সৈয়দপুরে রেলের জলাধার ভরাট করে প্লট বিক্রি

Printed Edition
bangla-1
সৈয়দপুরের গোলাহাট এলাকায় রেলওয়ের জমি প্লট আকারে ভরাট করা হচ্ছে : নয়া দিগন্ত

মো: জাকির হোসেন সৈয়দপুর (নীলফামারী)

নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের গোলাহাট এলাকায় রেলওয়ের একটি বিশাল জলাধার দখল ও ভরাটের কবলে পড়ে বিলুপ্তির পথে। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এ জলাধারটি দীর্ঘদিন ধরে আশপাশের কয়েক হাজার মানুষের পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে এলেও এখন সেটি অবৈধভাবে ভরাট করে আবাসিক প্লট হিসেবে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এতে পুরো এলাকায় জলাবদ্ধতা ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী একটি চক্র লিজ নেয়ার অজুহাতে জলাধারটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ধাপে ধাপে মাটি ফেলে ভরাট করছে। পরে সেখানে আধাপাকা ও পাকা স্থাপনা নির্মাণ করে প্লট আকারে বিক্রি করে দিচ্ছে। সরেজমিন গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দেখা যায়, গোলাহাট ১ নম্বর অবাঙালি ক্যাম্পসংলগ্ন খানকাহ মসজিদের সামনে অবস্থিত জলাধারটির দুই পাশ থেকেই মাটি ফেলে ভরাট চলছে। এরই মধ্যে সেখানে ১০ থেকে ১২টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে, যেগুলোর কিছু বিক্রি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। নতুন করে আরো অংশ টিন দিয়ে ঘিরে ভবিষ্যতে ঘর নির্মাণ ও বিক্রির প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, জলাধারটি গোলাহাট রেল কলোনিসহ আশপাশের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার পানি নিষ্কাশনের একমাত্র ভরসা। বর্ষা মৌসুমে এলাকার ড্রেনের পানি এই জলাধারে এসে জমা হয়। কিন্তু ভরাট করে ফেলার ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং জলাবদ্ধতা সৃষ্টির মতো অবস্থা তৈরি হচ্ছে। এরই মধ্যে কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতার লক্ষণও দেখা দিয়েছে বলে তারা জানান।

এলাকাবাসী আরো জানান, অতীতে একাধিক অগ্নিকাণ্ডের সময় ফায়ার সার্ভিস এই জলাধার থেকেই পানি সংগ্রহ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে। ফলে জলাধারটি পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে গেলে অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমেও বড় ধরনের সঙ্কট দেখা দেবে।

অভিযোগ উঠেছে, মাহমুদ নামের এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে জলাধারটি লিজ নিয়ে অবৈধভাবে দখলে রেখে ভরাট করে প্লট আকারে বিক্রি করছেন। এতে এলাকাবাসী বাধা দিলে তাদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করছেন তারা।

এ পরিস্থিতিতে এলাকাবাসী গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্যসহ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে অবিলম্বে জলাধার ভরাট বন্ধ, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি বিভাগের (কানুনগো) কর্মকর্তা মহসিন আলী বলেন, ‘তদন্তে গিয়ে দেখা গেছে, জলাধারের জায়গায় যে স্থাপনাগুলো গড়ে তোলা হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ অবৈধ। পুকুর লিজ নিয়ে কেউ তা ভরাট করে বিক্রি করতে পারে না।’ তিনি জানান, বিষয়টি যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং এ বিষয়ে এলাকাবাসীকে পাকশী ভূ-সম্পত্তি বিভাগে লিখিত আবেদন করতেও বলা হয়েছে।

নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, ‘জলাধারটি এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি দখল করে প্লট আকারে বিক্রি করা সম্পূর্ণ অবৈধ। দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সৈয়দপুর রেলওয়ে পূর্ত বিভাগের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী তহিদুল ইসলাম বলেন, ‘রেলের জমি কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এভাবে প্লট আকারে বিক্রি করা গুরুতর অপরাধ। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

তবে অভিযুক্ত মাহমুদ দাবি করছেন, তিনি বৈধভাবে জলাধারটি লিজ নিয়েছেন। যদিও ভরাট করে প্লট বিক্রির বিষয়ে তিনি সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে অচিরেই জলাধারটি পুরোপুরি বিলুপ্ত হবে। এতে কয়েক হাজার মানুষ জলাবদ্ধতা, পরিবেশগত ক্ষতি ও অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিসহ নানা দুর্ভোগে পড়বে। তাই, তারা জরুরি ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।