ২০১৫ সালে সগুনা ইউনিয়নের কামারশোন গ্রামে ‘চলনবিল বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠা করেন সগুনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জহুরুল হক শেখ। শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, নিয়োগবাণিজ্যের মাধ্যমে তিনি প্রায় এক কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। বর্তমানে স্কুলটি বন্ধ এবং সেখানে হাঁসের খামার চালু রয়েছে। প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান বলেন, তিনিও টাকা দিয়ে চাকরি নিয়েছিলেন। স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন বেকার।

জহুরুল হকের দাবি, সরকার এমপিও না দেয়ায় প্রতিষ্ঠান চালানো সম্ভব হয়নি। কিছু টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান। তবে পূর্ণ হিসাব দিতে তিনি অপারগতা জানান।

সরেজমিন অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, দু’টি প্রতিষ্ঠানই সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় বা প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের তালিকাভুক্ত নয়। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও সমাজসেবা অফিসেও এসব প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন সংক্রান্ত কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান খান জানান, তিনি সদ্য যোগদান করায় বিস্তারিত তথ্য যাচাই করে পদক্ষেপ নেবেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষক-কর্মচারীরা দ্রুত তদন্ত, অর্থ ফেরত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।