ভেনিজুয়েলায় মার্কিন হস্তক্ষেপ শ্যাভেজ থেকে মাদুরো
আনাদোলু এজেন্সির বিশ্লেষণ
Printed Edition
২০২৬ সালের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ ভেনিজুয়েলাকে ঘিরে বৈশ্বিক রাজনীতিতে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অভিযানের পর ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নেয়ার ঘোষণা দেয় ওয়াশিংটন। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নেবে। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হস্তক্ষেপ আকস্মিক নয়; এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ঐতিহাসিক ও ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। ১৯৯৯ সালে হুগো শ্যাভেজ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র-ভেনিজুয়েলা সম্পর্কে টানাপড়েন শুরু হয়। শ্যাভেজের সমাজতান্ত্রিক ও মার্কিন-বিরোধী নীতি, ইরাক ও আফগানিস্তানে মার্কিন যুদ্ধের সমালোচনা এবং চীন-রাশিয়ার সাথে ঘনিষ্ঠতা ওয়াশিংটনকে অস্বস্তিতে ফেলে। ২০০২ সালে শ্যাভেজবিরোধী অভ্যুত্থানচেষ্টার পেছনে মার্কিন সমর্থনের অভিযোগও সম্পর্ককে আরো তিক্ত করে তোলে।
শ্যাভেজের মৃত্যুর পর ২০১৩ সালে নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতায় আসেন। তার আমলে নিষেধাজ্ঞা আরো কঠোর হয়। ২০১৯ সালে ট্রাম্প প্রশাসন মাদুরোকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি না দিয়ে বিরোধী নেতা হুয়ান গুয়াইদোকে সমর্থন জানায়। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে ট্রাম্প মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচার ও অবৈধ অভিবাসন ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নেন এবং তার মাথার ওপর পুরস্কারও ঘোষণা করেন। ভূরাজনৈতিকভাবে ভেনিজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম প্রমাণিত তেল মজুদ, বিপুল গ্যাস, সোনা ও অন্যান্য খনিজসম্পদ। ২০২৫ সালের শেষ দিকে প্রকাশিত মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা নথিতে পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ প্রভাব বজায় রাখার কথা বলা হয়, যা মনরো নীতির আধুনিক রূপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ঘরোয়া রাজনীতিতেও এই হস্তক্ষেপের প্রভাব রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আসন্ন কংগ্রেস নির্বাচন, অবৈধ অভিবাসন ইস্যুতে কঠোর অবস্থান এবং অভ্যন্তরীণ বিতর্ক থেকে দৃষ্টি সরানো- সব মিলিয়ে ভেনিজুয়েলা অভিযান ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে এই হস্তক্ষেপ সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন ও বলপ্রয়োগ নিষেধাজ্ঞার স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে সমালোচনা উঠেছে। তবে ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় অনেকের মতে, ভেনিজুয়েলায় যা ঘটছে- তা যুক্তরাষ্ট্রের লাতিন আমেরিকা নীতিরই আরেক অধ্যায়।