লক্ষ্মীপুরে সয়াবিন ক্ষেতে পোকার ভয়াবহ আক্রমণ, দিশেহারা চরাঞ্চলের কৃষক
Printed Edition
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
চলতি মৌসুমে লক্ষ্মীপুর জেলায় সয়াবিন চাষ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে রায়পুর উপজেলার উপকূলীয় চরাঞ্চলে ক্ষতিকর পোকার আক্রমণে একের পর এক ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বারবার কীটনাশক প্রয়োগ করেও প্রতিকার না পেয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। সম্ভাব্য উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় তাদের কপালে গভীর চিন্তার ভাঁজ দেখা দিয়েছে।
উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের চরকাছিয়া এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সয়াবিন গাছের কচি পাতায় পোকার ব্যাপক আক্রমণ চলছে। পোকা পাতার রস শুষে নেয়ায় সবুজ গাছ দ্রুত শুকিয়ে তামাটে, বাদামি ও কালচে বর্ণ ধারণ করছে। অনেক গাছে স্বাভাবিকভাবে ফুল আসছে না। এতে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কায় কৃষকদের মধ্যে হতাশা ছড়িয়ে পড়ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অনেকে ঋণ নিয়ে সয়াবিনের আবাদ করেছেন। স্থানীয় কৃষক আলা উদ্দিন জানান, ৮ শতাংশ জমিতে সয়াবিন চাষ করতে তার প্রায় এক লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এ জন্য তাকে এনজিও ও মহাজনের কাছ থেকে সুদে টাকা নিতে হয়েছে। তিনি বলেন, দেড় হাজার টাকার কীটনাশক প্রয়োগ করেও কোনো সুফল মিলছে না। একই এলাকার কৃষক আবুল মিয়া জানান, গত বছর সয়াবিন চাষে লাভ হলেও এবার লোকসানের আশঙ্কায় আছি।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর রায়পুর উপজেলায় ৮ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে সয়াবিন চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ হাজার মেট্রিক টন। তবে স্থানীয় কৃষকদের দাবি, শুধু চরাঞ্চলেই প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে সয়াবিনের আবাদ হয়েছে। তাদের মতে, সরকারি হিসাব বাস্তব পরিস্থিতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এ অবস্থায় নির্ধারিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
কৃষকদের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা তারা পাচ্ছেন না। তাদের দাবি, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠে যান না এবং পোকার আক্রমণ মোকাবেলায় কার্যকর পরামর্শও দেন না। যদিও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করছেন। তিনি পোকার আক্রমণের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়া এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ।
একাধিক সয়াবিন চাষি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এবার সয়াবিন উৎপাদনে বড় ধরনের ধস নামতে পারে। তারা মনে করেন, মাঠপর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ, রোগ ও পোকা দমনে কার্যকর নির্দেশনা এবং সময়োপযোগী সহায়তা না দিলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। এতে মেঘনা নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলের হাজারো কৃষক চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়বেন।
কৃষকদের দাবি, এ অঞ্চলে সয়াবিন উৎপাদনের যে সুনাম গড়ে উঠেছে, তা ধরে রাখতে এখনই জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।