আদর্শ সমাজ গঠনে ইমাম মুয়াজ্জিনদের ভূমিকা অপরিসীম : গয়েশ্বর রায়

Printed Edition

ঢাকা জেলা প্রতিনিধি

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৩ আসনের এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, সমাজে নৈতিকতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মানবিক শিক্ষাবিস্তারে ইমাম-মুয়াজ্জিনরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। একটি নৈতিক ও আদর্শ সমাজ গঠনে তাদের অবদান অপরিসীম। ইমাম-মুয়াজ্জিনদের কল্যাণ ও জীবনমান উন্নয়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

গতকাল সকালে কেরানীগঞ্জ উপজেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে উপজেলা অডিটোরিয়াম হলরুমে আয়োজিত ‘নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়নে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম (৮ম পর্যায়)’ শীর্ষক শিক্ষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আমাদের দেশে আলিয়া মাদরাসার তুলনায় কওমি মাদরাসার সংখ্যা বেশি। সরকারের কাছে কিছু চাওয়ার আগে নিজের সামর্থ্য জানতে হবে। ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার ও সমাজে নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ইতিবাচক ভূমিকা থাকা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য শুধু সার্টিফিকেট অর্জন নয়, বরং একজন মানুষকে নৈতিকভাবে গড়ে তোলা। মসজিদভিত্তিক এই শিক্ষা কার্যক্রম সেই পথেই এগিয়ে যাচ্ছে। শিশুদের ছোটবেলা থেকেই সত্য, ন্যায়, মানবতা ও সুশিক্ষার আলোয় গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে সমাজে মূল্যবোধের যে সঙ্কট দেখা দিচ্ছে, তা দূর করতে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার বিকল্প নেই। শিক্ষকরাই জাতি গঠনের কারিগর। শিশুদের শুধু কুরআন-হাদিস শিক্ষা নয়, আদব-আখলাক, শিষ্টাচার, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষাও দিতে হবে।

গয়েশ্বর রায় বলেন, সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় ইমাম-মুয়াজ্জিনরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। তাই তাদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং সম্মানজনক জীবনযাপন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উমর ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ আলোচক হিসেবে ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ঢাকা বিভাগীয় পরিচালক মো: মোস্তাফিজুর রহমান। এ সময় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোজাদ্দেদ আলী বাবু, বিভিন্ন মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন, মসজিদভিত্তিক শিক্ষাকার্যক্রমের শিক্ষক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন।